Advertisement

টাখনুর নিচে কাপড় থাকলে নামাজ হবে?

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
টাখনুর নিচে কাপড় থাকলে নামাজ হবে?
নামাজ পড়ছেন যুবক। ছবি: সংগৃহীত

অনেকে প্যান্ট, পায়জামা, লুঙ্গি টাখনুর নিচে পরে থাকেন, এটি ইসলামে নাজায়েজ। কেউ কেউ টাখনুর নিচে কাপড় নিয়েই নামাজ আদায় করেন। এমনটি করা উচিত নয়। এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

Advertisement

ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাধারণ অবস্থায় এবং বিশেষভাবে নামাজ অবস্থায় টাখনু ঢেকে প্যান্ট, পায়জামা, লুঙ্গি, জুব্বা পরা থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। অবশ্য কাজটি অন্যায় হলেও নামাজ আদায় হয়ে যাবে। এ কারণে নামাজ নষ্ট হবে না।

নামাজে টাখনুর নিচে কাপড় রাখা অধিকতর অন্যায় কাজ। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘তিনি এক বেদুঈনকে দেখলেন যে, সে তার লুঙ্গি (টাখনু গিরার নিচে) ঝুলিয়ে নামাজ আদায় করছে। তিনি বললেন, যে নামাজে লুঙ্গি (কাপড় টাখনু গিরার নিচে) ঝুলিয়ে রাখে, সে যেন আল্লাহর হালাল-হারামের সীমারেখার কোনো তোয়াক্কা করল না।’ (আলমুজামুল কাবির, তাবরানি, বর্ণনা: ৯৩৬৮)

হাদিসে আছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘লুঙ্গির যে অংশ টাখনুর নিচে থাকবে, তা জাহান্নামে যাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭৮৭)

যে অহংকার করে টাখনুর নিচে কাপড় পরে, আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে অহংকার বশে তার লুঙ্গি মাটির সঙ্গে টেনে নিয়ে বেড়াবে, কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দৃষ্টি দেবেন না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬৬৫)

আবু জর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহতাআলা তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা তো বলবেনই না, বরং তাদের দিকে তাকিয়েও দেখবেন না। এমনকি তিনি তাদের গুনাহ থেকে পবিত্র করবেন না। বরং তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তারা কারা? এদের তো সর্বনাশ হবে। তাদের বাঁচার কোনো রাস্তা নেই। মহানবী (সা.) এ কথা তিনবার বলেছেন। তারা হলো—এক. যে টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরে। দুই. যে মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রি করে। তিন. যে কারও উপকার করে আবার খোটা দেয়।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ২৫৬৩)

ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘প্যান্ট, পায়জামা, লুঙ্গি, জুব্বা টাখনু গিরার নিচে ঝুলিয়ে পরা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও গুনাহ। সাধারণ অবস্থায় এবং বিশেষভাবে নামাজ অবস্থায় টাখনু ঢেকে প্যান্ট, পায়জামা, লুঙ্গি, জুব্বা পরা থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। অবশ্য কাজটি অন্যায় হলেও নামাজ আদায় হয়ে যাবে। এ কারণে নামাজ নষ্ট হবে না।’ (ফয়জুল বারি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৩৭৩; শরহু শিরআতিল ইসলাম, পৃষ্ঠা: ১১৭)