logo

দুই বোনকে একসঙ্গে বিয়ে করা কি জায়েজ

দুই বোনকে একসঙ্গে বিয়ে করা কি জায়েজ
যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখেন, তাদেরকে সঠিক সময়ে বিয়ে করতে উৎসাহিত করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

বিয়েবদ্ধ জীবনে রয়েছে শৃঙ্খলা। রয়েছে প্রশান্তি ও আত্মার তৃপ্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাঁর (আল্লাহ) নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)

আল্লাহ আরও বলেন, ‘তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিতদের বিয়ে করিয়ে দাও এবং তোমাদের সৎ ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসীদেরও। যদি তারা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাঁর নিজ অনুগ্রহে ধনী বানিয়ে দেবেন।’ (সুরা নুর, আয়াত: ৩২)

বিয়ে করা নবী-রাসুলদের সুন্নত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো। কারণ, আমি উম্মতের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে গর্ব করব।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৪৬)

যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখেন, তাদেরকে সঠিক সময়ে বিয়ে করতে উৎসাহিত করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। বিয়ের মাধ্যমে মানুষ তার দৃষ্টিকে সংযত করে। বিয়ে করে মানুষ যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষার মাধ্যমে জান্নাতের পথ সুগম করতে সক্ষম হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

ইসলামে বিয়ের বিধান বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। কোরআন ও একাধিক হাদিসে এ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। নারী-পুরুষের জন্য মাহরাম (যাদের সঙ্গে দেখা করা জায়েজ) বিয়ে করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হারাম করা হয়েছে এক স্বামীর সঙ্গে দুই বোনের বিয়ে।

ইসলামে আপন দুই বোনকে একসঙ্গে বিয়ে করা হারাম। আল্লাহ বলেন, ‘আর ‍দুই বোনকে একত্র (বিয়ে) করা (তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে)। তবে অতীতে যা হয়ে গেছে তা ভিন্ন কথা। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ২৩)

হজরত ফাইরোজ আদ-দাইলামি (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললাম, আমি ইমান এনেছি অথচ দুই বোন আমার স্ত্রী হিসেবে আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি তাদের যে কোনো একজনকে তালাক দিয়ে দাও।’ (ইবনে মাজাহ)

উম্মু হাবিবা (রা.) বলেন, ‘আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আমার বোন আবু সুফিয়ানের মেয়েকে বিয়ে করুন। তিনি বলেন, তুমি কি তা পছন্দ কর? আমি বললাম, হ্যাঁ, আমি তো আপনার একমাত্র স্ত্রী নই এবং আমি যাকে সবচেয়ে ভালোবাসি, তার সঙ্গে আমার বোনকেও অংশীদার বানাতে চাই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, এটা আমার জন্য হালাল নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১০৭)

কোরআন-হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, আপন দুই বোনকে একত্রে বিয়ে করা যাবে না। তবে কোনো বোন মারা গেলে তার আপন বোনকে বিয়ে করা যাবে। মনে রাখতে হবে, একসঙ্গে দুই বোন এক স্বামীর সংসার করতে পারবে না। এটা হারাম।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ার‌ম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘দুই বোনকে একসঙ্গে বিয়ে করা হারাম। এক বোনকে বিয়ে করার পর দ্বিতীয় বোনকে বিয়ে করলে দ্বিতীয় বিয়ে বাতিল হয়ে যায়। দ্বিতীয়টি বিয়েই হয়নি। তাই তাদেরকে পৃথক করে দেওয়া এলাকাবাসীর কর্তব্য।’

কাদের বিয়ে করা যাবে, কাদের বিয়ে করা যাবে না- এর একটি মৌলিক নীতি দিয়েছে ইসলাম। যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম, তাদের তালিকা এখানে দেওয়া হলো-

১. মা- তেমনিভাবে দাদি, নানি ও তাদের ওপরের সবাই।

২. বাবার স্ত্রী- বাবা মারা গেলে বা তালাক দিলেও (বাবার স্ত্রী বা সৎমা) বিয়ে করা যাবে না। এটি সন্তানের জন্য বৈধ নয়। জাহেলি যুগে এই ধরনের বিয়ে প্রচলিত ছিল, কিন্তু ইসলামে এই বিয়ে হারাম।

৩. মেয়ে- নিজের মেয়ে, ছেলের মেয়ে, মেয়ের মেয়ে ও তাদের গর্ভজাত কন্যাসন্তান।

৪. বোন- সহোদর, বৈমাত্রেয় (সৎমায়ের মেয়ে) ও বৈপিত্রেয় (সৎবাবার মেয়ে) বোন।

৫. ফুফু- বাবার সহোদর বোন এবং বাবার বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন।

৬. যে স্ত্রীর সঙ্গে দৈহিক মিলন হয়েছে, তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বামীর ঔরশজাত কন্যাসন্তান, স্ত্রীর আপন মা, নানি শাশুড়ি ও দাদি শাশুড়ি।

৭. খালা- মায়ের সহোদর বোন এবং মায়ের বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন।

৮. ভাতিজি- সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে ও তাদের পরের প্রজন্মের কন্যাসন্তান।

৯. ভাগ্নি- সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে ও তাদের পরের প্রজন্মের কন্যাসন্তান।

১০. দুধ মেয়ে- (স্ত্রীর দুধ পান করেছে এমন), সেই মেয়ের মেয়ে, দুধছেলের মেয়ে ও তাদের পরের প্রজন্মের কোনো কন্যাসন্তান এবং দুধছেলের স্ত্রী।

১১. দুধ মা এবং তার দিকের খালা, ফুফু, নানি, দাদি ও তাদের ঊর্ধ্বতন নারীরা।

১২. দুধ বোন, দুধ বোনের মেয়ে, দুধ ভাইয়ের মেয়ে এবং তাদের গর্ভজাত যে কোনো কন্যাসন্তান। অর্থাৎ দুধ সম্পর্ককে রক্তসম্পর্কের মতোই গণ্য করতে হবে।

১৩. ছেলের স্ত্রী।

১৪. এমন দুই নারীকে একসঙ্গে স্ত্রী হিসেবে রাখা যাবে না, যাদের একজন পুরুষ হলে তাদের মধ্যে বিয়ে বৈধ হতো না। যেমন- স্ত্রীর বোন, খালা, ফুফু।

রায়হান রাশেদ

সম্পাদনা

রায়হান রাশেদ

সহ-সম্পাদক | এশিয়া পোস্ট