পিপাসার্তকে পানি পান করালে যে সওয়াব পাবেন

মহান আল্লাহর নেয়ামত পানি। পানি শুধু মানুষের দৈহিক পিপাসা নিবারণের মাধ্যম নয়, বরং এর মাধ্যমে পশু-পাখির জীবনধারণ নিশ্চিত হয়। জমিনে সজীবতা ফিরে আসে। গাছে ফল হয়।
পানির আরেক নাম জীবন। পানি ছাড়া মানুষ, পৃথিবীর সৃষ্টিজীব এবং পৃথিবীর টিকে থাকা একমুহূর্তও সম্ভব নয়। পিপাসার্ত ব্যক্তিকে পানি পান করানোর মাধ্যমে একজন বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারেন। এর মাধ্যমে তার পাপ মোচনের পথও খুলে যায়।
মানুষকে পানি পান করানোতে যেমন সওয়া আছে, তেমনি সওয়াব পাওয়া যায় প্রাণীকে পানি পান করিয়েও। হাদিসে এমন ঘটনাও বর্ণিত হয়েছে, যেখানে একজন পাপী বান্দা পানি পান করিয়ে আল্লাহর রহমতের অধিকারী হয়েছেন।
মানুষকে পানি পান করানোর বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই কাজকে সর্বোত্তম সদকা বলেছেন। হাদিসে আছে, সাহাবি হজরত সাদ ইবনে উবাদা (রা.) বলেন, ‘(এক দিন) আমি (নবীজিকে) বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, কোন সদকা উত্তম? তিনি বলেন, পানি পান করানো।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৩৬৬৫)
সদকা বিপদাপদ থেকে মুক্ত করে। এর সওয়াব মানুষ পরকালেও পেয়ে থাকে। কাউকে পানি পান করানোর মাধ্যমে সদকার সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পানি পান করানো অপেক্ষা অধিক সওয়াবপূর্ণ সদকা আর নেই।’ (সহিহ আত-তারগিব, হাদিস: ৯৬০)
সাহাবি হজরত সাদ বিন উবাদাহ (রা.) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, উম্মে সাদ মৃত্যুবরণ করেছেন। (তার পক্ষ থেকে) কোন সদকা সর্বোত্তম হবে? তিনি বললেন, পানি পান করানো। বর্ণনাকারী বলেন, তিন একটি কূপ খনন করে বললেন, এটা উম্মে সাদের জন্য ওয়াকফ করা হলো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৬৮৩)
মানুষকে নানাভাবেই পানি পান করানো যেতে পারে। এক গ্লাস পানি বা এক বোতল পানি দিয়েও কারও পিপাসা মেটানো যেতে পারে। এ ছাড়া কূপ, টিউবওয়েল বা পানির ট্যাপ স্থাপন করা যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে বক্তি পানির কূপ খনন করল আর সে কূপ থেকে মানুষ বা কোনো পাখি পানি পান করল, এর বিনিময়ে আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন সওয়াব দেবেন।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস: ১২৯২)
আরেক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আদম সন্তানের দেহে তিনশ ষাটটি হাড় বা গ্রন্থি রয়েছে। এগুলোর প্রতিটির জন্য প্রত্যেক দিন সদকা রয়েছে। প্রতিটি উত্তম কথাই সদকা। এক ভাইয়ের পক্ষ থেকে অন্য ভাইকে সাহায্য করা সদকা। এক ঢোক পানি পান করানো সদকা। পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়াও সদকা।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ৪২২)
পানি পান করানোকে হাদিসে জীবন দানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে এমন স্থানে পানি পান করালো, যেখানে তা সহজলভ্য, সে যেন একটি গোলামকে দাসত্বমুক্ত করল। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে এমন স্থানে পানি পান করালো, যেখানে তা দুষ্প্রাপ্য, সে যেন তাকে জীবন দান করল।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৪৭৪)


