যেসব জায়গায় আলহামদুলিল্লাহ বলা উত্তম

প্রত্যেক ভালো কাজের শুরু ও শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা মুস্তাহাব। খাবার পর, হাঁচির পর, বিয়ের প্রস্তাব পেলে, আকদ সম্পন্ন হলে এবং শৌচাগার থেকে বের হওয়ার পরও আলহামদুলিল্লাহ বলা মুস্তাহাব। অর্থ্যাৎ জীবনের প্রত্যেকটি কাজে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে। তাঁর প্রশংসা গাইতে হবে। প্রশংসার সর্বোত্তম বাক্য হচ্ছে- আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন বা সমস্ত প্রশংসা উভয় জগতের প্রতিপালনক আল্লাহর জন্য।
আসওয়াদ বিন সারিয়া (রা.) বলেন, ‘একবার আমি নবীজি (সা.)-কে বললাম, আমি আল্লাহ তাআলার শানে কিছু প্রশংসা বাক্য বলতে চাই যদি আপনার অনুমতি থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা নিজের প্রশংসা অনেক পছন্দ করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, নাসায়ি)
খুতবায় আল্লাহর প্রশংসা করা জরুরি
জুমাসহ সব খুতবায় আল্লাহর প্রশংসা একটি রুকন। এছাড়া খুতবা শুদ্ধ হয় না। কমপক্ষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে হবে। এতটুকু পরিমাণ বলা ওয়াজিব। উত্তম হলো, আরও বেশি প্রশংসা করা। যার বিস্তারিত আলোচনা ফিকহের কিতাবাদিতে আছে। তবে এগুলো আরবি ভাষায় হতে হবে।
দোয়ার শুরু ও শেষে আলহামদুলিল্লাহ
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন বলে দোয়া শেষ করা মুস্তাহাব। অনুরূপভাবে তা বলে দোয়া শুরু করাও মুস্তাহাব। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের দোয়া শেষ হবে আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিনের মাধ্যমে।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত: ১০)
পছন্দনীয় বিষয় অর্জন হলে আলহামদুলিল্লাহ বলা
নেয়ামত লাভ ও অপছন্দনীয় বিষয় থেকে বেঁচে গেলে ‘আলহামদুলিল্লাহ বলা মুস্তাহাব; তা নিজের হোক বা সাথির অথবা অন্য মুসলমানের। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণি, মেরাজের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে দুটি পাত্র আনা হলো, একটি ছিল মদের, অপরটি দুধের। নবীজি (সা.) উভয় পাত্রের দিকে তাকিয়ে দুধের পাত্রটি গ্রহণ করলেন। তখন জিবরিল (আ.) বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি আপনাকে ফিতরাতের (প্রকৃত স্বভাবজাত বিষয়ের) পথ-প্রদর্শন করেছেন। যদি আপনি মদের পেয়ালা গ্রহণ করতেন তাহলে আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩৯৪)
প্রিয়জনের মৃত্যুতেও আলহামদুলিল্লাহ বলা
হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন কারও সন্তান মারা যায়, তখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের বলেন, তোমরা আমার বান্দার সন্তানকে নিয়ে এসেছ? তারা জবাব দেন, জি, হ্যাঁ। আবার আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা তার কলিজার টুকরাকে নিয়ে এসেছ? তারা বলেন, জি, হ্যাঁ। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা তখন কী বলেছে? তারা বলেন, সে আপনার প্রশংসা করেছে এবং ইন্নালিল্লাহ বলেছে। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটা ঘর নির্মাণ কর এবং তার নাম রেখো ‘বাইতুল হামদ’ (প্রশংসার ঘর)।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০২১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন তুমি আলহামদুলিল্লাহ বলে আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করবে তখন আল্লাহ তাআলা নেয়ামতে বরকত দেবেন। এক হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে, বান্দা যখন নামাজে ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ বলে তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে।’ (ইমাম নববি (রহ.)-এর আল-আযকার বই থেকে সংরক্ষিত ও সংক্ষেপিত)।
