logo

ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে লালা পড়া কি স্বাভাবিক

ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে লালা পড়া কি স্বাভাবিক
ছবি: মেডিকাল নিউজ টুডে

ঘুম থেকে উঠেই যদি দেখেন বালিশের একপাশ ভিজে গেছে আর মুখের পাশে লালা লেগে আছে, তাহলে বিষয়টি অনেকের জন্য বিব্রতকর লাগতে পারে। বিশেষ করে কারও পাশে ঘুমালে যদি এমনটা হয় তাহলে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মাঝে ঘুমের সময় লালা পড়া একটি সাধারণ বিষয়। আগের রাতে অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া করা, বেশি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়া বা গভীর ঘুমের কারণেও এমনটা হতে পারে।

কিন্তু যদি প্রায় প্রতিদিনই ঘুম থেকে উঠে দেখেন বালিশ ভিজে গেছে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। চিকিৎসকদের মতে, এটি কখনও কখনও ঘুমজনিত কোনো সমস্যা বা স্নায়ুতন্ত্রের রোগের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে।

কেন ঘুমের সময় লালা পড়ে

ঘুমের সময় লালা পড়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে কিছু কারণ খুব সাধারণ, আবার কিছু ক্ষেত্রে তা স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

স্লিপ অ্যাপনিয়া

ঘুমের সময় বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যাকে স্লিপ অ্যাপনিয়া বলে। এতে রাতে একাধিকবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে, কখনও তা এক মিনিট পর্যন্ত হয়ে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে অনেকেই পর্যাপ্ত বাতাস পাওয়ার জন্য মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে শুরু করেন। এতে মুখের ভেতরে লালা জমে যায় এবং তা বাইরে বেরিয়ে আসে।

প্রথমেই বুঝতে হবে, স্লিপ অ্যাপনিয়া নিজেই একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। এর লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জোরে নাক ডাকা, সকালে মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা ঘুমের মধ্যেই ঘন ঘন লালা পড়া। চিকিৎসা না করলে এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকির মতো সমস্যা বাড়াতে পারে।

মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া

অনেক মানুষ স্বাভাবিকভাবেই মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। কারও নাকের পথ খুব সরু হলে, নাকের ভেতরের মাংস বেড়ে গেলে বা চোয়ালের গঠনে সমস্যা থাকলে এমনটা হয়ে তাকে।

এ ছাড়া নাকের ভেতরের পাতলা দেয়াল বেঁকে গেলে বা অ্যাডিনয়েড বড় হয়ে গেলেও নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। এতে ঘুমের সময় মুখ খুলে থাকে এবং লালা পড়তে পারে।

এ ধরনের সমস্যায় প্রয়োজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।

অ্যাসিড রিফ্লাক্স

পেটে থাকা অ্যাসিড বা খাবার উল্টো দিকে উঠে খাদ্যনালিতে চলে এলে তাকে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলে। এতে মুখে তেতো স্বাদ, বুক জ্বালা বা খাবার উঠে আসার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এই অবস্থায় শরীর অতিরিক্ত লালা তৈরি করতে পারে, সব সময় এমন হবে, তা না। এর ফলে ঘুমের সময় লালা পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

নাক বন্ধ থাকা

সর্দি, অ্যালার্জি, সাইনাসের সংক্রমণ, টনসিলের প্রদাহ বা গলাব্যথার মতো সমস্যায় অনেক সময় নাক বন্ধ হয়ে যায়। তখন মানুষ মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে বাধ্য হয় এবং ঘুমের মধ্যে এমন হলে লালা পড়তে পারে।

এ ছাড়া শরীর অনেক সময় ব্যাকটেরিয়া দূর করার জন্য বেশি লালা তৈরি করে, যা ঘুমের সময় বাইরে চলে আসতে পারে।

দাঁত ও মুখের সমস্যা

দাঁত ঘষা, দাঁতের অবস্থান ঠিক না থাকা বা উপরের ও নিচের দাঁতের সাড়িতে মিল ঠিক না হলে ঘুমের সময় মুখ ঠিকভাবে বন্ধ থাকে না। এর ফলেও লালা বাইরে পড়তে পারে।

এ ক্ষেত্রে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উপকারী হতে পারে।

ঘুমের ভঙ্গি

যারা পাশ ফিরে বা উপুড় হয়ে ঘুমান, তাদের ক্ষেত্রে লালা পড়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ মাধ্যাকর্ষণের কারণে অতিরিক্ত লালা বালিশের দিকে যায়। অন্যদিকে চিত হয়ে ঘুমালে লালা সাধারণত মুখের ভেতরেই থাকে বা গলার দিকে চলে যায়।

তবে যাদের গিলতে সমস্যা হয়, তাদের ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ দুর্বল পেশির কারণে লালা কখনও শ্বাসনালিতে চলে যেতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার

মাঝে মাঝে লালা পড়া সাধারণ বিষয় হলেও যদি এটি নিয়মিত হয় বা নতুন করে শুরু হয়, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ সাধারণত কয়েকটি বিষয় জানতে চান, যেমন-

  • রাতে নাক ডাকা হয় কি না
  • সকালে মাথাব্যথা বা মুখ শুকিয়ে যাওয়া হয় কি না
  • দাঁত ঘষার অভ্যাস আছে কি না
  • দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব থাকে কি না

প্রয়োজন হলে ঘুমের পরীক্ষা বা অন্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

ঘুমের সময় লালা পড়া অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক একটি ঘটনা। বিশেষ করে পাশ ফিরে ঘুমানো বা সর্দি-কাশির সময় এটি হতে পারে।

তবে যদি এটি নিয়মিত ঘটে বা অন্য উপসর্গের সঙ্গে দেখা যায়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ কখনও কখনও এটি স্লিপ অ্যাপনিয়া, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা অন্য স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

তাই দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনে ‘Drooling into your pillow could be a sign of a more serious issue’ শিরোনামে প্রকাশিত আর্টিকেলের অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন সারিকা সাইয়ারা।