logo

হাফ হাতা পোশাক পরে নামাজ আদায় করলে হবে কি

হাফ হাতা পোশাক পরে নামাজ আদায় করলে হবে কি
প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। ছবি: তারবিয়াহ ইনস্টিটিউট

নামাজ ফরজ ইবাদত। প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। কোরআনে নামাজের সুস্পষ্ট আদেশ করা হয়েছে এবং বারবার বিভিন্নভাবে করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘এবং তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত আদায় করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৩)

আরেক জায়গায় আল্লাহ বলেছেন, ‘এবং তোমরা আল্লাহর পথে সাধনা করো, যেমন সাধনা করা উচিত। তিনি তোমাদের মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কোনো সংকীর্ণতা আরোপ করেননি। তোমাদের বাবা ইবরাহিমের দ্বীন (আঁকড়ে ধরো)। তিনিই তোমাদের নাম রেখেছেন মুসলিম, আগেও এবং এ কিতাবেও, যাতে রাসুল তোমাদের জন্য সাক্ষী হয় আর তোমরা (অন্যান্য) মানুষের জন্য সাক্ষী হও। সুতরাং তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত আদায় করো এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে ধরো। তিনিই তোমাদের অভিভাবক। তিনি কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৭৮)

নামাজে দাঁড়াতে হয় পূত-পবিত্র হয়ে, সতেজ ও প্রফুল্ল মনে। তাই গুরুত্বসহকারে পরিপাটি হয়ে উত্তম পোশাকে নামাজ আদায় করা উচিত। আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান, প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা (সুন্দর পোশাক-পরিচ্ছদ) গ্রহণ করো।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩১)

যে পোশাক পরিধানের পর সতরের আকৃতি পোশাকের ওপরে ফুটে উঠে না, তা নামাজে পরা যাবে। তবে নামাজে শুধু সতর আবৃত করতেই নির্দেশ দেওয়া হয়নি, বরং সাজসজ্জার পোশাকও পরিধান করতে বলা হয়েছে।

ফিকাহবিদরা বলেন, হাফ হাতা শার্ট, গেঞ্জি বা জামার হাতা উল্টিয়ে ওই জামা পরে নামাজ পড়লে নামাজ হয়ে যাবে। নামাজ না হওয়ার কোনো কারণ নেই।

পুরুষের জন্য নামাজের সময় শরীরের যে অংশ ঢেকে রাখা ফরজ, তা হলো নাভির নিচ থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত। এই অংশটুকু ঢাকা থাকলে নামাজ আদায় হয়ে যাবে।

তবে নামাজের সময় কাঁধ ঢেকে রাখা মুস্তাহাব। যদি কেউ স্যান্ডো গেঞ্জি বা এমন কোনো পোশাক পরে নামাজ আদায় করেন, যেখানে কাঁধ খোলা থাকে, তাহলে তার নামাজ মাকরুহ হবে। এই পোশাকে নামাজ আদায় করা অনুত্তম।

নারীদের ক্ষেত্রে থ্রি-কোয়ার্টার হাতাবিশিষ্ট জামা পরে নামাজ পড়া অবস্থায় হাতের খালি অংশ যদি এক রোকন পরিমাণ (তিন তাসবিহ পরিমাণ) বা তার চেয়ে বেশি সময় অনাবৃত থাকে, তাহলে নামাজ সহিহ হবে না। কেননা নামাজে নারীদের হাত কব্জি পর্যন্ত ঢেকে রাখা আবশ্যক।

ছোট হাতাবিশিষ্ট জামা পরে নামাজ পড়তে চাইলে বড় ওড়না বা হিজাব পরিধান করা জরুরি। যেন হাতের খোলা এ অংশ নামাজে অনাবৃত না হয়ে যায় এবং নামাজ নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি না হয়। (ফাতাওয়া তাতারখানিয়া, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৩, রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪০৯)