logo

প্রতিদিনের যেসব খাবারে বাড়ছে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি

প্রতিদিনের যেসব খাবারে বাড়ছে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি
ছবি : সংগৃহীত

গলার ডান পাশে বা পিঠের ডান দিকে হঠাৎ তীব্র ব্যথা? অনেক সময় এটি সাধারণ গ্যাসের সমস্যা নয়, বরং পিত্তথলি বা গলব্লাডারে পাথর (Gallstones) হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন এই সমস্যার প্রধান কারণগুলোর একটি। লিভারের ঠিক নিচে থাকা ছোট এই অঙ্গটি হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত খেলে এতে পাথর তৈরির ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণাও বলছে, এই সমস্যাটি এখন বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে। হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং এবং বিভিন্ন মেডিকেল জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যাভ্যাসই পিত্তথলির পাথরের ঝুঁকি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

বেশিরভাগ পিত্তথলির পাথরই ‘কোলেস্টেরল স্টোন’। যখন লিভার অতিরিক্ত কোলেস্টেরল তৈরি করে এবং তা পিত্তরসে ঠিকভাবে দ্রবীভূত হতে পারে না, তখন সেটি জমে গিয়ে পাথরের আকার নেয়।

American Journal of Gastroenterology-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বেশি পরিমাণে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও চিনি খায়, তাদের মধ্যে গলব্লাডার স্টোন হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২০–৩০ শতাংশ বেশি।

যেসব খাবার ঝুঁকি বাড়ায়

অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার: চিনি ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ায়, যা লিভারকে বেশি কোলেস্টেরল উৎপাদনে বাধ্য করে। এতে পিত্তরসে ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং পাথর তৈরির সম্ভাবনা বাড়ে।

পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট: বিস্কুট, কেক, প্যাটিস, সাদা পাউরুটি বা ময়দাজাত খাবারে ফাইবার কম থাকে। এসব খাবার নিয়মিত খেলে হজম ধীর হয়ে যায় এবং পিত্তথলির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার: ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া ও প্যাকেটজাত খাবারে থাকা ট্রান্স ফ্যাট পিত্তরসের গঠন পরিবর্তন করতে পারে। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার খেলে পাথর জমার ঝুঁকি বাড়ে।

বেশি চর্বিযুক্ত লাল মাংস: গরু বা খাসির মাংসে থাকা অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট পিত্তরসে কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট করে। এতে প্রদাহ এবং পাথর তৈরির সম্ভাবনা বাড়ে।

অতিরিক্ত সফট ড্রিংক ও ক্যাফেইন: কার্বোনেটেড পানীয় ও অতিরিক্ত কফি লিভারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। কিছু ক্ষেত্রে এগুলো পিত্তথলির সমস্যাকে আরও জটিল করতে পারে।

ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিত্তথলিতে পাথর প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস।

  • বেশি করে শাকসবজি ও ফলমূল খান
  • ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার (ওটস, বাদাম, ডাল) নিয়মিত রাখুন
  • পরিশোধিত চিনি ও ময়দা কমান
  • ভালো ফ্যাট যেমন অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং শরীর সক্রিয় রাখুন

মনে রাখবেন, পিত্তথলির পাথর একদিনে তৈরি হয় না, এটি ধীরে ধীরে খাদ্যাভ্যাসের ভুলের ফল। শুরুতে উপসর্গ হালকা থাকলেও সময়মতো সতর্ক না হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। তাই আজ থেকেই আপনার দৈনন্দিন খাবারের দিকে নজর দিন, ছোট পরিবর্তনই বড় রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে।

সূত্র: টিভি ৯