পেটের চর্বি কমাতে যেসব খাবার এড়ানো জরুরি

পেটের চর্বি নিয়ে চিন্তায় আছেন? ভাবছেন কীভাবে এ ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন বা এ থেকে নিজেকে এড়াবেন কীভাবে? উত্তরটা সহজ। সহজ একটি নিয়ম মেনেই আপনি নিজেকে রাখতে পারবেন ফিট।
সি-আর-এ-পি (C-R-A-P : cocktails, refined foods, additives, and preservatives) এমন একটি ডায়েট যেখানে অতিরিক্ত চিনি, ভাজাপোড়া এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে আনা হয় রোজকার খাদ্যতালিকা থেকে। এর ফলে আপনার ওজন যেমন কমা শুরু করবে, তেমনি উপকার পাবে আপনার শরীরের অন্যান্য অঙ্গও।
ভাবছেন এই ডায়েটে কোন খাবারগুলো খাবেন আর কোনগুলো খাবেন না? চিন্তার কোনো কারণ নেই। চলুন জেনে নিই পেটের চর্বি কমাতে এ ডায়েটে কী কী খেতে পারবেন আর কী কী এড়িয়ে যাবেন।
দুগ্ধজাত খাবার (Dairy)
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার নিশ্চিন্তে অনেক বেশি উপকারী। তবে অনেকেই বুঝতে না পেরেই ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতার (Lactose intolerance) সমস্যায় ভোগেন ভোগেন। এ সময় গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দেয়।
এক্ষেত্রে গরুর দুধের বদলে ল্যাকটোজ-ফ্রি অন্যান্য দুধ ব্যবহার করুন এবং চিজ-দই খাওয়া সীমিত করুন।
চিপস
চিপস মূলত ক্ষতিকর হাইড্রোনেটেড তেলে ভাজা হয়ে থাকে। সোডিয়াম বেশি থাকায় শরীরে পানি জমে ও কোলেস্টেরল বাড়ায়। খেয়াল রাখবেন, এগুলো পেটের চর্বি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে।
অথচ এই একটিমাত্র জিনিস বাদ দিলেই ওজন কমাতে পারা অনেকটা সহজ হয়ে যায়।
কোমল পানীয় (Soda)
যে কোনো কোমল পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি থাকায় রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায়। এ ছাড়া এটি ওজন কমানো কঠিন করে তোলে।
তাই এর বিকল্প হিসেবে পানি পান করুন। হালকা মিষ্টি কিছু খেতে মন চাইলে ডাবের পানি পান করতে পারেন।
বেকড খাবার (কেক, পেস্ট্রি)
বেকড খাবাগুলো মূলত রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। এতে চিনি ও প্রিজারভেটিভের পরিমাণও থাকে বেশি, অথচ পুষ্টিগুণ কম।
তাই যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে নিজ দায়িত্বে এসব বেকড খাবার বাদ দিন। দেখবেন দ্রুতই আপনার কোমড়ের মাপ কমা শুরু হয়েছে।
তেলে ভাজা খাবার
ফ্রেঞ্চফ্রাই, ফ্রাইড চিকেন ইত্যাদি তেলে ভাজা খাবার আমাদের অনেকেরই বেশ পছন্দের। তবে এসব খাবার ওজন বাড়ায়, শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায় ও দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
তাই নিজের সুস্থতার জন্য এ ধরনের খাবার রোজকার খাবার তালিকা থেকে বাদ দেয়াই ভালো। কারণ তেলে ভাজা খাবার শুধু ওজন কমানোর জন্য না, আপনার সুস্থতার জন্যেও জরুরি।
প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট
পেটের চর্বি যদি আসলেই কমাতে চান তবে এখনই বাদ দিন প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট খাবারগুলো। যেমন - সাদা পাউরুটি, সাদা ভাত, রুটি-পরোটা ও নুডুলস-পাস্তা ইত্যাদি।
এর পরিবর্তে ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন। এ ধরনের খাবারে ওজন যেমন নিয়ন্ত্রণে থাকে তেমনি খিদাভাবও কমে।
অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম মিষ্টি
অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম মিষ্টি জাতীয় খাবার রক্তে শর্করা বাড়ায়। এতে পেটের চারপাশে চর্বিও জমে দ্রুত। এ ছাড়া বারবার ক্ষুধা লাগার সমস্যা তৈরি হয়।
তাই নিজের ফিটনেস ঠিক রাখতে প্রয়োজনে মধু বা প্রাকৃতিক মিষ্টি ব্যবহার করুন। তাও সীমিত পরিমাণে।
অ্যালকোহল
অ্যালকোহল শরীরে ডিহাইড্রেশন তৈরি করে। এ ছাড়া পেট ফাঁপা বাড়ায়। আর অ্যালকোহলে ক্যালরি বেশি, পুষ্টিও কম।
তাই অ্যালকোহল পান করার আগে চিন্তা করুন। নিজের শরীর আগে না কি সাময়িক আনন্দ!
হজম ভালো রাখতে কী খাবেন
খেয়াল রাখবেন, কিছু স্বাস্থ্যকর খাবারও পেট ফাঁপা করতে পারেঅ যেমন - বাঁধাকপি, ব্রকলি বা শিম। আবার, উচ্চ ফাইবারের কারণে কিছু মানুষের গ্যাস হতে পারে।
ফারমেন্টেড খাবার (কিমচি, সাওয়ারক্রাউট, কম্বুচা), ওটস (prebiotic সমৃদ্ধ) ও পর্যাপ্ত পানি।
অতিরিক্ত টিপস
- খাবারের ডায়েরি রাখুন (কমপক্ষে ২ সপ্তাহ)
- কোন খাবারে সমস্যা হচ্ছে লক্ষ্য করুন
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা
পেটের মেদ শুধু খাবারের কারণে নয়। আরও কারণ থাকতে পারে। যেমন - স্ট্রেস, ঘুমের অভাব ও হরমোনাল পরিবর্তন।
শুধু ফ্ল্যাট পেটের দিকে মনোযোগ না দিয়ে পুরো শরীরের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুন- আমি কি এনার্জেটিক অনুভব করছি? আমি কি শক্তিশালী? আমি কি মানসিকভাবে ভালো আছি?
মনে রাখবেন, সুস্থ জীবনযাপনই আসল। পেটের মেদ কমা তার একটি অংশ মাত্র।
সূত্র : এইট ফিট