Advertisement

কোন রক্তের গ্রুপে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি, জানুন গবেষণা কী বলছে

এশিয়া পোস্ট নিউজ
কোন রক্তের গ্রুপে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি, জানুন গবেষণা কী বলছে
ছবি : সংগৃহীত

স্ট্রোক বিশ্বের অন্যতম গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা। সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা এবং অনিয়মিত জীবনযাপনকে স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে ধরা হয়। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তের গ্রুপও স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে কিছুটা সম্পর্কিত হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, রক্তের গ্রুপ একা কোনো ব্যক্তির স্ট্রোক হবে কি না, তা নির্ধারণ করে না। এটি কেবল অনেকগুলোর মধ্যে একটি ঝুঁকির উপাদান। তাই কারও রক্তের গ্রুপ যদি ঝুঁকিপূর্ণও হয়, তবু স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

কোন রক্তের গ্রুপে ঝুঁকি বেশি?

২০২২ সালে প্রকাশিত একটি বড় গবেষণায় প্রায় ১৭ হাজার স্ট্রোক রোগী এবং প্রায় ৬ লাখ সুস্থ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, যাদের রক্তের গ্রুপ এ, তাদের ৬০ বছরের আগে ইসকেমিক স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি ছিল। অন্যদিকে ও গ্রুপের মানুষের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রায় ১২ শতাংশ কম দেখা গেছে। বি গ্রুপের ক্ষেত্রেও সামান্য বেশি ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

কেন এমন হতে পারে?

গবেষকদের ধারণা, বিষয়টি রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এ গ্রুপের মানুষের শরীরে এমন কিছু জৈবিক বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে, যা রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা কিছুটা বাড়ায়। এর ফলে মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে ইসকেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে। তবে এই সম্পর্কের সঠিক কারণ জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

সব গবেষণার ফল কি একই?

না। সব গবেষণায় একই ফল পাওয়া যায়নি। ২০১৪ সালের একটি বড় গবেষণায় এ বা বি গ্রুপের সঙ্গে স্ট্রোকের স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে এবি গ্রুপের মানুষের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি কিছুটা বেশি দেখা গেছে। এ কারণে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, রক্তের গ্রুপ ও স্ট্রোকের সম্পর্ক নিয়ে এখনও আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

তাহলে কি এ গ্রুপের মানুষের দুশ্চিন্তা করা উচিত?

বিশেষজ্ঞদের উত্তর হলো, না।

রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কিন্তু স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই শুধু রক্তের গ্রুপ জেনে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ছেড়ে দেওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা ও অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত রাখা।

স্ট্রোকের সতর্ক সংকেত

নিচের লক্ষণগুলোর কোনোটি হঠাৎ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

  • মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া
  • এক হাত বা এক পা দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া
  • কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারা
  • হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
  • তীব্র মাথাব্যথা
  • ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা

রক্তের গ্রুপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকির মধ্যে কিছু সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে এ গ্রুপের মানুষের ক্ষেত্রে অল্প বয়সে ইসকেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি সামান্য বেশি হতে পারে। তবে এই ঝুঁকি তুলনামূলক ছোট এবং এটি একা স্ট্রোকের কারণ নয়। তাই রক্তের গ্রুপ নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক সক্রিয়তার মতো নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিষয়গুলোর দিকে গুরুত্ব দেওয়াই স্ট্রোক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে