ইমামের পেছনে নামাজ পড়লে সুরা ফাতিহা পড়া যাবে?

একাকী নামাজ আদায়কারীর জন্য নামাজের প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতিহা পড়া ফরজ। অন্য দুই রাকাতে সুরা ফাতিহা পড়া সুন্নত। তবে ইমামের পেছনে নামাজ আদায়কারীর জন্য সুরা ফাতিহা পড়তে হবে কি না, এ বিষয়ে ইমামদের মাঝে মতভেদ রয়েছে।
ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, জামাতে নামাজ আদায়কারীর জন্য ইমামের কেরাতই মুক্তাদির (ইমামের অনুসরণকারী) জন্য যথেষ্ট। যিনি জামাতে নামাজ পড়ছেন, তার জন্য আলাদা করে সুরা ফাতিহা পড়ার প্রয়োজন নেই। ইমামের কেরাতই তার জন্য যথেষ্ট।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর দলিল হলো কোরআনের আয়াত, যে আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন চুপ থেকে মনোযোগসহকারে শুনো।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ২০৪)। এই আয়াতে আল্লাহ কোরআন তেলাওয়াতের সময় নীরব থাকার আদেশ দিয়েছেন। ইমাম আবু হানিফার মতে, এই নির্দেশ নামাজেও প্রযোজ্য।
হাদিসে আছে, ‘যার ইমাম আছে, তার জন্য ইমামের কেরাতই যথেষ্ট।’ (মুয়াত্তা মালেক, হাদিস: ১২৪)
হানাফি মাজহাবের কিছু ইমাম এবং অনেক ইমামের মতে, ইমাম যখন জোরে কেরাত পড়বেন, যেমন ফজর, মাগরিব ও এশার নামাজ—তখন মুক্তাদি চুপ থাকবে। সুরা ফাহিতা বা অন্য কোনো কেরাত পড়বে না। যেসব নামাজে ইমাম কেরাত আস্তে পড়েন, যেমন জোহর ও আসর—সেসব নামাজে মুক্তাদি সুরা ফাতিহা পড়বে।
কিছুসংখ্যক ইমামের মতে, ইমাম আস্তে পড়ুক আর জোরে পড়ুক—সর্বাবস্থায় ইমামের পেছনে কেরাত পড়তে হবে। প্রত্যেকে নিজের কেরাত পড়বে। তাদের দলির হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সুরা ফাতিহা ছাড়া নামাজ হয় না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৫৬)
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.)-এর মতে, মুক্তাদি সর্বাবস্থায় সুরা ফাতিহা পড়বে (ইমামের কেরাত শুনলেও)। তাদের দলিলও ‘সুরা ফাতিহা ছাড়া নামাজ হয় না’ হাদিসটি।
হানাফি মাজহাব অনুসারীরা ফরজ নামাজে ইমামের পেছনে নীরব থাকবেন। সুরা ফাতিহা বা কেরাত পড়েবন না। নফল নামাজে বা একাকী নামাজ পড়লে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা মিলাবেন। ভুলে কেরাত পড়ে ফেললে নামাজ ভঙ্গ হবে না, তবে পরবর্তীতে এড়িয়ে চলতে হবে।
ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের সময় সুরা ফাতিহা পড়ার বিষয়ে ইমামদের যে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি মতই বিশুদ্ধ। এখানে কোনো মতামতকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।



