logo

জুমার দিন গোসলের নির্দিষ্ট কোনো সময় আছে?

জুমার দিন গোসলের নির্দিষ্ট কোনো সময় আছে?
জুমার দিন গোসল করা সুন্নত। ছবি: শাটার স্টক

জুমার নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)

মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন শুক্রবার। এটি আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এ দিনে। এ দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)

জুমার দিন যেসব ইবাদত ও আমল করা হয়, সপ্তাহের অন্যান্য দিনে সাধারণত তা করা হয় না। এই ব্যতিক্রম মুসলমানদের আনন্দ দেয়। ইবাদতে প্রাণ সঞ্চার করে। জুমার দিন পেয়ে আনন্দিত হওয়া সওয়াব। এটি সুন্নতও। কারণ, এ দিনের গুরুত্ব অনেক। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ দিনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। বিশেষ আমল করতেন।

ফজিলতপূর্ণ এ দিনে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বেশ কিছু আমল করতেন। সাহাবিদেরও সেসব আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন। জুমার দিনের অন্যতম আমল হলো পবিত্রতা অর্জন করা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া। গোসল করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জুমার দিন গোসল করে আতর ব্যবহারের পর ভালো পোশাক পরে নামাজের উদ্দেশে বের হয়, (মসজিদে গিয়ে একসঙ্গে থাকা) দুজনের মাঝে গিয়ে না বসে মনোযোগের সঙ্গে ইমামের খুতবা শোনে, ওই ব্যক্তির এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৭)

আরেক হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরে তার কাছে থাকা সুগন্ধি ব্যবহার করে জুমার নামাজে আসে। অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না গিয়ে নির্ধারিত নামাজ আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ থাকে। তাহলে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুমার দিন থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সব সগিরা গোনাহের জন্য কাফফারা (ক্ষতিপূরণ) হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৩)

জুমার দিন গোসল করে তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়া সুন্নত। অনেকে জানতে চান, জুমার দিন গোসল করার নির্দিষ্ট কোনো সময় আছে কি না?

ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, জুমার দিন জুমার নামাজের পস্তুতি হিসেবে গোসল করা সুন্নত। জুমার দিন এমন সময় গোসল করা উত্তম যেন গোসলের পর আজানের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে যাওয়া যায়। জুমার দিনের প্রথম ভাগে গোসল করলেও এর মাধ্যমে সুন্নত আদায় হয়ে যাবে।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘জুমার দিন জুমার নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে গোসল করা সুন্নত। ফকিহরা বলেন, জুমার প্রস্তুতি হিসেবে এমন সময় গোসল করা উত্তম যেন অজু-গোসল দিয়েই নামাজ আদায় করা সম্ভব হয়। অবশ্য বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, জুমার নিয়তে দিনের প্রথম ভাগে গোসল করলেও এর দ্বারা সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে পুনরায় গোসল করার প্রয়োজন হবে না।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা: ৫০৪৪; আলবাহরুর রায়েক, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৬৪; রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৬৮)