logo

ঋণ নিয়ে কোরবানি দেওয়া যাবে?

ঋণ নিয়ে কোরবানি দেওয়া যাবে?
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের অন্যতম ইবাদত ঈদুল আজহার দিনের কোরবানি। এটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এটি মুসলমানদের জন্য ত্যাগ ও আনন্দের পবিত্র উৎসব। হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেছেন। তিনি প্রতি বছরই কোরবানি দিয়েছেন। প্রায় মুসলমানই কোরবানি দিতে চান। কিন্তু আর্থিক সংকটে থাকা অনেক মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, যদি কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না থাকে, তাহলে ঋণ করে কোরবানি দেওয়া যাবে? ঋণ করে কোরবানি করলে বৈধ হবে?

সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়সস্ক মুসলিম যদি কোরবানি ঈদের তিন দিন (১০ জিলহজ সকাল থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগপর্যন্ত) জাকাত পরিমাণ সম্পদের মালিক (সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা এর যে কোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ ব্যবসার পণ্যের মালিক) থাকেন বা হন, তার জন্য কোরবানি ওয়াজিব।

যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য কোরবানি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। ঋণ নিয়ে কোরবানি দেওয়া আবশ্যকীয় নেই। তবে কেউ চাইলে ঋণ করে কোরবানি দিতে পারবে। তবে পরে তা শোধ করে দিতে হবে।

ইমাম ইবনে তাইমিয়াকে (রহ.) এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ঋণ পরিশোধে সক্ষম হলে কোরবানির জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু ঋণ নেওয়া ভালো। তবে এমনটি করা তার ওপর ওয়াজিব নয়।’ (মাজমু ফতোয়া, খণ্ড: ২৬, পৃষ্ঠা: ৩০৫)

শাইখ বিন বাজ (রহ.) বলেন, ‘ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা থাকলে মুসলিম ব্যক্তি ঋণ নিয়ে কোরবানি করলে এতে কোনো আপত্তি নেই।’ (ফতোয়া বিন বাজ, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৭)

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, ‘নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার পরও কারও কাছে যদি কোরবানির দিনগুলোতে নগদ অর্থ না থাকে, তাহলে সে ঋণ করে কোরবানি দিতে পারবে। তবে ঋণ পরিশোধের মানসিকতা থাকতে হবে। নতুবা তার কোরবানি হবে না।’

নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নয়, এমন ব্যক্তিও চাইলে ঋণ নিয়ে কোরবানি দিতে পারবে। তবে পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকতে হবে।

কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর জন্য ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়। তাঁর কাছে নিজেকে সমার্পণ করা হয়। কোরবানি গোশত খাওয়ার নাম নয়। নয় লোক দেখানোর জন্য বেশি মূল্যে পশু ক্রয় করে বাহ্বা ও খ্যাতি কুড়ানোর নাম। কোরবানি করতে হয় শুধু আল্লাহর জন্য। তাঁর সন্তুষ্টি পাওয়ার আশায়। আল্লাহ বলেন, ‘(হে ইবরাহিম) বলুন, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন-মরণ আল্লাহর জন্য। যিনি বিশ্ব জগতের প্রতিপালক’। (সুরা আনয়াম, আয়াত: ১৫২)

কোরবানিতে আল্লাহ শুধু মানুষের নিয়ত বা ইচ্ছা দেখেন। তাকওয়া দেখেন। যার তাকওয়া যত বেশি, সে আল্লাহর নৈকট্য পাবে তত বেশি। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না। আল্লাহর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)