‘ছাত্রদল ছাত্রলীগকেও ছাড়িয়ে গেছে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি অতিথি হয়ে এসেছিলেন এশিয়া পোস্টের ধারাবাহিক অনুষ্ঠান আলাপনে। কথা বলেছেন ডাকসুতে শিবিরের নেতৃত্ব, এক বছরে ডাকসুর অর্জন ও সীমাবদ্ধতা, ক্যাম্পাস রাজনীতি এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে। সঞ্চালনা করেছেন রাহাত রূপান্তর।
এশিয়া পোস্ট: ডাকসুর এক বছর পূর্ণ হলো। সব মিলিয়ে এই সময়টি আপনার কেমন কাটল?
এস এম ফরহাদ: আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহতাআলা ভালো রেখেছেন। আলহামদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হাল। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদকের সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদকের কাজ, সব মিলিয়ে এটি একটি অত্যন্ত গতিশীল, ব্যস্ত এবং চ্যালেঞ্জিং জার্নি ছিল। সব বাধা পেরিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারাটাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রশান্তি।
এশিয়া পোস্ট: ডাকসু নির্বাচনে আপনারা নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিলেন। অতীতে যেখানে ছাত্রশিবির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগই পেত না, সেখানে এই অভাবনীয় ফলের পেছনের রহস্য কী ছিল?
এস এম ফরহাদ: অতীতে যখনই ডাকসু নির্বাচন হয়েছে, তখনই একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত মিথ্যাচার সমাজের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হতো। আশির দশকের ডাকসুর কথাই যদি বলি, তখন সব পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যম ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচার করত যে শিবির একটি ভয়ংকর কিছু, এরা ‘রগ কাটে’, এরা ‘জঙ্গি’। তখন শিক্ষার্থীদের সামনে তথ্যের বিকল্প কোনো মাধ্যম ছিল না, ফলে খবর যাচাই করার সুযোগও তাদের ছিল না।
আশির দশকে ডাকসুর একটি মিছিলে বামপন্থিরা টিএসসি থেকে এফ রহমান ও মহসিন হলের দিকে যাওয়ার সময় শিবিরের সেই মিছিলে সরাসরি বোমা হামলা চালিয়েছিল। সেই বর্বরোচিত হামলায় ইসলামী সংগীতের বিশিষ্ট শিল্পী তোফাজ্জল হোসেন খান ভাইয়ের একটি পা সম্পূর্ণ উড়ে যায়, যিনি আজও একটি প্লাস্টিকের পা নিয়ে হাঁটেন। আরও কয়েকজন ভাইয়ের পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গিয়েছিল এবং হাত রক্তাক্ত হয়েছিল। কিন্তু নির্মম সত্য হলো, হামলার পরের দিন সব পত্রিকা উল্টো শিবিরের ওপরই দায় চাপিয়ে খবর ছেপেছিল, কেন তোমরা মিছিল করতে গেলে! অর্থাৎ তখন ন্যূনতম কোনো গণতান্ত্রিক পরিসর দেওয়া হতো না।
কিন্তু চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই গণতান্ত্রিক পরিসরটি তৈরি হয়েছিল। গণমাধ্যমগুলো আমাদের টকশো ও প্রকাশ্য বিতর্কে ডেকেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সামনে খোলামেলা নিজেদের যুক্তি ও অবস্থান তুলে ধরতে পেরেছি। শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব বুদ্ধি ও বিচারবোধ দিয়ে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই এটিকে আমি কেবল ছাত্রশিবিরের জয় বা ছাত্রদলের ব্যর্থতা বলব না; এটি মূলত সিন্ডিকেটের দেয়াল ভেঙে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সচেতন পছন্দের ঐতিহাসিক বিজয়।
এশিয়া পোস্ট: নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন ছিল? সোশ্যাল মিডিয়া কি কোনো বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল?
এস এম ফরহাদ: নির্বাচনের মাত্র চার-পাঁচ দিন আগের মূলধারার পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতার প্যানেল আলোচনা বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। সেখানে ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম কিংবা আমার ছবি ভেতরের এক কোণে নামমাত্র রাখা হতো, অথবা গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় আমাদের নামই থাকত না। অথচ যারা হয়তো পুরো ক্যাম্পাসে ১০০০ বা ২০০০ ভোটও পায়নি, এমন ব্যক্তিদের বড় বড় ছবি ও বিশেষ ফিচার নিউজ বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকায় গুরুত্ব দিয়ে ছাপানো হয়েছিল। এমনকি আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার সংবাদ পর্যন্ত অনেক মিডিয়া চেপে গিয়েছিল, অথচ অন্য সংগঠনের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রতিবেদন করা হয়েছিল।
তবে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা। অনলাইনের এই যুগে কেউ যদি পত্রিকায় মিথ্যা ছাপে, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় সত্য তথ্য আপলোড করে নিজেরাই সাংবাদিক হয়ে উঠতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ার এই বাস্তবতার কারণে মূলধারার মিডিয়ার ওপরও একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়েছিল; তারা বুঝতে পেরেছিল যে সত্য চেপে রাখলে শিক্ষার্থীরা তা সহজে মেনে নেবে না। ফলে তারাও পরবর্তীতে আমাদের বক্তব্য প্রচারে বাধ্য হয়েছে।
এশিয়া পোস্ট: নির্বাচনে আপনারা বিপুল ভোটে জিতলেও জগন্নাথ হলে আপনাদের ভোট ছিল মাত্র দশটি। এই ব্যবধানের কারণ কী ছিল?
এস এম ফরহাদ: এখানে মূলত দুটি কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, গত ১৫-১৭ বছর ধরে পাঠ্যবই, পত্রিকা, বক্তৃতা ও গানের মাধ্যমে সমাজে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিষবাষ্প ছড়ানো হয়েছে যে ‘শিবির ভয়ংক র’। কোনো শিশুর শৈশব থেকে নির্বাচনের বয়স পর্যন্ত কানে কানে এই মিথ্যা প্রচার করলে সেটির একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। চব্বিশের পর আমরা সরাসরি প্রশ্নোত্তর ও প্রকাশ্য বিতর্কের মাধ্যমে এসব মিথ্যা ভাঙার চেষ্টা করেছি।
জগন্নাথ হলের ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের সীমাবদ্ধতা ছিল; আমরা হয়তো প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে সমানভাবে পৌঁছাতে পারিনি। কোনো হলের একজন ভাইয়ের মনে শিবিরের ব্যাপারে হয়তো তিনটি প্রশ্ন ছিল, কিন্তু জগন্নাথ হলের একজন ভাইয়ের মনে হয়তো ৫০টি প্রশ্ন ছিল। আমরা হয়তো ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছি, বাকি ৪০টির উত্তর শোনার সুযোগ তারা পাননি। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনো সাময়িক হাইপ বা হুজুগে নিশ্চিত না হয়ে ভোট দেন না।
দ্বিতীয়ত, আমার বিপরীতে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মেঘমল্লার বসু, যিনি জগন্নাথ হলেরই শিক্ষার্থী ছিলেন এবং সেখানে পুরো একাডেমিক জীবন কাটিয়েছেন। ফলে ওই হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ ছিল এবং তিনি তাদের কাছে অধিক পরিচিত ও প্রিয় ছিলেন। তবে ফলাফল ঘোষণার পরপরই আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, কে ভোট দিয়েছেন আর কে দেননি, তা দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের বিভক্ত করব না; আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রতিনিধি।
জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পূজা-পার্বণে আমরা স্পনসর ও ফান্ডের ব্যবস্থা করেছি। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের হারিয়ে যাওয়া ভাষা নিয়ে ‘বহুমাত্রিক’ নামে বিশেষ প্রকাশনা করেছি। জগন্নাথ হলের প্রতিটি ফ্লোরে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার বসানোর একটি সম্পূর্ণ প্রজেক্ট আমরা নিজস্ব স্পনসরে চূড়ান্ত করেছিলাম।
কিন্তু সেখানকার রাজনৈতিক বলয়, বিশেষ করে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সাহসের অনুসারীদের বাধার কারণে প্রায় আট মাস ঘোরার পর প্রজেক্টটি বাতিল করতে হয়। একইভাবে রিডিং রুমে এসি দেওয়ার কাজও তাদের রাজনৈতিক বাধার কারণে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানকার শিক্ষার্থীরা হয়তো নতুন করে কোনো জুলুমের শিকার হওয়া কিংবা জীবনের ঝুঁকির ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছে না।
এশিয়া পোস্ট: বিগত এক বছরে ডাকসুর মূল অর্জন ও উল্লেখযোগ্য কাজ কী কী ছিল?
এস এম ফরহাদ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে পূর্ববর্তী সব ডাকসু মিলে যা করেনি, আমরা মাত্র এক বছরে তার চেয়ে বেশি কাজ করেছি। সংক্ষেপে বললে:
• অবকাঠামো ও আবাসন: ধ্বংসপ্রায় ডাকসু ভবন সংস্কার করে আধুনিক কর্মপরিবেশ তৈরি; অনাবাসী ছাত্রীদের জন্য আবাসন বৃত্তি চালু; নয়টি নতুন হল নির্মাণের জন্য ২৮৪১ কোটি টাকার প্রকল্প এবং চীন সরকারের অর্থায়নে ‘চীন-মৈত্রী হল’ নির্মাণ চূড়ান্তকরণ; ১৮টি হলে একযোগে ছারপোকা নিধন এবং প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনের ভূকম্পন ঝুঁকি পরীক্ষা।
• লাইব্রেরি ও পরিবহন: কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির চাপ কমাতে প্রতিটি হলের রিডিং রুমে নিজস্ব অর্থায়নে এসি স্থাপন; শনিবারের নিয়মিত বাস সার্ভিস চালু (যার জন্য দুই বছরের বাজেট নিশ্চিত করা হয়েছে); সান্ধ্যকালীন ও কুমিল্লা রুটের বাস এবং ছাত্রীদের জন্য পরিবেশবান্ধব এসি বাস সার্ভিস চালু।
• প্রযুক্তি ও দক্ষতা: আইসিটি মন্ত্রণালয়ের চুক্তি বাতিল হওয়া সত্ত্বেও নিজস্ব স্পনসরে ১১টি হলে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন; ডাকসুতে বিনামূল্যে স্পোকেন ইংলিশ কোর্স ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজন।
• নারী শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্যসেবা: ছাত্রীদের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্বতন্ত্র সার্বক্ষণিক জিমনেশিয়াম প্রস্তুতকরণ, মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ; ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় মেডিকেল সেন্টার সংস্কার এবং টিএসসিতে দুই দিনের ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালে সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থীকে জটিল টেস্ট, ফ্রি ওষুধ ও টিকা প্রদান।
• ইতিহাস ও প্রকাশনা: শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিয়মিত সাহিত্য ম্যাগাজিন, সংখ্যালঘু ভাষা নিয়ে ‘বহুমাত্রিক’, গণরুমের স্মৃতি নিয়ে ‘নির্যাতনের দাগ ও খতিয়ান’ (ব্রেইল সংস্করণসহ) এবং মোট ২৮টি গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ; ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদ সংস্কার, শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণে ‘আর্তনাদ’ এবং চব্বিশের স্মৃতিতে ‘নির্ভীক জুলাই’ মনুমেন্ট স্থাপন।
এশিয়া পোস্ট: এই এক বছরের মেয়াদে আপনাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোনটি বলে আপনি মনে করেন?
এস এম ফরহাদ: আমাদের এক বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো, ক্যাম্পাসকে শতভাগ সহিংসতামুক্ত রাখতে পারা। নব্বইয়ের পর থেকে প্রতিটি ছাত্র সংসদের মেয়াদে বোমাবাজি, রক্তপাত ও অস্ত্রের মহড়া ছিল নিয়মিত ঘটনা। আমানুল্লাহ আমান ভিপি হওয়ার পর থেকে ক্যাম্পাসে গোলাগুলি ও সংঘাতের যে ধারা শুরু হয়েছিল, তা ছাত্রলীগের আমলেও চলেছে; এমনকি ডাকসু ভবনে নুরুল হক নুরের ওপরও নৃশংস হামলা হয়েছিল। কিন্তু এই এক বছরে ডাকসু বা ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে একটি সংঘাতও ঘটেনি।
প্রতিপক্ষ ছাত্রদল বারবার এফ রহমান হল কিংবা শাহবাগ থানায় উসকানি দিয়ে আমাদের প্রতিনিধিদের রক্তাক্ত করেছে। আমার ভিপি, জিএস এবং প্রতিনিধি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকদের ওপর হামলা হয়েছে। তাদের নিখুঁত পরিকল্পনা ছিল, পাল্টাপাল্টি মিছিল ও সংঘাত বাঁধিয়ে হল খালি করা, তারপর পুলিশের উপস্থিতিতে হলে একক আধিপত্য কায়েম করে সিট দখল করা। কিন্তু আমরা স্পষ্ট বলেছি, আমরা রক্ত দেব, মার খাব, কিন্তু পাল্টা সংঘাতের ফাঁদে পা দিয়ে ক্যাম্পাস দখল হতে দেব না।
এমনকি ভিপি, জিএস বা এজিএস হওয়া সত্ত্বেও ভিসি স্বাক্ষরিত যে সিট আমাদের নামে বরাদ্দ ছিল, মাস্টার্স শেষ হওয়ায় আমরা কেউ সেই সিটে থাকিনি; সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য তা ছেড়ে দিয়েছি। এ ছাড়া নীলক্ষেত, পলাশী বা আনন্দবাজারের দোকানগুলো থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে যে দৈনিক লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি চলত, তা আমরা শক্ত হাতে বন্ধ করেছি।
এশিয়া পোস্ট: এতগুলো উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট কোথা থেকে এলো? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী পরিমাণ বরাদ্দ দিয়েছিল?
এস এম ফরহাদ: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরো এক বছরে ডাকসুর জন্য মাত্র ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল, যার একাংশ আবার তারা আটকে রেখেছিল। সেই বরাদ্দের একটি পয়সাও আমি, ভিপি সাদিক কায়েম কিংবা এজিএস মহিউদ্দিন নিজেদের ব্যক্তিগত চা-নাশতা বা গাড়ি ভাড়ায় স্পর্শ করিনি; সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে দায়িত্ব পালন করেছি। অথচ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বছর যে ৬০ টাকা করে ডাকসু ফি নেওয়া হয়, ১৯৯০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সেই পুঞ্জীভূত কোটি কোটি টাকার তহবিল প্রশাসন ডাকসুকে দেয়নি। একটি কার্যকর ছাত্র সংসদের জন্য বছরে অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা বাজেট থাকা উচিত ছিল।
আমাদের বাস্তবায়িত কার্যক্রমের মোট আর্থিক মূল্য ৩৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এর কোনো অর্থই কোনো সম্পাদকের ব্যক্তিগত হাতে লেনদেন হয়নি। সেন্ট্রাল মসজিদের তিন কোটি টাকার কাজ, জিমনেশিয়ামের ৬৫ লাখ টাকা, মেডিকেলের ৩ কোটি টাকা কিংবা বাসের প্রকল্পগুলো সংশ্লিষ্ট দাতারা সরাসরি ঠিকাদারদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে চাবি হস্তান্তর করেছেন। আর যেসব অর্থ ডাকসুর নামে এসেছে, তা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে এবং নিয়মিত অডিট ও ভাউচারের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে।
এশিয়া পোস্ট: কাজ করতে গিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কি কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে?
এস এম ফরহাদ: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি আমাদের এক টাকাও না দিয়ে শুধু কাজে বাধা না দিত, তবে আমরা যা করেছি তার চেয়ে শতগুণ বেশি কাজ করতে পারতাম। প্রতিটি পদে পদে আমাদের আটকানোর অপচেষ্টা হয়েছে। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য আমরা ট্রেজারারের হাতে দুই কোটি টাকার চেক তুলে দিয়েছি, অথচ বর্ষা পেরিয়ে শীত এলেও সেই কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। রিডিং রুমে এসি দেওয়ার পর শিক্ষকেরা ‘বিদ্যুৎ বিল কে দেবে’ বলে নির্লজ্জ প্রশ্ন তুলে সংযোগ আটকে রেখেছেন। অথচ তারা নিজেরা এসি রুমে বসেন।
ছাত্রীদের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পূর্ণাঙ্গ জিমনেশিয়ামটি গত সাত-আট মাস ধরে প্রশাসন উদ্বোধন করতে দিচ্ছে না। কার্জন হল ও সায়েন্স এনেক্সের শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা কোটি টাকার অর্থায়ন এনে আধুনিক ক্যান্টিন নির্মাণের চুক্তি করলেও সরকার পরিবর্তনের অজুহাতে তা বাতিল করা হয়েছে। এফ রহমান হলে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থী নির্যাতনের অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; উল্টো ছাত্রদল গিয়ে হামলাকারীদের পাহারা দিয়েছে।
এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের কাজও আটকে রাখা হয়েছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি একক অ্যাপের মাধ্যমে রেজাল্ট, ফি এবং সনদ পাওয়ার কথা, সেখানে প্রশাসন ‘আইসিটি সেল পারবে না’ বলে কালক্ষেপণ করেছে। শেষ পর্যন্ত আমরা নিজস্ব উদ্যোগে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করতে বাধ্য হয়েছি, যা আধুনিক বিশ্বে সাধারণ বিষয় হলেও আমাদের শিক্ষকেরা তা নিতে চাননি।
এশিয়া পোস্ট: আপনি একই সঙ্গে ডাকসুর জিএস এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক। এই দুই পদের ভারসাম্য বজায় রাখেন কীভাবে?
এস এম ফরহাদ: আমি যখন ক্যাম্পাসে বা ডাকসু ভবনে প্রবেশ করি, তখন আমি সব শিক্ষার্থীর নির্বাচিত প্রতিনিধি; সেখানে আমার কোনো দলীয় পরিচয় মুখ্য নয়। ছাত্রশিবির একটি দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিপন্থি কোনো নেতিবাচক নির্দেশনা দেয় না। দলের অভিজ্ঞ দায়িত্বশীলরা উল্টো পরামর্শ দেন কীভাবে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সেবা দেওয়া যায়।
আমি বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে যদি আমি আমার আপন ভাই বা বোনের মতো ভালো না বাসি, তবে তাদের প্রতিনিধি হওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার আমার থাকে না। আমার নিজের ছোট ভাইয়ের জন্য আমি যা অনুভব করি, ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্যও ঠিক তা-ই অনুভব করতে হবে। এই আন্তরিক কাজের কারণেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিবিরের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বেড়েছে, যা দেখে বিরোধীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে ভয় পায়।
এশিয়া পোস্ট: বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে যে বিরোধ দেখা যাচ্ছে, এর মূল কারণ কী?
এস এম ফরহাদ: এর মূল কারণ স্বার্থের সংঘাত, চাঁদাবাজি এবং দখলদারত্বের রাজনীতি। ছাত্রদলের নেতারা কর্মী নামিয়ে মিছিল করালেও তাদের আর্থিক সংস্থান করতে পারছে না। কারণ অতীতে ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন মার্কেটগুলো থেকে আগে যে দৈনিক লাখ লাখ টাকার চাঁদা তোলা হতো, শিবির তা শক্ত হাতে বন্ধ করে দিয়েছে। এই চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ার ক্ষোভ থেকেই তারা শিবিরকে আক্রমণ করে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যাতে শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে গেলে তারা হলের সিট দখল করতে পারে। এই যে, যে সিভিয়ার প্যাটার্নের জায়গাগুলো, এটা হুবহু ফটোকপি। ছাত্রলীগকে ফটোকপি করে ছাত্রদলের লোকেরা সেই আচরণই করছেন, বরং একদম আরও অনেক বেশি ছাড়িয়ে গেছেন তারা।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মাত্র ছয় মাসে সারা দেশে বিএনপি বনাম বিএনপি অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ২৭৩টি ঘটনায় ২,০৯২ জন আহত এবং ৩১ জন নিহত হয়েছে। ঢাকা পলিটেকনিকে একজন শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছিল কারণ প্রতিষ্ঠানের মাঠে অটোরিকশা রেখে রাতের বেলা চাঁদা তোলার প্রতিবাদ করেছিল ছাত্রশিবির। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের হাজার কোটি টাকার প্রজেক্টের বালু ভরাট ও টেন্ডারের ১০ শতাংশ কমিশন কে খাবে, তা নিয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ অস্ত্রধারী গ্রুপগুলো নিজেদের মধ্যেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। বহিরাগত সন্ত্রাসী ও বস্তিবাহিনী ভাড়া করে এনে ক্যাম্পাসে মারামারি করানো হচ্ছে। পুরো ঢাকা শহরকে ব্লকে ভাগ করে অটোরিকশা, মিনিবাস, টেম্পু, কাঁচাবাজারের ট্রাক এমনকি পাইকারি মুরগির দোকান থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে।
এশিয়া পোস্ট: গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচিত সরকার কেমন দেখছেন?
এস এম ফরহাদ: বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্র হলো তারা বিএনপি পানি খায় তবে ঘোলা করে খায়। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে জামায়াতের পক্ষ থেকে অধ্যাপক গোলাম আযম যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা দিয়েছিলেন, তখন খালেদা জিয়া তা নাকচ করে বলেছিলেন ‘শিশু আর পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গণ-আন্দোলনের মুখে সেই তত্ত্বাবধায়ক আইন পাস করেই তাদের ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়কের প্রধান করতে প্রধান বিচারপতির বয়স দুই বছর বাড়িয়েছিল, যার করুণ পরিণতি হিসেবে ওয়ান-ইলেভেন এসেছিল।
সম্প্রতি তারা স্কুল ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত বাতিল করে নিজেদের ক্যাডার বসাতে চেয়েছিল। ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ এবং বিসিএস থেকে ৪৬ জন মেধার শীর্ষে থাকা শিক্ষার্থীকে কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমাদের তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রতিটি অন্যায্য সিদ্ধান্ত তারা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ যা তারা আগে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারত, তা পানি ঘোলা করে শেষে গিয়ে মানে।
এমনকি ইসলামী সেন্ট্রাল হাসপাতালে যুবদল নেতা ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ভাঙচুর করার পর একজন এমপিকে পদত্যাগ করিয়ে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো আইনি শাস্তি বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এশিয়া পোস্ট: অনেক সময় আপনারা বিএনপিকে বিগত আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তুলনা করছেন। অল্প সময়ে এই মূল্যায়ন যৌক্তিক?
এস এম ফরহাদ: আমি বরং এক ধাপ এগিয়ে বলব, অনেক ক্ষেত্রে তারা আওয়ামী লীগকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ একটি পুরোনো কাঠামোর ওপর ভর করে ধীরে ধীরে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। আর বিএনপি চব্বিশের অন্তর্বর্তী সরকারের তৈরি করা সংস্কার কাঠামোকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে নতুন করে দলীয় আধিপত্য কায়েম করছে। তারা পিএসসি, সিএজি, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিচার বিভাগকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাচ্ছে যাতে নির্বিঘ্নে লুটপাট চালানো যায় এবং বিচারকদের সরকারের অনুগত রাখা যায়।
প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার নিয়ম পাশ কাটিয়ে নির্বাহী বিভাগের হাতে ক্ষমতা রাখা হচ্ছে, যাতে বিচারকেরা পদোন্নতির লোভে সরকারের পক্ষে রায় দেন। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ইতিবাচক দিক হলো, সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে এখন তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিখেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিবাদ করে প্রভোস্টকে সরাতে বাধ্য করেছে।
এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
এস এম ফরহাদ: শেখ মুজিবুর রহমানের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডকে আমরা তিনটি পর্বে মূল্যায়ন করি। প্রথম পর্ব হলো ১৯৭১-এর পূর্বে পাকিস্তানের বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার রাজনৈতিক লড়াই, ১৯৭০-এর নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় এবং জনগণের অধিকার আদায়ের নেতৃত্ব, এই সংগ্রামের অবদান অনস্বীকার্য।
দ্বিতীয় পর্ব হলো স্বাধীনতার পর বাকশাল কায়েম করে সব দল ও সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা, রক্ষীবাহিনী গঠন করে লুণ্ঠন ও ভিন্নমত দমন, এবং চুয়াত্তরের মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি, এটি তার শাসনের চরম অন্ধকার অধ্যায়।
আর তৃতীয় পর্বটি হলো বিগত ১৫ বছর ধরে তাকে কেন্দ্র করে একটি ফ্যাসিবাদী বয়ান তৈরি করা হয়েছিল, যার আড়ালে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, পিলখানা ট্র্যাজেডির বিচারহীনতা, গুম ও আয়নাঘরের সংস্কৃতি এবং জুলাই গণহত্যাকে জায়েজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। ইতিহাসকে বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিমাপ করলে দেখা যায়, তার গঠনমূলক কাজের চেয়ে জাতিকে বিভক্ত ও ধ্বংস করার পরিমাণই বহুগুণ বেশি ভারী হয়ে উঠেছে।
এশিয়া পোস্ট: ২০২২ সালে ছাত্রলীগের এক কমিটিতে আপনার নাম থাকা এবং ছবিগুলো নিয়ে যে বিতর্ক হয়েছিল, সে বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
এস এম ফরহাদ: এ বিষয়ে ডাকসু নির্বাচনের সময়ই আদালতে রিট হয়েছিল এবং আদালত সমস্ত নথিপত্র ও প্রমাণাদি যাচাই করে আমার পক্ষেই রায় দিয়েছে। আদালতের সেই রায় সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। যেসব ছবি নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল, তার প্রতিটিই ছিল ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ক্লাব (ডিউডিসি) কিংবা সাহিত্য সংগঠনের প্রকাশ্য আয়োজনের গ্রুপ ফটো। তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রলীগের নেতারা বিভিন্ন ক্লাবের অনুষ্ঠানে জোর করে উপস্থিত হতেন, কিন্তু আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম একজন সক্রিয় বিতার্কিক ও সংগঠক হিসেবে, কোনো দলীয় স্বার্থে নয়।
আর ছাত্রদলের ভেতরে ‘গুপ্ত শিবির’ খোঁজার যে হিড়িক চলছে, তা মূলত তাদের নিজেদের ১৯টি গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ারা ধামাচাপা দেওয়ার অপকৌশল। এক গ্রুপ যখন আরেক গ্রুপের চাঁদাবাজি ফাঁস করে দিতে চায়, তখন তারা প্রতিপক্ষকে মাইনাস করতে ‘গুপ্ত শিবির’ ট্যাগ দেয়। যারা নিজেদের সংগঠনের কর্মীদের বিশ্বাস করতে পারে না, তাদের রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিত। ছাত্রশিবিরে এমন কোনো সন্দেহের সংস্কৃতি নেই।
এশিয়া পোস্ট: আগামী ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন? আপনি নিজে কি আবারও প্রার্থী হচ্ছেন?
এস এম ফরহাদ: ছাত্রশিবির আগামী ডাকসু নির্বাচনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত। আমরা বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও স্বতন্ত্র অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছি। তবে বিএনপির স্বভাবই হলো ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে ভয় পাওয়া। অতীতে আমানুল্লাহ আমান এক বছর মেয়াদের ডাকসুতে পাঁচ বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন।
আমরা আগামী প্যানেলে শুধু জুলাইয়ের পরিচিত মুখ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্ব বুঝে বাস্তব সমস্যা সমাধান করতে পারে এমন সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকেই অগ্রাধিকার দেব। আর আমার সহযোদ্ধা ভিপি সাদিক কায়েম ভাইকে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইতিমধ্যে দায়িত্ব দিয়েছে।
ব্যক্তিগতভাবে ডাকসুর মেয়াদ শেষ হলে আমি কিছু সময় নিয়ে নিজের জ্ঞানগত ঘাটতিগুলো পূরণ করতে চাই, রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও গভীরভাবে পড়তে চাই এবং আত্মউন্নয়ন করতে চাই। চব্বিশের পর থেকে নিরবচ্ছিন্ন ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে গেছি, তাই বাকি পথচলা মহান আল্লাহর ইচ্ছার ওপরই সঁপে দিয়েছি।
এশিয়া পোস্ট: আগামী ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন? আপনি কি পুনরায় প্রার্থী হচ্ছেন?
এস এম ফরহাদ: ছাত্রশিবির আগামী ডাকসু নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও বাস্তব সমস্যা সমাধান করতে পারে এমন যোগ্য নেতৃত্বকেই আমরা আগামী প্যানেলেও সামনে নিয়ে আসব। আর আমার নিজের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি সংগঠনের সিদ্ধান্ত এবং একাডেমিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তবে ডাকসুর মেয়াদ শেষ হলে ব্যক্তিগতভাবে আমি কিছু সময় নিয়ে পড়াশোনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় মন দিতে চাই। চব্বিশের পর থেকে নিরবচ্ছিন্ন লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে সময় গেছে, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দিয়েছি।







(2)-6182f1.jpg)