logo

শুক্রবারে মারা গেলে কি কবরের আজাব মাফ হয়

শুক্রবারে মারা গেলে কি কবরের আজাব মাফ হয়
কবর জিয়ারত করলে মুমিনের অন্তর আল্লাহমুখী হয়। ছবি: শাটার স্টক

জুমার দিন যেসব ইবাদত ও আমল করা হয়, সপ্তাহের অন্যান্য দিনে সাধারণত তা করা হয় না। এই ব্যতিক্রম মুসলমানদের আনন্দ দেয়। ইবাদতে প্রাণ সঞ্চার করে। জুমার দিন পেয়ে আনন্দিত হওয়া সওয়াব। এটি সুন্নতও। কারণ এ দিনের গুরুত্ব অনেক। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ দিনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। বিশেষ আমল করতেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দিনটিকে শ্রেষ্ঠ দিন ও ঈদের দিন বলেছেন। আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম দিন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)

এ দিনের বিশেষ ফজিলতের কথা বলতে গিয়ে কেউ কেউ বলেন, জুমার দিন মারা যাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। এ দিন কেউ মৃত্যুবরণ করলে বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবেন? প্রশ্ন হলো, এ বিষয়ে শরিয়ত কী বলে?

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত বা শুক্রবার সন্ধ্যার আগে মারা যাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। এ সময় মারা গেলে কবরের আজাব থেকে বাঁচা যায়। বাঁচা যায় কবরের ফেতনা থেকে। কিন্তু শুক্রবারে মারা যাওয়া ব্যক্তির জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় বা ব্যক্তি বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে, এরকম কোনো কথা কোরআন-হাদিসে নেই। শুক্রবারে যদিও তার কবরে আজাব না হওয়ার কথা রয়েছে, কিন্তু পরবর্তী দিনে আর আজাব হবে না, এ রকম বিষয়ও নেই।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান যদি জুমার দিনে অথবা জুমার রাতে মারা যায়, আল্লাহ তাকে কবরের ফেতনা থেকে রক্ষা করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, সুনানে তিরমিজি, মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ১৩৬৭)

এই হাদিসের আলোকে ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুক্রবারে মারা গেলে বিনা হিসেবে জান্নাত বা কেয়ামত পর্যন্ত কবরের আজাব মাফ; এ কথা বলার সুযোগ নেই।

হানাফি মাজহাবের পণ্ডিত ও সুফি মোল্লা আলি কারি (রহ.) বলেন, জুমার দিন বা রাতে মারা যাওয়া ব্যক্তির কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হয়। তবে কেয়ামত পর্যন্ত আজাব আর ফিরে আসবে না- এ কথার ভিত্তি আমার জানা নেই। (মিনাহুর রাওদিল আজহার ফি শরহি ফিকহিল আকবার, পৃষ্ঠা: ২৯৫-২৯৬)

ইসলামি ফিকাহবিদ ও মুজাদ্দিদ ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) বলেন, জুমার দিন জাহান্নাম উত্তপ্ত করা হয় না। এর দরজা বন্ধ থাকে। জাহান্নামের দারোগার এ দিন অন্য দিনের মতো কাজ থাকে না। এ দিন আল্লাহ যদি কোনো বান্দার মৃত্যু ঘটান, তাহলে ওই বান্দা ওই সুযোগ লাভে ধন্য হয়। (মিরআত, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪৪১)। তবে এর অর্থ এ নয়, মুশরিক ও মুনাফিকরা স্থায়ীভাবে কবর থেকে মুক্তি পাবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কবর হলো আখেরাতের ঘাঁটিগুলোর মধ্যে প্রথম ঘাঁটি। এই ঘাঁটিতে যদি কারও জন্য প্রশ্নোত্তর সহজ করে দেওয়া হয়, এই ঘাঁটিতে যদি কেউ কোনো বড় বিপদে না পড়েন অর্থ্যাৎ সহজে পার পেয়ে যান, তাহলে পরবর্তী ধাপগুলোও তিনি সহজেই উত্তীর্ণ হতে পারবেন, সেই আশা করা যায়।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ১২৫)

জুমার দিন মৃত্যু হওয়া নিঃসন্দেহে ভালো বা শুভ সংকেত। এর মধ্য দিয়ে আখেরাতের প্রতিটি ধাপ তার জন্য সহজ হবে আশা করা যায়। তবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না, জুমার দিন কেউ মারা গেলে তিনি সরাসরি জান্নাতে যাবেন এবং তার কবরের আজাব কেয়ামত পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে সেই মৃত ব্যক্তির জন্য সুধারণা রাখা নৈতিক দায়িত্ব।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ার‌ম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘হাদিসের বর্ণনা মতে, জুমার দিন কেউ মারা গেলে সে কবরের আজাব এবং কবরের প্রশ্নোত্তর থেকে নিরাপদ থাকে। কবরের ফেতনা থেকে সে নিরাপদ থাকে। শুক্রবারে মারা গেলে ব্যক্তি জান্নাতি হবে- এরকম নিশ্চয়তা নেই। কারণ শুক্রবারে অনেক কাফের ও ফাসেকেরও মৃত্যু হয়। শুক্রবার ছাড়া অন্য বারে মারা যাওয়া ব্যক্তি খারাপ- এমন কথা বলারও সুযোগ নেই।’