logo
Advertisement

ডায়াবেটিসে কাঁচা পেঁপে নাকি পাকা পেঁপে, কোনটা বেশি উপকারী

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ডায়াবেটিসে কাঁচা পেঁপে নাকি পাকা পেঁপে, কোনটা বেশি উপকারী
কাঁচা ও পাকা পেঁপে দুটিই পুষ্টিকর।

পেঁপে পুষ্টিকর একটি ফল। এতে রয়েছে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং হজমে সহায়ক এনজাইম। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, কাঁচা পেঁপে নাকি পাকা পেঁপে, কোনটি খেলে রক্তে শর্করার ওপর কম প্রভাব পড়ে?

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা ও পাকা পেঁপে দুটিই স্বাস্থ্যকর। তবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে কাঁচা পেঁপে কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে। কারণ এতে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ কম এবং খাদ্যআঁশ বেশি থাকে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ডায়াবেটিসে পাকা পেঁপে খাওয়া যাবে না। সঠিক পরিমাণে খেলে পাকা পেঁপেও স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

কেন কাঁচা পেঁপে ভালো বলে মনে করা হয়?

কাঁচা পেঁপেতে প্রাকৃতিক চিনি তুলনামূলক কম থাকে। পাশাপাশি এতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকে, যা খাবার হজম ধীর করে এবং গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। ফলে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

এ কারণে কাঁচা পেঁপে তরকারি, স্যুপ বা সালাদ হিসেবে খাওয়া ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকের জন্য ভালো একটি বিকল্প হতে পারে।

পাকা পেঁপে কি খাওয়া যাবে?

অবশ্যই। পাকা পেঁপেতে প্রাকৃতিক চিনি কাঁচা পেঁপের তুলনায় বেশি থাকে। তবু এটি উচ্চ গ্লাইসেমিক ফল নয়। এতে থাকা খাদ্যআঁশ, ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের জন্য উপকারী। তাই পরিমিত পরিমাণে খেলে অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগীর জন্য এটি নিরাপদ হতে পারে।

কতটা খাওয়া উচিত?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবারে বেশি পরিমাণ পাকা পেঁপে না খেয়ে ছোট পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

আরও ভালো হয় যদি পেঁপের সঙ্গে বাদাম, দই বা অন্য কোনো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যায়। এতে রক্তে শর্করা তুলনামূলক ধীরে বাড়তে পারে। ফলের জুসের বদলে সম্পূর্ণ ফল খাওয়াই বেশি উপকারী।

পেঁপের আরও যেসব উপকারিতা রয়েছে

পেঁপে শুধু রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেই নয়, আরও নানা কারণে উপকারী। যেমন-

  • হজমে সাহায্য করে
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে
  • রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে
  • ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস
  • হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে

যাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন

  • অতিপাকা পেঁপে বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।
  • পেঁপের জুস বা চিনি মিশিয়ে তৈরি পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো।
  • যাদের রক্তে শর্করা বারবার ওঠানামা করে, তারা খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
  • গর্ভাবস্থায় কাঁচা বা আধাপাকা পেঁপে খাওয়ার বিষয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য কাঁচা পেঁপে সাধারণত রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি উপকারী বলে মনে করা হয়। তবে পাকা পেঁপেও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। পরিমিত পরিমাণে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি খাওয়া যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফলের ধরন নয়, বরং মোট খাদ্যাভ্যাস, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত রক্তে শর্করা পর্যবেক্ষণ।

সূত্র: এনডিটিভি