logo

‘সালাম’ নিয়ে মুসলমানদের কেন গর্ব করা উচিত

‘সালাম’ নিয়ে মুসলমানদের কেন গর্ব করা উচিত
ইসলামে কুশল বিনিময়ের প্রথম মাধ্যম সালাম দেওয়া-নেওয়া। ছবি: আই-স্টক

ইসলামি সুন্নাহ অনুযায়ী, মুসলমানদের পরস্পরের দেখা হলে সালাম বিনিময় করতে হয়। সালাম হলো, আসসালামু আলাইকুম (তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক)। সালামে ব্যক্তির কল্যাণ কামনা করে আরও কিছু শব্দ যুক্ত করা যায়। সালাম শুধু একটি সম্ভাষণ নয়; বরং এটি মুসলিম পরিচয়, শান্তি ও একত্ববাদের সুদৃঢ় প্রকাশ। এর মাধ্যমে আরেকজন মুসলমানের কল্যাণ কামনা করা হয়। তার জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি চাওয়া হয়। অন্য কোনো ধর্ম বা সংস্কৃতিতে এত অর্থবোধক এবং কল্যাণ কামনা করে অভিবাদন জানানোর নিয়ম নেই।

বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতজন, পরিবারের সদস্য ও সমাজের অন্যান্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে প্রতিটি জনগোষ্ঠীরই কুশল বিনিময় বা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম থাকে। ইসলামের কুশল বিনিময়ের প্রথম মাধ্যম হলো সালাম দেওয়া-নেওয়া।

কেন সালাম দেবেন

অনেকেই কুশল বিনিময়ের ক্ষেত্রে পশ্চিমা রীতির ব্যবহার করেন। ভিন্ন সংস্কৃতি বা ভিনদেশি শব্দের ব্যবহার করেন। মুসলমানদের জন্য সালাম দেওয়া সওয়াবের কাজ। সালাম দেওয়া হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত। মুসলিমদের জন্য ইসলামি সম্ভাষণ ছড়িয়ে দেওয়া ইমানি দায়িত্ব। এতে নিজেদের আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা পায়। প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায় পশ্চিমা সংস্কৃতি বা অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে।

কুশল বিনিময় এবং বিদায় জানানোর জন্য আমাদের চমৎকার একটি রীতি রয়েছে। কিন্তু অনেকেই তা মেনে চলেন না। পারিবারিক বা সামাজিক যোগাযোগের ধরন ও সময়ের ওপর ভিত্তি করে তারা প্রায়ই ‘হাই’, ‘বাই’, ‘গুড মর্নিং’, ‘গুড আফটারনুন’, ‘গুড ইভিনিং’ ও ‘গুড নাইট’ বলেন। কিন্তু মুসলিমদের উচিত, অন্য মুসলমানের সঙ্গে দেখা হলে সালামের মাধ্যমে কুশল বিনিময় করা। এর মাধ্যমে বিদায় জানানো। তবে অন্য ধর্মীয় মানুষের সঙ্গে কুশলের ক্ষেত্রে অন্য শব্দ বলা যেতে পারে।

সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর অনুসারীদের প্রথম যে উপদেশ দিয়েছিলেন তা হলো, ‘হে মানুষ, তোমরা অনাহারীকে খাবার দাও, সালাম (শান্তির বার্তা) ছড়িয়ে দাও, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমে মগ্ন থাকে তখন নামাজ আদায় করো। তাহলে তোমরা শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।’ (সহিহ বুখারি)

আসসালামু আলাইকুম শব্দের অর্থ কী

সালাম আল্লাহ তাআলার পবিত্র নামগুলোর একটি। তাই ইসলামি সালামের গুরুত্ব অন্য যে কোনো সামাজিক সৌজন্যমূলক সম্ভাষণের চেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ।

ধর্মীয় গুরুত্ব ছাড়াও ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে অভিবাদন জানানোর বিষয়টি খুবই চমৎকার। এর অর্থ ‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ এই ধরনের সুন্দর শুভেচ্ছা ও অভিব্যক্তি প্রশংসনীয়।

‘গুডবাই’ বা ‘বাই’ কোনো ধর্মনিরপেক্ষ শব্দ নয়। ‘গুডবাই’ শব্দটি মূলত প্রাচীন অ্যাংলো-স্যাক্সন বাক্য ‘গড বি উইথ ইউ’ (আল্লাহ আপনার সঙ্গে থাকুন) থেকে এসেছে, যা পরবর্তীতে সংক্ষেপে ‘বাই’ হয়েছে।

তাই যারা সালাম বর্জন করে ‘গুডবাই’ বা ‘বাই’ বেছে নেন, তারা প্রকৃতপক্ষে ধর্মনিরপেক্ষ হন না, বরং এতে শুধু ওই শব্দগুলোর উৎপত্তির বিষয়ে তাদের না-জানার কারণ। বা তারা নানা কারণে অন্য সব শব্দ বলতে হয়তো পছন্দ করেন।

সালাম কীভাবে মুসলিমদের ত্মপরিচয় জোরদার করে

মুসলিমরা কোনো অন্ধ অনুকরণকে আঁকড়ে ধরে থাকতে পারে না। কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ বা বিদায়ের সময় তাদের উচিত ভিন্ন সংস্কৃতির অভিবাদনের চেয়ে আসসালামু আলাইকুমকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এর মাধ্যমেই তারা তাদের সাংস্কৃতিক মূল ও ধর্মীয় পরিচয়ে নিজেদের গর্বিত হিসেবে তুলে ধরতে পারে।