Advertisement

বর্ষা এলেই বাড়ে চোখ ওঠার সমস্যা, সাবধান থাকবেন যেভাবে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বর্ষা এলেই বাড়ে চোখ ওঠার সমস্যা, সাবধান থাকবেন যেভাবে
বর্ষাকালে চোখের সামান্য লালভাব, চুলকানি বা অস্বস্তিকেও হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।

বর্ষা মানেই গরম থেকে স্বস্তি, চারপাশে সবুজের সমারোহ আর শীতল আবহাওয়া। তবে এই সময়টিই আবার চোখের বিভিন্ন সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার মৌসুম। বিশেষ করে কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠার সমস্যা বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

প্রতি বছর বর্ষা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চক্ষু বিশেষজ্ঞদের কাছে চোখ লাল হওয়া, অতিরিক্ত পানি পড়া, চুলকানি, জ্বালাপোড়া, চোখ থেকে আঠালো স্রাব বের হওয়া এবং আলোতে অস্বস্তির মতো সমস্যা নিয়ে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। এর সঙ্গে ভাইরাসের সংক্রমণ, ভিড়পূর্ণ পরিবেশে চলাফেরা, দূষিত পানির সংস্পর্শ এবং হাতের অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা মিলিয়ে কনজাংটিভাইটিস খুব দ্রুত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্ক, সব বয়সী মানুষই এ সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকেন।

যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কনজাংটিভাইটিস গুরুতর নয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেরে যায়, তবু এটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চোখের ড্রপ ব্যবহার করলে বা নিজে নিজে ওষুধ খেলে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। এতে রোগ সারতে বেশি সময় লাগতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতায়, প্রতি বর্ষাতেই কনজাংটিভাইটিসের রোগী উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। তবে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা, সঠিক চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে অধিকাংশ রোগীই কোনো দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্য বা সহকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও অনেক কমানো সম্ভব।

তাই বর্ষাকালে চোখের সামান্য লালভাব, চুলকানি বা অস্বস্তিকেও হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। চোখের যত্নে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সুস্থ দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

কেন বর্ষায় চোখ ওঠার প্রকোপ বাড়ে?

বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। পাশাপাশি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সহজে ছড়ানোর মতো পরিবেশ তৈরি হয়। ভেজা হাত দিয়ে চোখে স্পর্শ করা, দূষিত পৃষ্ঠ স্পর্শ করার পর হাত না ধুয়ে চোখে হাত দেওয়া এবং ভিড়ের মধ্যে চলাফেরা করার কারণেও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

এ ছাড়া দূষিত বৃষ্টির পানি বা ধুলাবালির সংস্পর্শে এলে চোখে জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জিও হতে পারে, যা অনেক সময় সংক্রমণের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়।

চোখ ওঠার সাধারণ লক্ষণ

চোখ ওঠার ক্ষেত্রে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায়, সেগুলো হলো-

  • চোখ লাল হয়ে যাওয়া
  • চোখ দিয়ে পানি পড়া
  • চুলকানি বা জ্বালাপোড়া
  • চোখে খচখচে অনুভূতি
  • চোখের পাতা ফুলে যাওয়া
  • চোখ থেকে আঠালো বা পুঁজের মতো স্রাব বের হওয়া
  • আলোতে তাকাতে অস্বস্তি হওয়া
  • বর্ষায় চোখ সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
  • বারবার হাত ধুয়ে নিন

চোখে সংক্রমণ ছড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ হলো অপরিষ্কার হাত। তাই সাবান ও পানি দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। বাইরে থাকলে প্রয়োজনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন।

চোখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন: চোখে চুলকানি বা অস্বস্তি হলেও হাত দিয়ে ঘষবেন না। এতে সংক্রমণ আরও বেড়ে যেতে পারে এবং এক চোখ থেকে অন্য চোখেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ব্যক্তিগত জিনিস ভাগাভাগি করবেন না: তোয়ালে, রুমাল, বালিশের কভার, চোখের প্রসাধনী বা কনট্যাক্ট লেন্সের সরঞ্জাম অন্যের সঙ্গে ব্যবহার করবেন না। এতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে।

বৃষ্টিতে ভিজলে চোখ পরিষ্কার করুন: বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরলে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ও চোখ ধুয়ে নিন। এতে চোখে জমে থাকা ধুলাবালি বা দূষিত কণা দূর হতে পারে।

কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারে সতর্ক থাকুন: চোখ লাল হয়ে গেলে বা পানি পড়তে শুরু করলে কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার বন্ধ রাখুন। সংক্রমণ পুরোপুরি ভালো না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আবার লেন্স ব্যবহার করবেন না।

বাইরে গেলে সুরক্ষামূলক চশমা ব্যবহার করুন: বাইরে ধুলাবালি বা বৃষ্টির সময় সানগ্লাস বা সাধারণ চশমা ব্যবহার করলে চোখ কিছুটা সুরক্ষিত থাকে।

চোখ উঠলে কী করবেন?

চোখ উঠলে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড আই ড্রপ ব্যবহার করবেন না। কারণ ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অ্যালার্জিজনিত কনজাঙ্কটিভাইটিসের চিকিৎসা এক নয়। ভুল ওষুধ ব্যবহার করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

চোখ পরিষ্কার রাখতে পরিষ্কার তুলা বা টিস্যু ব্যবহার করুন। ব্যবহৃত টিস্যু সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিন এবং প্রতিবার চোখ পরিষ্কার করার পর হাত ধুয়ে নিন।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

চোখে তীব্র ব্যথা, ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, আলো সহ্য করতে না পারা, প্রচুর পুঁজ বের হওয়া, কয়েক দিন পরও উপসর্গ না কমা এবং কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীর চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

চোখ ওঠা একটি সংক্রামক সমস্যা হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক যত্ন ও চিকিৎসায় কয়েক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন, চোখে অযথা হাত দেবেন না এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বর্ষাকালে সামান্য সতর্কতাই আপনার চোখকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে।

সূত্র: এই সময় অনলাইন