logo

রাতে ঘুমের মধ্যে ঘামা ক্যানসারের লক্ষণ নয় তো

রাতে ঘুমের মধ্যে ঘামা ক্যানসারের লক্ষণ নয় তো

সাধারণত ঘামের মাধ্যমেই মানুষের শরীর নিজের তাপমাত্রা ঠিক রাখে। তাই শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে প্রাকৃতিকভাবেই আমরা ঘামি। এছাড়া অন্যান্য শারীরিক সমস্যা, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য আরও অনেক বিষয়েও মানুষের ঘামার সঙ্গে জড়িত।

তবে ঘামের এই সাধারণ প্রক্রিয়াই আপনার শরীরের ক্যানসার বাসা বেঁধেছে কি না তার বড় একটি লক্ষণ হতে পারে। রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে ঘামা মূলত ক্যানসারের একটি প্রাথমিক লক্ষণ। 

তবে মনে রাখবেন, যদিও রাতে ঘাম হওয়া ক্যানসারের একটি সাধারণ লক্ষণ, তবে ক্যানসার হওয়ার পেছনে আরও বেশ কিছু কারণ দায়ী থাকতে পারে। এছাড়াও রাতের ঘামার পেছনে রয়েছে কার্সিনয়েড টিউমার, লিউকেমিয়া, ফিস্ফোমা, হাড়ের ক্যানসার, লিভার ক্যানসার ও মেসোথেলিওমার মতো আরও অনেক সমস্যা।

ক্যানসারের কারণেই যে রাতে ঘুমের মধ্যে ঘাম হয়, কোনো গবেষণায় এমন কোনো প্রমাণ স্পষ্ট নয়। হতে পারে শরীর ক্যানসার বা অন্য যে কোনো সমস্যার সঙ্গে লড়াই করার চেষ্টা করছে। এছাড়া শরীরের হরমোন পরিবর্তনের কারণেও রাতে ঘাম হতে পারে।

গবেষণা বলে, ক্যানসার অনেক সময় জ্বর সৃষ্টি করে। আর এ সময় শরীর অতিরিক্ত ঘেমে সেই তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করে। কারণ তখন শরীর ঠান্ডা হওয়ার চেষ্টা করে। কখনো কেমোথেরাপি, হরমোন পরবর্তনকারী ওষুধ এবং মরফিনের মতো ক্যানসার চিকিৎসাও রাতে অতিরিক্ত ঘামের কারণ হতে পারে। 

তবে মনে রাখবেন, ক্যানসারের কারণে যদি রাতে ঘাম হয়, সেক্ষেত্রে ক্যানসারের অন্যান্য লক্ষণগুলো অনুভব করবেন আপনি। আর সেই অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর আসা ও হঠাৎ ওজন কমা।

ক্যানসার ছাড়াও অন্যান্য কিছু কারণে রাতে ঘুমের মধ্যে ঘাম হতে পারে। যেমন, মেয়েদের পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় হরমোনের মাত্রার পরিবর্তন হলে রাতে ঘামের সমস্যা হতে পারে। অন্যদিকে, নারীদের গর্ভাবস্থায় হরমোন এবং শরীরের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। আর শরীরে কিছু ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের (যেমন—যক্ষ্মা ও এন্ডোকার্ডাইটিস) ক্ষেত্রেও রাতে ঘামার সমস্যা হতে পারে।

রাতে অতিরিক্ত ঘামার ক্ষেত্রে, ইডিওপ্যাথিক হাইপারহাইড্রোসিসও একটি কারণ হতে পারে। এটি মূলত এমন একটি অবস্থা যা শরীরে ঘন ঘন মাত্রাতিরিক্ত ঘাম তৈরি করে। আবার অতি সক্রিয় থাইরয়েড বা হাইপারথাইরয়েডিজম, মানসিক চাপ, উদ্বেগের কারণেও রাতে ঘুমের মধ্যে ঘাম হতে পারে।

অন্যান্য কারণের মধ্যে—রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গরম পানীয় পান করা, মদ্যপান, মসলাদার খাবার খাওয়া ইত্যাদি কারণেও ঘুমের মধ্যে ঘাম হতে পারে। তবে নিয়মিত মাত্রাতিরিক্ত ঘাম হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করবেন না।

মনে রাখবেন, বেশিরভাগ মানুষই কখনও না কখনও রাতে ঘাম হওয়ার সমস্যা অনুভব করেন। তবে সাধারণত এতে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয় না। যদি আপনার নিয়মিত রাতে ঘাম হয়, তবে এর পরিণতি নির্ভর করে মূলত এর কারণের ওপর। ক্রমাগত রাতে ঘাম হওয়া হলো আপনার শরীরের একটি সংকেত, যা আপনাকে জানিয়ে দেয় যে বড় কোনো সমস্যা হতে পারে। 

যদি নিয়মিত আপনার রাতে ঘামার সমস্যা দেখা দেয় তবে উপসর্গগুলো নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আপনার রাতে ঘাম হওয়ার কারণ নির্ণয় করতে পারলে এটির চিকিৎসা করা সহজ হবে।

সূত্র :  হেলথ লাইন