গরমের কারণে হাতা ভাঁজ করে নামাজ পড়া যাবে?

নামাজ ফরজ ইবাদত। উত্তম পোশাকে নামাজ আদায় করা ইমানি দায়িত্ব। আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান, প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা (সুন্দর পোশাক-পরিচ্ছদ) গ্রহণ করো।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩১)
নামাজের সময় সতর ঢেকে রাখা আবশ্যক। সতর ঢাকা না থাকলে নামাজ হবে না। তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় কোনো ব্যক্তির সতরের কোনো অংশ খোলা থাকলে নামাজ ভেঙে যাবে। পুরুষদের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত। নামাজের সময় নারীদের পুরো শরীর সতর। তবে চেহারা, দুই হাতের কবজি পর্যন্ত এবং দুই পায়ের পাতা খোলা থাকতে পারবে।
নামাজের সময় সুন্দর শালীন পোশাক পরার কথা হাদিসে বলা হয়েছে। এমন পোশাক পরে নামাজ পড়া উচিত, যার মাধ্যমে পুরো শরীর, হাত-পা ঢাকা থাকে।
জামার হাত গুটিয়ে বা ভাঁজ করে নামাজ না পড়ার প্রতি হাদিসে উৎসাহিত করা হয়েছে। জামার হাতা ভাঁজ করে বা গুটিয়ে নামাজ পড়া মাকরুহ। তবে নামাজ আদায় করলে নামাজ হয়ে যাবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে সাতটি অঙ্গের ওপর সেজদা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কপাল—এ বলে তিনি হাত দিয়ে নাকের দিকে ইশারা করলেন; দুই হাত দুই পা (দুই হাঁটু) এবং দুই পায়ের পার্শ্বদেশ (পায়ের আঙুলগুলো)। আমি (অর্থাৎ আমরা) যেন চুল ও কাপড় ধরে না রাখি এ নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৯০)
সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাকার ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘এ বিষয়ে আলেমরা একমত যে, জামা বা হাতা গোটানো অবস্থায় নামাজ পড়া নিষেধ। (শরহুল নববি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২০৯)
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, জামার হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া মাকরুহ। এটা হাদিসের নিষিদ্ধ স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী কাপড় না রাখার অন্তর্ভুক্ত।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘পাঞ্জাবি, শার্ট বা জামার হাতা ভাঁজ করে নামাজ পড়া জায়েজ নেই। হাতা ভাঁজ করে নামাজ পড়া মাকরুহ। তবে হাতা ভাঁজ করে নামাজ পড়লে নামাজ হয়ে যাবে। নামাজের সময় জামার হাত ভাঁজ করা যাবে না। হাতা ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে নামাজে দাঁড়াতে হবে।’
.png)

