Advertisement

‘অনেক স্টার্টআপ শুধু বিনিয়োগ পাওয়ার পেছনে দৌড়ায়’

এশিয়া পোস্ট সাক্ষাৎকার
‘অনেক স্টার্টআপ শুধু বিনিয়োগ পাওয়ার পেছনে দৌড়ায়’
সাকিব হাসান। ছবি: এশিয়া পোস্ট গ্রাফিকস

গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা সাকিব হাসান। জামালপুরের গ্রাম থেকে উঠে আসা এই তরুণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় টিউশনের জমানো টাকা দিয়ে ২০১৮ সালে গড়ে তোলেন ‘সাকিব এগ্রো’।

Advertisement

প্রথাগত মৎস্য চাষে প্রযুক্তি যুক্ত করে মানসম্মত পোনার সংকট দূর করা, ইউটিউবে লক্ষাধিক কৃষককে বিনামূল্যে পরামর্শ দেওয়া এবং সারা দেশে আধুনিক ডেলিভারি ব্যবস্থা গড়ে তুলে তিনি একোয়াকালচার খাতে এনেছেন এক নীরব বিপ্লব। বর্তমানে কৃষি সেবার পাশাপাশি তার ব্যবসা বিস্তৃত হয়েছে আইটি ও রিয়েল এস্টেট খাতেও। কোনো বহুজাতিক বিনিয়োগ ছাড়াই নিজস্ব কৌশলে শূন্য থেকে সফল ব্যবসায়ীতে পরিণত হওয়া এই উদ্যোক্তা সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের বিশেষ আয়োজন ‘বিয়ন্ড বিজনেস’-এ রিয়াজুল করিমের সঞ্চালনায় সাকিব হাসান কথা বলেছেন তার সংগ্রাম, মূলধন সংগ্রহের অভিজ্ঞতা, ‘শাকিব এগ্রো’-এর সাফল্য এবং দেশের কৃষি অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে।

এশিয়া পোস্ট: এগ্রো বিজনেস নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা কি আপনার ছোটবেলা থেকেই ছিল?

সাকিব হাসান: অ্যাগ্রিকালচার সেক্টরে আসার পরিকল্পনা আমার আগে ছিল না। তবে আমার বাবা একজন কৃষক ছিলেন। সেই পারিবারিক প্রেক্ষাপট থেকেই ধীরে ধীরে এই সেক্টরে চলে আসা।

এশিয়া পোস্ট: আপনার স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার যাত্রা জানতে চাই।

সাকিব হাসান: আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা জামালপুরের এক গ্রামে। গ্রামের স্কুল থেকেই আমার শিক্ষাজীবন শুরু। আমার বাবা-মা উচ্চশিক্ষিত না হলেও তারা চেয়েছিলেন আমাকে সুশিক্ষিত করতে। ২০০০-২০০১ সালের দিকে আমি কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হই। সেখানকার শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় মা আমাকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় মা চেয়েছিলেন আমি যেন বৃত্তি পাই। সেই বয়সে আমি বৃত্তির গুরুত্ব বুঝতাম না। তবে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই আমি বাবার ব্যবসায় সময় দেওয়া শুরু করি। একদিকে পড়াশোনা এবং অন্যদিকে অল্প বয়সে বাবার ব্যবসা দেখা— এভাবেই আমার ডাইভার্সিফিকেশন শুরু হয়।

এশিয়া পোস্ট: আপনি কি শেষ পর্যন্ত বৃত্তি পেয়েছিলেন?

সাকিব হাসান: পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষায় আমি বৃত্তি পাইনি। এরপর মা চেয়েছিলেন আমাকে জেলা স্কুলে ভর্তি করাতে, কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। আমি গ্রামের স্কুলেই জেএসসি এবং এসএসসি সম্পন্ন করি। ২০১০ সালের প্রথম জেএসসি ব্যাচ ছিলাম আমি। ফলাফলের দিন মা বেঁচে না থাকলেও তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে আমি বৃত্তি পাব, তাই তিনি আগেভাগেই সবাইকে মিষ্টি খাইয়েছিলেন। ২০১১ সালে আমার মা মারা যান। এরপর এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে আমি ঢাকায় চলে আসি এবং কলেজজীবন শেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করি।

এশিয়া পোস্ট: সাধারণত পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের শিক্ষার্থীরা বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। আপনার মাথায় ব্যবসার চিন্তা কখন এলো?

সাকিব হাসান: চতুর্থ শ্রেণিতে বাবার ব্যবসায় যোগ দিলেও তখন ব্যবসায়ী হওয়ার কথা ভাবিনি। তবে বাবা-মাকে ভালো রাখার প্রবল ইচ্ছা ছিল। ২০১৩ সালে ঢাকায় আসার পর আমি টিউশন বা পার্টটাইম কাজ খুঁজছিলাম। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র হওয়ায় কেউ আমাকে কাজ দিতে চাইত না। এর মাঝে অনেকের সঙ্গে সুসম্পর্ক হওয়ায় কিছু শেয়ার ব্যবসার প্রস্তাব পেলাম। কিন্তু পার্টনারশিপে গিয়ে আমি বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলাম। ২০১৪ সালের শেষের দিকে আমি পার্টনারশিপে পানি সাপ্লাইয়ের ব্যবসা শুরু করি। সেখানে ভ্যান চুরি হওয়া এবং ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কারণে অনেক লোকসান হয়। এই ধাক্কাগুলো থেকেই শিক্ষা নিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমাকে একা ব্যবসা শুরু করতে হবে।

এশিয়া পোস্ট: ব্যবসা শুরু করার প্রাথমিক মূলধন আপনি কীভাবে জোগাড় করেছিলেন?

সাকিব হাসান: ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমি একটানা টিউশন করেছি। উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের গণিত পড়াতাম এবং বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিতাম। সেখান থেকে প্রতি মাসে যে মোটা অঙ্কের টাকা পেতাম, তা দিয়েই আমার ব্যবসার মূলধন তৈরি হয়।

এশিয়া পোস্ট: নিজে থেকে শুরু করা আপনার প্রথম ব্যবসা কোনটি ছিল?

সাকিব হাসান: ২০১৮ সালে আমি ‘শাকিব এগ্রো’ নামে আমার নিজস্ব কোম্পানি শুরু করি।

এশিয়া পোস্ট: এগ্রোতে সে সময় কী নিয়ে কাজ করতেন?

সাকিব হাসান: আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল একোয়াকালচার বা মাছ চাষ নিয়ে কাজ করা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে মাছ চাষ করছি দেখে অনেকেই সমালোচনা করেছিল। কিন্তু আমার লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প জায়গায় বেশি মাছ উৎপাদন করা। ২০১৯ সালে কাজ করতে গিয়ে আমি দুটি বড় সমস্যা চিহ্নিত করি—তথ্যের অভাব এবং মানসম্মত পোনার সংকট। কৃষকরা মূলত এই দুটি কারণেই পিছিয়ে ছিল। আমি নিজে প্রচুর গবেষণা ও মাঠ পর্যায়ে যাতায়াত শুরু করি। তখন আমি জাহাঙ্গীরনগর থেকে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন জামালপুর যাতায়াত করতাম। এ ছাড়া ২০১৯ সালে মাছ চাষের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বাংলাদেশে না পাওয়ায় আমি চীন থেকে সেগুলো আমদানি করা শুরু করি।

এশিয়া পোস্ট: আপনি অনেকগুলো সেক্টরে একসঙ্গে কাজ করছেন। এতগুলো সেক্টরে জড়িয়ে পড়ার বা ব্যবসা ডাইভার্সিফাই করার কারণ কী?

সাকিব হাসান: আমি আসলে শুরুতেই এতগুলো সেক্টরে ছিলাম না। একটি কোম্পানি দাঁড়ানোর পর আমি ধীরে ধীরে অন্যান্য কোম্পানিগুলো শুরু করি। আমি যেহেতু অ্যাগ্রিকালচার সেক্টরে যুক্ত ছিলাম, তাই আমাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও কাজ করতে হয়েছে। বাংলাদেশে কৃষি খাতের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আমরা বর্তমানে একটি লিডিং অবস্থানে আছি। সেখান থেকেই মনে হলো যে আমরা আইটি সেক্টরেও ভালো করতে পারব এবং এভাবেই আইটি সেক্টর শুরু করা। পরবর্তী সময়ে রিয়েল এস্টেট সেক্টরেও আমার সম্পৃক্ততা তৈরি হয়। শুরুতে আমার বড় কোনো ইনভেস্টমেন্ট ছিল না। আমি নিজেই কল সেন্টার, কাস্টমার সাপোর্ট এবং ফিল্ড ভিজিটের কাজ করতাম। তথ্য দেওয়ার সময় অনেক বাধা এলেও আমি জানতাম ২০৩০ সালের পর কৃষি খাত অনেক বড় একটি বাজারে পরিণত হবে।

এশিয়া পোস্ট: তখন তো বাজারে প্রতিষ্ঠিত অনেক কোম্পানি ছিল। তাদের সঙ্গে কীভাবে প্রতিযোগিতা করেছেন?

এশিয়া পোস্ট: শুরুতে ভয় ছিল ঠিকই, কিন্তু আমি ছোট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছি। বড় কোম্পানিগুলোর হাজার হাজার কাস্টমার ছিল, আমি ১০ থেকে ২০ জন কাস্টমারকে নিয়ে কাজ শুরু করি। ২০১৯ সালে অনেক কোম্পানি অনলাইনে ছিল না, কিন্তু আমি ২০১৮ সালেই একটি ইউটিউব চ্যানেল শুরু করি। আমি সেখানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে নয়, বরং মাছের রোগ প্রতিরোধ এবং সচেতনতা নিয়ে তথ্য শেয়ার করতাম। কৃষকরা যখন দেখল তারা উপকৃত হচ্ছে, তখন তারা আমার ওপর আস্থা পেল। এমনকি ‘সাকিব এগ্রো’ নামটি কৃষকদের ভালোবাসা থেকেই রাখা হয়েছে।

এশিয়া পোস্ট: পোনার ব্যবসার সাম্রাজ্য গড়ে তোলার গল্পটি শুনতে চাই। এটি কীভাবে শুরু হলো?

সাকিব হাসান: ২০১৮ সালে ভালো পোনার সংকট দেখে আমি নিজেই কাজ শুরু করি। একা হ্যাচারি চালানো কঠিন ছিল বলে আমি ময়মনসিংহের এক গোল্ড মেডেলিস্ট হ্যাচারি মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমার কাস্টমার বেস এবং কাজের ধরন দেখে তারা আমার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে রাজি হন। তাদের ব্যবস্থাপনা এবং আমার বিনিয়োগ ও বিপণন—এই মডেলে আমাদের যাত্রা শুরু হয়।

এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশে বর্তমানে পোনার বাজারের পরিধি কেমন?

সাকিব হাসান: এই বাজারটি অনেক বড়। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আমরা শিং, মাগুর, পাবদা ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন মাছের পোনা নিয়ে কাজ করেছি। ২০২০ সালে কোভিডের সময় সবাই যখন মূলধন আটকে রাখছিল, আমি তখন বড় ঝুঁকি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাই। ২০২২ সাল থেকে আমরা শুধু তেলাপিয়ার ওপর ফোকাস করি। বর্তমানে আমরা বছরে কয়েক কোটি পিস পোনা বিক্রি করছি।

এশিয়া পোস্ট: পোনা ডেলিভারি দেওয়া তো বেশ স্পর্শকাতর বিষয়। এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো কী ছিল?

সাকিব হাসান: ময়মনসিংহ থেকে যশোর বা দেশের অন্য প্রান্তে পোনা পাঠানোর সময় অক্সিজেনের অভাব বা অন্যান্য কারণে শুরুতে কিছু মাছ মারা যেত। কিন্তু ধীরে ধীরে আমরা আমাদের ডেলিভারি এবং প্রোডাকশন টিমকে অনেক শক্তিশালী করেছি। এখন আমাদের পোনার মৃত্যুর হার মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ।

এশিয়া পোস্ট: ২০১৮ সালের দিকে স্টার্টআপ কালচার জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও আপনি কেন ট্রেডিশনাল বিজনেসে আসলেন?

সাকিব হাসান: আমি দেখেছি অনেক স্টার্টআপ শুধু বিনিয়োগ পাওয়ার পেছনে দৌড়ায়, কিন্তু তাদের কোনো সাস্টেইনেবল প্ল্যান থাকে না। আমি চেয়েছি চারপাশের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে। তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে আগে মার্কেট রিসার্চ করুন, প্রয়োজনে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে পণ্য বিক্রি করে দেখুন কাস্টমার কী চায়। শুধু বড় অফিস আর ডেকোরেশনের পেছনে কার্যকরী মূলধন নষ্ট করবেন না। আমি শুরুতে বাসে করে যাতায়াত করে মিটিং করতাম। বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি গ্যারেজ থেকেই শুরু হয়েছে।

এশিয়া পোস্ট: এ বছর আপনারা কতজন কাস্টমারকে সার্ভিস দিয়েছেন এবং আপনাদের ব্যবসার বর্তমান অবস্থা কী?

সাকিব হাসান: এ বছর শুধু তেলাপিয়ার পোনা নিয়েছেন ২ হাজারের বেশি কাস্টমার। এ ছাড়া প্রতিদিন আমরা কল সেন্টারের মাধ্যমে ৫০০ থেকে ১০০০ জন কৃষককে বিনামূল্যে পরামর্শ দিই। আমাদের টিমে বর্তমানে ৩০ জন করপোরেট অফিসে এবং ৭৫ জন উৎপাদন কেন্দ্রে কাজ করছেন। আমাদের সর্বনিম্ন অর্ডার সাইজ ৮০০০ পিস পোনা, যার মূল্য গাড়ি ভাড়াসহ প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ টাকা।

এশিয়া পোস্ট: আগামী পাঁচ বছরে শাকিব এগ্রো নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

সাকিব হাসান: শাকিব এগ্রো উৎপাদনে এবং শাকিব এগ্রোটেক বিপণন ও সেবা নিয়ে কাজ করছে। আমাদের ভিশন হলো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি কৃষক যেন শিক্ষিত হয়ে মাছ চাষ করতে পারেন। আমাদের নিজস্ব ডাটাবেস এবং কৃষকদের জন্য আইটি সাপোর্ট বাড়ানোর কাজও চলছে। ২০২৪ সালে আমরা রিয়েল এস্টেট সেক্টরে প্রবেশ করেছি স্বচ্ছতা ও বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে।

এশিয়া পোস্ট: বর্তমানের শিক্ষিত বেকার তরুণদের জন্য আপনার বার্তা কী?

সাকিব হাসান: অনেকে মনে করেন পড়ালেখা শেষ করে ব্যবসা শুরু করবেন, কিন্তু আমার মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই নিজের প্যাশন নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত। লেগে থাকার মানসিকতা এবং ধারাবাহিকতা থাকলে সাফল্য আসবেই।

এশিয়া পোস্ট: শাকিব এগ্রো যদি কেউ কিনতে চায়, তবে কত টাকায় বিক্রি করবেন?

সাকিব হাসান: শাকিব এগ্রো কোনোদিন বিক্রি করা সম্ভব নয়। এমনকি আমরা এই কোম্পানির শেয়ারও বিক্রি করতে রাজি নই। প্রতিদিন লাখ লাখ কৃষক আমার ভিডিও দেখে উপকৃত হচ্ছেন এবং তারা আমার জন্য দোয়া করেন। এই যে শান্তি, এটি অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব না। আমরা চাই প্রতিটি মাছ চাষি যেন বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হয়ে রাজার হালে বাঁচতে পারেন।

এশিয়া পোস্ট: কৃষকদের নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

সাকিব হাসান: আমরা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কাজ করছি। কৃষকরা যেন ক্ষতিকর কীটনাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করেন, সে বিষয়ে আমরা তাদের সচেতন করছি। এ ছাড়া যেসব কৃষকের পুকুর ও ব্যবস্থাপনা আছে কিন্তু অর্থের অভাব, তাদের আমাদের কোম্পানি থেকে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো মাছের স্বাদ ও গুণগত মান অটুট রেখে একটি উন্নত কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।