কুনুতে নাজেলার উচ্চারণ ও অর্থ, পড়ার নিয়ম

কুনুতে নাজেলা একটি বিশেষ দোয়া। বিপদ থেকে মুক্তির জন্য কুনুতে নাজেলা পড়ার নিয়ম রয়েছে। শত্রুর থেকে রক্ষা, শত্রুর জন্য সুপথ কামনা অথবা তার ধ্বংস কামানায় কুনুতে নাজেলা পড়া হয়। বিশেষ করে কঠিন বিপদ, যুদ্ধের সময় বা এমন বিপদ সংকুল পরিস্থিতিতে কুনুতে নাজেলা পড়া মুস্তাহাব।
জীবন চলার পথে আমরা নানাবিধ সংকট ও বিপদের সম্মুখীন হই। বিপদ এলে অনেকেই ভেঙে পড়ি। বিপদ ও সংকট থেকে এগিয়ে যাওয়ার বড় এক উপায় হতে পারে কুনুতে নাজেলা। প্রাণের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিপদ দেখা কুনুতে নাজেলা পড়তেন। হাদিসে এসেছে, হজরত মুহাম্মদ (সা.) মুসলিমদের ওপর বিপদ দেখা দিলে কুনুতে নাজেলা পড়তেন এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে দোয়া করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৫৬৩)
মুসলমানদের বিপদ বা দুর্যোগকালে ফজরের নামাজে কুনুতে নাজেলা পড়ার নিয়ম রয়েছে। (এলাউস সুনান, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৮১)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিপদের সময় ফজরের নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে রুকু থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন সময় কুনুতে নাজেলা পড়েছেন।
আনাস (রা.) বলেন, ‘নবী (সা.) কোনো এক প্রয়োজনে ৭০ জন সাহাবিকে (এক জায়গায়) পাঠালেন, যাদের কারি বলা হতো। বনি সুলাইম গোত্রের দুটি শাখা—রিল ও জাকওয়ান বিরে মাউনা নামক একটি কূপের কাছে তাদেরকে আক্রমণ করলে তারা বললেন, আল্লাহর কসম, আমরা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করতে আসিনি। নবী (সা.)-এর নির্দেশিত একটি কাজের জন্য এ পথ দিয়ে যাচ্ছি। এরপরও তারা তাদের হত্যা করল। তাই নবী (সা.) এক মাস পর্যন্ত ফজর নামাজে তাদের জন্য বদদোয়া করলেন। এভাবেই কুনুত পড়া শুরু হয়। (বর্ণনাকারী বলেন, এর আগে আমরা) কখনো আর কুনুত (এ নাজেলা) পড়িনি। আবদুল আজিজ (রহ.) বলেন, এক ব্যক্তি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, কুনুন কি রুকুর পর পড়তে হবে না কিরাত শেষ করে পড়তে হবে? উত্তরে তিনি বললেন, না, কিরাত শেষ করে পড়তে হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৭৮৭)
কুনুতে নাজেলা কেন পড়বেন
কুনুতে নাজেলা শুধু নিজের বিপদ থেকে মুক্তির জন্য নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর সমষ্টিগত রক্ষা ও আল্লাহর সাহায্য লাভের একটি মাধ্যম। সব ধরনের বিপদ থেকে মুক্তির জন্য কুনুতে নাজেলা পড়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিরা কুনুতে নাজেলা পড়তেন।
কুনুতে নাজেলা পড়ার নিয়ম
ফজরের নামাজের ফরজের দ্বিতীয় রাকাতে রুকু থেকে উঠে ইমাম আওয়াজ করে কুনুতে নাজেলা পড়বেন, এ সময় মুসল্লিরা আস্তে আস্তে আমিন বলবেন। দোয়া শেষে নিয়ম অনুযায়ী নামাজের অবশিষ্ট সেজদা, শেষ বৈঠক ইত্যাদির মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন। (এলাউস সুন্নাস, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৮১)
কুনুতে নাজেলা পড়ার সময় হাত বেঁধে রাখাই উত্তম। তবে কোনো কোনো ফিকাহবিদ হাত ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন।
কুনুতে নাজেলা
اَللّٰهُمَّ اهْدِنِيْ فِيْمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِيْ فِيْمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِيْ فِيْمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِيْ فِيْمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِيْ شَرَّمَا قَضَيْتَ؛ إِنَّكَ تَقْضِىْ وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَوَإنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَّالَيْتَ، وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাহ দিনি ফিমান হাদাইতা, ওয়া আ ফিননি ফিমান আ ফাইতা, ওয়া তাওয়াল্লানি ফিমান তাওয়াল্লাইতা, ওয়া বারিক লি ফিমা আতাইতা ওয়াকিনি শাররা মা কাদাইতা, ইন্নাকা তাকদি ওয়া লা ইউকদা আলাইকা। ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াজিল্লু মাও ওয়া লাইতা, ওয়া লা ইয়িজ্জু মান আদাইতা। তাবারাকতা রাব্বানা ওয়া তাআ লাইতা।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি যাদেরকে সুখদায়ক সৎ পথ প্রকৃত ইসলামের অনুগামী করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি যাদেরকে সুখশান্তিপূর্ণ মঙ্গলময় জীবন দিয়েছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি যাদেরকে সব প্রকার কল্যাণ প্রদানের সঙ্গে সাহায্য করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি আমাকে যেসব মঙ্গলদায়ক জিনিস দিয়েছেন, সেগুলোকে আমার জন্য অধিকতর মঙ্গলদায়ক করুন। আপনি যে ফায়সালা করেছেন, তার অমঙ্গল থেকে আমাকে রক্ষা করুন। কেননা সব জগতের সঠিক পরিচালনার জন্য যে ফায়সালা আপনি করেছেন, সেটাই সঠিক ফায়সালা। তাই আপনার ফায়সালার ওপরে আর কোনো প্রকারের সঠিক ফায়সালা নেই। আপনি যাকে ভালো বাসবেন, সে কোনো দিন অপমানিত হতে পারে না। আর আপনি যার জন্য অমঙ্গল নির্ধারণ করবেন, সে কোনো দিন শক্তিশালী হতে পারবে না। হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি মহাকল্যাণময় এবং মহামহিমান্বিত।



