মহানবী (সা.)-কে স্বপ্ন দেখার আমল

একজন মুমিন-মুসলমানের জীবনে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁকে প্রিয় ও আপন বানাতে না পারলে এ জীবনের কোনো মূল্য নেই। পরিপূর্ণ মুসলমান হওয়ার সুযোগ নেই। সুযোগ নেই জান্নাতে যাওয়ারও। হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ইমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার বাবা-মামা, সন্তান-সন্ততি এবং সব মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫)
যারা ইমান অবস্থায় নবীজিকে দেখেছেন, নবী-রাসুলদের পর তারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ- তারা সাহাবি। সাহাবিরা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন, আল্লাহ তাদেরও প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন।
প্রতিটি মুসলমানের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো মহানবী (সা.)-কে স্বপ্নে দেখা। তাঁকে স্বপ্নে দেখতে পারার চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে। তাঁকে স্বপ্নে দেখলে জান্নাত ওয়াজিব বা নিশ্চিত হয়ে যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখল, কেননা শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৫৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে সত্যই আমাকেই দেখল।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যে আমাকে স্বপ্নে দেখবে, সে কখনও জাহান্নামে যাবে না।
অনেকে জানতে চান, মহানবী (সা.)-কে স্বপ্ন দেখার বিশেষ কোনো আমল আছে কি না। ইসলামি শরিয়া মতে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে স্বপ্ন দেখার নির্দিষ্ট কোনো আমল নেই। কোরআন-হাদিসে এমন কোনো আমলের কথাও বর্ণিত হয়নি। তবে আলেমরা এমন কয়েকটি আমলের কথা বলেছেন, যেগুলো করলে তাঁকে স্বপ্ন দেখার সৌভাগ্য অর্জন হতে পারে।
- মহানবী (সা.)-কে স্বপ্ন দেখার সবচেয়ে বড় কাজ হলো, তাঁর প্রেমে নিজেকে পূর্ণ সমর্পণ করা। তাঁর প্রেমে মাতোয়ারা হওয়া। জীবনের সবকিছুর ওপর তাঁকে প্রাধান্য দেওয়া।
- মহানবী (সা.)-এর প্রতিটি সুন্নত সঠিকভাবে আদায় করা। জীবনের সবকিছুতে তাঁর সুন্নাহকে প্রাধান্য দেওয়া।
- অধিকাংশ আলেম বলেছেন, তাঁকে স্বপ্ন দেখার বড় আমল হলো, তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পড়া। দিন-রাতে দরুদ পড়া। অজুসহকারে পবিত্র হয়ে বিছানায় শয়ন করা এবং দরুদ পড়তে পড়তে ঘুমানো। হাদিসে অনেক দরুদের উল্লেখ পাওয়া যায়, সেগুলো পড়া যেতে পারে। সবচেয়ে ছোট ও সহজ দরুদ হলো, ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’।
