‘পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়ন করলে বিএনপি সংকটে পড়ত না’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নাটোর-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সম্প্রতি অতিথি হয়ে এসেছিলেন এশিয়া পোস্টের ধারাবাহিক অনুষ্ঠান আলাপনে। আওয়ামী লীগের ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে রাজনীতির মাঠের অভিজ্ঞতা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। সঞ্চালনা করেছেন রাহাত রূপান্তর।
এশিয়া পোস্ট: দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। সব মিলিয়ে রাজনীতি আপনাকে সবচেয়ে বড় কী শিক্ষা দিয়েছে?
তাইফুল ইসলাম টিপু: রাজনীতিতে শেখার কোনো শেষ নেই। এখানে সর্বোচ্চ ভালো যেমন শেখা যায়, তেমনি খারাপের দিকে যাওয়ার সুযোগও থাকে। আমি যখন রাজনীতিতে এসেছিলাম, তখন এসেছিলাম চরম আদর্শিক জায়গা থেকে। তখন জানতাম, রাজনীতিবিদদের অনেকের ঘরে হয়তো ঠিকমতো চালই থাকত না, তারা কেবল মানুষের কল্যাণে লড়তেন। কিন্তু এখন রাজনীতি বদলে গেছে। বর্তমান সময়ে রাজনীতির সর্বশেষ ঠিকানা দাঁড়িয়েছে গাড়ি-বাড়ি আর অর্থবিত্তের মালিক হওয়া। এই চারিত্রিক পরিবর্তন আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার শক্তি অর্জন করাই আমার রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
এশিয়া পোস্ট: অনেক সময় অভিযোগ ওঠে, দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা মাঠের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরাই অবমূল্যায়িত হন। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
তাইফুল ইসলাম টিপু: এটি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি। দল যদি নিবেদিত ও পরীক্ষিত মাঠের কর্মীদের মূল্যায়ন না করে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ হঠাৎ-নেতাদের আশ্রয় দেয়, তবে দল ও দেশ বারবার সংকটে পড়বে। ১৯৯১ বা ১৯৯৬ সালে আমাদের দেশে যে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছিল, ২০০৮ সালের পর থেকে তা ব্যাহত হয়েছে। এর মূল কারণ মাঠের কর্মীদের উপেক্ষা করা। রাজনীতিতে সংগ্রাম থাকবেই। প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া বা নেলসন ম্যান্ডেলার মতো ব্যক্তিত্বরা সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। দল ও নেতৃত্বকে মনে রাখতে হবে, মাঠের কর্মী সুস্থ ও মূল্যায়িত থাকলে দেশের গণতন্ত্রও কখনও হোঁচট খাবে না।
এশিয়া পোস্ট: দল আপনাকে মনোনয়ন না দিলেও নাটোর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ কী ছিল?
তাইফুল ইসলাম টিপু: দলের প্রতি আমার অঙ্গীকার ও বিশ্বস্ততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ১/১১-এর সংকটে যখন ২০০ জনেরও বেশি এমপি বেগম খালেদা জিয়াকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তখন মাত্র পাঁচ-ছয়জন কর্মীর একজন হিসেবে আমি জিয়া পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন জিয়া পরিবারের নিয়ন্ত্রণে পুরো বিএনপি নেই, বরং সারা দেশের ৩০০ আসনে ৩০০টি পরিবারতন্ত্র বিএনপিকে গ্রাস করার চেষ্টা করছে। আমি চেয়েছিলাম এই পরিবারতন্ত্র ভাঙতে এবং মাঠের আসল কর্মীরা যাতে মূল্যায়িত হয়। এ ছাড়া মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে দল থেকে কেউ আমাকে সরে দাঁড়াতে বলেনি। যখন হাজার হাজার মানুষ আমার সমর্থনে মাঠে নেমে গেল, তখন জনগণের সেই স্রোত ফেলে আমার আর ফিরে আসার পথ ছিল না।
এশিয়া পোস্ট: স্বতন্ত্র নির্বাচন করার পর দল আপনাকে বহিষ্কার করেছিল। সেই সিদ্ধান্তকে আপনি কীভাবে দেখেছিলেন?
তাইফুল ইসলাম টিপু: আমি যখন স্বতন্ত্র নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি, তখনই জানতাম দলের নিয়ম অনুযায়ী আমাকে বহিষ্কার করা হবে। তাই এতে আমার খারাপ লাগেনি। আমি বরং মনে করি, ৪৩ বছর বিএনপি করার পর এটি আমার জন্য একটি বড় মূল্যায়নের সার্টিফিকেট! আমার আক্ষেপ অন্য জায়গায়। ১৭ বছরের আন্দোলন সফল না হওয়ার পেছনে বড় কারণ ছিল আমাদের স্থানীয় কিছু তথাকথিত ‘মাতবর’ বা সুবিধাভোগী নেতা। আন্দোলনের সময় যখন কর্মীরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিচ্ছে, তখন এই সুবিধাবাদী নেতারা নিজেরা নিরাপদ জায়গায় থেকে কর্মীদের নিরুৎসাহিত করেছেন। অথচ এরাই আবার দলের মনোনয়ন পেয়ে বড় বড় পদের ভাগীদার হন।
এশিয়া পোস্ট: দলীয় প্রতীক ছাড়াই ভোটারদের যে সমর্থন পেয়েছেন, তা আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
তাইফুল ইসলাম টিপু: এটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। এই নির্বাচনে একদিকে ছিল আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর ভোটব্যাংক, অন্যদিকে ছিল অর্থের ব্যাপক ছড়াছড়ি। এর মধ্যেও প্রতিটি ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমি যে সমর্থন পেয়েছি, তা অবিশ্বাস্য। দলকানা বা আবেগে পড়ে নয়, বরং এই ৭৩ হাজার ভোটার জেনে-বুঝে আমার ওপর আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন। আজ অন্য যে কোনো প্রার্থী স্বতন্ত্র দাঁড়ালে ৫ হাজার ভোটও পেত না। তাই এই বিপুল সমর্থন আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগের অনন্য স্বীকৃতি।
এশিয়া পোস্ট: তৃণমূলের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র কতটা প্রভাব ফেলছে বলে আপনি মনে করেন?
তাইফুল ইসলাম টিপু: অবশ্যই। এটি কেবল বিএনপিতে নয়, আওয়ামী লীগ এমনকি জামায়াতে ইসলামীর মধ্যেও পরিবারতন্ত্র ঢুকে পড়েছে। জামায়াত নিজেদের নিয়মতান্ত্রিক দল দাবি করলেও তারা তাদের প্রয়াত নেতাদের সন্তানদের ও স্ত্রীদের বিশেষ কোটায় মনোনয়ন দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের শেষ সংসদে শেখ মুজিবের পরিবারেরই প্রায় ৩০ জন এমপি ছিলেন। তৃণমূলের কোনো সৎ ও যোগ্য কর্মী আজ এমপি বা মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে না। কারণ, সবাই ধরে নিয়েছে মন্ত্রীর ছেলেই আগামীতে মন্ত্রী বা এমপি হবে। ফলে যোগ্যরা রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়ছে আর সুবিধাবাদীরা পরিবারতন্ত্রের লেজুড়বৃত্তি করছে। আমি নিজে ভালো ছাত্র ছিলাম, চাইলে ৩০ বছর আগে বিসিএস দিয়ে আজ সচিব হতে পারতাম। কিন্তু ডান্ডাবেড়ি পরা, অনাহারে থাকা আর মাইলের পর মাইল হাঁটার কষ্ট সহ্য করেছি কেবল মানুষের সেবা করার লালন থেকে। আজ আমাকে সচিবের পদ দিলেও আমি তা গ্রহণ করব না।
এশিয়া পোস্ট: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আপনার ভূমিকা এবং বিএনপির অবদান কেমন ছিল?
তাইফুল ইসলাম টিপু: জুলাই আন্দোলনটি আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুব কাছ থেকে দেখেছি এবং মাঠে থেকে কাজ করেছি। ১৪ জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলই এই আন্দোলনকে ওভাবে গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার বিতর্কিত মন্তব্যের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে নামল, তখন এটি সর্বস্তরের মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণে পরিণত হলো। ইন্টারনেট বন্ধের সময় যখন আমাদের কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী গ্রেপ্তার হন, তখন আমি নিজের দায়িত্বে দলের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। হাতে লিখে প্রেস রিলিজ তৈরি করে, কখনও পিয়নের মাধ্যমে বই বা প্রেসক্রিপশনের ভেতর লুকিয়ে সাংবাদিকদের কাছে পাঠিয়েছি। আমরা ঘরে বসে থাকিনি; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রামপুরা, পল্টনসহ বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মাঠে ছিলাম।
এশিয়া পোস্ট: এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের সুফল আসলে কারা পেল বলে আপনি মনে করেন?
তাইফুল ইসলাম টিপু: একটি প্রচলিত কথা আছে, ‘কৃষক মাঠে কষ্ট করে ফসল ফলায়, আর নবান্নের দিনে মালিকের ছেলে পায়েস খায়’। এই আন্দোলনেও প্রান্তিক মানুষ, রিকশাচালক, হকার ও ছাত্ররা রাজপথে অকাতরে প্রাণ দিল। অথচ আন্দোলনের পর দেখা গেল, যারা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা দাবি করছে, তারা রাতারাতি বড় পদ পেয়ে জাতীয় নেতা বনে গেল। নিষিদ্ধ হতে যাওয়া জামায়াত আজ বিরোধী দলের আসনে বসে রাজত্ব করছে। আর বিএনপি ১৬-১৭ বছর চরম নির্যাতন ভোগ করার পর এখন অন্তত একটু স্বাভাবিকভাবে নিশ্বাস ফেলার সুযোগ পেয়েছে।
এশিয়া পোস্ট: বর্তমান সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রমকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
তাইফুল ইসলাম টিপু: বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ প্রতিটি প্রশাসনে দলীয় লোকদের বসিয়ে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও দূরদর্শিতা দেখাতে পেরেছেন, কিন্তু তার মন্ত্রিসভা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে সফল হতে পারেনি। সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন এখনো ফ্যাসিবাদের দোসরদের দখলে। তারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি করে সরকারের কাজ ব্যাহত করছে এবং এখনও আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। পাঁচ মাসেই সব পরিবর্তন করা কঠিন। এই আমলারা এক মিনিটে যে কাজ করতে পারে, তা পাঁচ মাসেও করছে না, যাতে বিএনপির লোকজন ব্যবসায়িকভাবে দাঁড়াতে না পারে। প্রশাসনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ মন্ত্রীদের অনতিবিলম্বে পরিবর্তন করা উচিত।
এশিয়া পোস্ট: নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থান এবং বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা কেমন দেখছেন?
তাইফুল ইসলাম টিপু: নতুন দল গঠন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু তারা দেশের মানুষকে নতুন কোনো ইতিবাচক স্বপ্ন দেখাতে পারছে না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন নতুন দল গঠন করেছিলেন, তখন তিনি দেশকে স্বনির্ভর করার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং মাত্র তিন বছরে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। বর্তমান নতুন দলগুলো ক্ষমতার মোহে এবং রাতারাতি অর্থ অর্জনের প্রবণতায় জড়ালে মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী একটি বহুমুখী কৌশল নিয়ে খেলছে। তাদের বিভিন্ন উইং আছে, যারা পরিস্থিতি অনুযায়ী সব দলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। তারা একসময় বিএনপির সঙ্গে জোট করেছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আন্দোলন করেছে, এরশাদের সঙ্গেও থেকেছে। তারা নিজেদের স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবের কারণেই জামায়াত আজ শক্তিশালী হচ্ছে। আগামী দিনে জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে, এমন এক সময় আসতে পারে যখন জামায়াতকে রুখতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে এক টেবিলে বসতে হতে পারে!
এশিয়া পোস্ট: রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত পরিকল্পনা কী? বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কোনো চেষ্টা করছেন কি?
তাইফুল ইসলাম টিপু: আমি তো বিএনপির বাইরে কোথাও যাইনি। ৪৩ বছর এই দলের পেছনে দিয়েছি, বিএনপি আমার কাছে নিজের সন্তানের মতো। দল যদি মনে করে আমাকে প্রয়োজন, তারা সিদ্ধান্ত নেবে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আমি নিজে কোনো তদবির করব না। পদে না থাকলেও আমি বিএনপির আদর্শ নিয়েই কথা বলছি এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জিয়া পরিবারের আদর্শেই অবিচল থাকব। এখন আমার সবচেয়ে বড় দায়বদ্ধতা নাটোরের ওই ৭৩ হাজার মানুষের প্রতি। গত পাঁচ মাসে এক হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয়েছে, যাদের অনেককে আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে জামিনের ব্যবস্থা করেছি। অন্যায়ের কাছে আমি কখনও মাথা নত করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। প্রতিদিন দেশের প্রায় ২০০-৩০০ নেতাকর্মী আমাকে ফোন করেন, আমি তাদের পাশে থেকে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছি। কর্মী হিসেবে মানুষের ভালোবাসার মাঝেই বেঁচে থাকতে চাই।
এশিয়া পোস্ট: রাজনীতির জন্য ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে অনেক কিছু ত্যাগ করেছেন। এই ত্যাগের জায়গা থেকে এখন আপনার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কী, আর ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
তাইফুল ইসলাম টিপু: ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমি কখনও ভাবিনি। এমনকি আমার নিজের উপার্জনের কোনো টাকা কখনও আমি আমার পরিবারকে দিতে পারিনি। বাবার জীবদ্দশায় তার টাকায় চলেছি, আর তিনি মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া সম্পদ দিয়েই আমি রাজনীতি চালাচ্ছি। যখন জেলে যেতাম, তখন চিন্তা করতাম যে আমি যদি মারা যাই, তবে আমার ছোট সন্তানের কী হবে। রাজনীতি করার কারণে বিয়েও অনেক দেরিতে করেছি, সন্তানও দেরিতে হয়েছে। এতকিছুর পরও আমি একে ব্যক্তিগত ক্ষতি মনে করি না, এটি আল্লাহর ইচ্ছা ও আমার ভাগ্য। তবে আমার এলাকার ৭৩ হাজার মানুষ, যারা চরম প্রতিকূলতার মাঝেও আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার এক ধরনের গভীর দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
বিগত পাঁচ মাসে আমার এলাকার প্রায় ১ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং অনেকে জেলে গেছেন। আমি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করে তাদের জেল থেকে মুক্ত করেছি। কষ্ট লাগে যখন দেখি, হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসা কিছু সুবিধাবাদী এমপি-মন্ত্রী আমাদের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তা সত্ত্বেও আমি শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের কাছে কখনও মাথা নত করিনি এবং ভবিষ্যতেও কোনো অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ করব না। আমার নেতা জিয়াউর রহমান যেমন আমৃত্যু কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি, তার কর্মী হিসেবে আমিও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাব। তারেক রহমান হয়তো সাময়িকভাবে আমাকে দূরে রেখেছেন, কিন্তু দলের যেকোনো চরম সংকটে আমি আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে তার পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত আছি। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো মানুষের ভালোবাসা। আজও প্রতিদিন দেশের অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ সাধারণ কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আমাকে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। আমি তাদের পাশে আছি এবং খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শ বুকে নিয়েই পথ চলছি।



