logo

স্বামী কোরবানি দিলে স্ত্রীর পক্ষ থেকে আদায় হবে?

স্বামী কোরবানি দিলে স্ত্রীর পক্ষ থেকে আদায় হবে?
ছবি: সংগৃহীত

কোরবানি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আল্লাহ তাআলার নিদর্শনও। কোরবানির বিধান নাজিল হওয়ার পর প্রতিবারই হজরত মুহাম্মদ (সা.) কোরবানি দিয়েছেন। তাই সামর্থ্যবান মুসলমানরা অবশ্যই কোরবানি দেবেন। সুযোগ থাকলে নিজের পক্ষ থেকে আদায়ের পাশাপাশি জীবিত বা মৃত স্বজনদের পক্ষ থেকেও কোরবানি করবেন।

সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়সস্ক মুসলিম যদি কোরবানি ঈদের তিন দিন (১০ জিলহজ সকাল থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগপর্যন্ত) জাকাত পরিমাণ সম্পদের মালিক (সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা এর যে কোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ ব্যবসার পণ্যের মালিক) থাকেন বা হন, তার জন্য কোরবানি ওয়াজিব। যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য কোরবানি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।

সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি না করা জঘন্য অপরাধ। এমন ব্যক্তিদের ঈদগাহে আসাই উচিত নয় বলে সতর্ক করেছেন নবী (সা.)। কোরবানির গুরুত্ব তুলে ধরে আল্লাহ বলেন, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৬)

সামর্থ্যবান সবার ওপরই কোরবানি ওয়াজিব। একান্নভুক্ত পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সামর্থ্যবান হলে সবার পক্ষ থেকে কোরবানি আদায় করতে হবে। কোরবানি কোনো পারিবারিক ইবাদত নয় যে সবার পক্ষ থেকে একজন পালন করবে অথবা পরিবারের পক্ষ থেকে শুধু মুরব্বি আদায় করবে। সামর্থ্যবান সবাইকেই কোরবানি করতে হবে।

সামর্থ্যবান নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব। তাকে কোরবানি আদায় করতে হবে। স্বামীর কোরবানি স্ত্রীর জন্য যথেষ্ট হবে না। তবে স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে স্বামী তার পক্ষ থেকে কোরবানি করতে পারবে। স্বামী, পিতা বা পুরুষ অভিভাবকের উচিত নারীর কোরবানির ব্যবস্থা করে দেওয়া। কারণ, অনেক নারীর পক্ষে কোরবানির ব্যবস্থাপনা কষ্টকর। নারী আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান না হলেও পুরুষ অভিভাবক নিজের কোরবানির পাশাপাশি নারীর পক্ষ থেকে কোরবানি করতে পারেন। স্বামীও নিজের কোরবানির পাশাপাশি স্ত্রীর পক্ষ থেকে কোরবানি করতে পারেন।

হাদিসে আছে, ‘আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমরা মিনায় থাকাকালে আমার কাছে গরুর গোশত নিয়ে আসা হলো। জানতে চাইলা, এটা কী? লোকজন বলল, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গরু কোরবানি করেছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২২৮)