কোরআনে যে ভূমিকে বরকতময় ও পবিত্র বলা হয়েছে

পৃথিবীর প্রথম ঘর সৌদি আরবের মক্কা নগরীর কাবা। এটি পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল কাবা ঘর আবাদ করেছেন। এটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জায়গা। আল্লাহ তাআলা মক্কা ও মক্কার আশপাশ অঞ্চলসমূহে বিভিন্ন ফলফলাদির সমাহার ঘটিয়েছেন, যা কেয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে। মক্কা ছাড়া পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতে আল্লাহ শাম অঞ্চলকে পবিত্র ও বরকতময় আখ্যা দিয়েছেন। সেসময় শাম বলে ফিলিস্তিন, সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান ও আশপাশের অঞ্চলকে বোঝানো হতো।
শাম অঞ্চলে আল্লাহ তাআলা অনেক নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। কোরআনে অবশ্য সরাসরি শাম শব্দ উল্লেখ করা হয়নি, তবে একাধিক আয়াতে আল্লাহ যে ভূমিকে বরকতময় ও পবিত্র বলেছেন, তাতে ফিলিস্তিনসহ পুরো অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে বলে মতামত দিয়েছেন কোরআনের ব্যাখ্যাকারীরা।
১. বায়তুল মাকদিস ও এর আশপাশের অঞ্চলকে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে বরকতপূর্ণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় ভ্রমণ করিয়েছেন, যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি তাঁকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য, তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ১)
২. হজরত ইবরাহিম (আ.) ও লুত (আ.)-কে আল্লাহ তাআলা ফিলিস্তিনে হিজরতের কথা বলেছিলেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি তাঁকে (ইবরাহিম) ও লুতকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলাম সেই ভূখণ্ডে, যেখানে আমি বিশ্ববাসীর জন্য কল্যাণ রেখেছি।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৭১)
৩. মুসা (আ.)-এর সময় বনি ইসলাইলকে ফিলিস্তিনে প্রবেশের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। মুসা (আ.) তাদের বলেছিলেন, ‘হে আমার জাতি, তোমরা পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করো, যা আল্লাহ তোমাদের জন্য লিখে দিয়েছেন এবং তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যেয়ো না, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ২১)
৩. সুলায়মান (আ.) ছিলেন পৃথিবীর পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের শাসক। তাঁর অধীন ভূমিকে বরকতময় অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাখ্যাকাররা তা শামের (সিরিয়া) পবিত্র ভূমি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি সুলায়মানের জন্য অনুগত করে দিয়েছিলাম প্রবল হাওয়াকে, যা তার নির্দেশে প্রবাহিত হতো সেই দেশের (শাম) দিকে, যেখানে আমি বরকত রেখেছি। আর আমি প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কেই অবগত ছিলাম।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ২১)
৪. আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদের এবং যেসব জনপদে বরকত দান করেছিলাম, তাদের মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপিত করেছিলাম, (দূর থেকে) দৃশ্যমান বহু জনপদ এবং তার মধ্যে ভ্রমণকে মাপাজোখা বিভিন্ন ধাপে বণ্টন করে দিয়েছিলাম (এবং বলেছিলাম) এসব জনপদে দিনে ও রাতে নিরাপদে ভ্রমণ করো।’ (সুরা সাবা, আয়াত: ১৮)। এর দ্বারা শাম ও ফিলিস্তিন অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এ অঞ্চলকে বাহ্যিকভাবে মনোরম ও সবুজ-শ্যামল করেছেন। বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন নবী-রাসুলদের ভূমি হিসেবেও।
৫. আল্লাহ বলেন, ‘আর যে জাতিকে দুর্বল মনে করা হতো আমি তাদেরকে জমিনের পূর্ব ও তার পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানালাম, যেখানে আমি বরকত দিয়েছি এবং বনি ইসরাইলের ওপর তোমার রবের উত্তম বাণী পরিপূর্ণ হলো। কারণ তারা ধৈর্য ধারণ করেছে। আর ধ্বংস করে দিলাম যা কিছু তৈরি করেছিল ফেরাউন ও তার কওম এবং তারা যা নির্মাণ করেছিল।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৩৭)। এখানে বরকতময় ভূমি বলে শাম ও ফিলিস্তিন অঞ্চল বোঝানো হয়েছে।
