logo

যে ছোট সুরা ১০ বার পড়লে জান্নাতে ঘরের মালিক হওয়া যায়

যে ছোট সুরা ১০ বার পড়লে জান্নাতে ঘরের মালিক হওয়া যায়
কোরআন তেলাওয়াত করছেন দুই কিশোর। ছবি: পিন্টারেস্ট

সুরা ইখলাস পবিত্র কোরআনের ১১২তম সুরা। এটি মক্কায় অবতীর্ণ। এর আয়াত সংখ্যা চারটি। ১৫ অক্ষরের এই ছোট্ট সুরার মধ্যে রয়েছে আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞা ও পবিত্র সত্তার ব্যাখ্যা। ইখলাস অর্থ গভীর অনুরাগ, একনিষ্ঠতা, খাঁটি আনুগত্য। শিরক থেকে মুক্ত হয়ে তাওহিদ বা এক আল্লাহর ওপর খাঁটি ও নিরেট বিশ্বাসী হওয়াকে ইখলাস বলা হয়।

মুশরিকরা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে আল্লাহর বংশপরিচয় জিজ্ঞেস করেছিল, এর জবাবে এই সুরা নাজিল হয়।

সুরা ইখলাস কোরআনের তিন ভাগের এক ভাগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কোরআনকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। এরপর ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’-কে করেছেন কোরআনের ভাগগুলোর একটি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮১১)

এই সুরা ১০ বার পাঠ করলে পাঠকারীর জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করে দেন আল্লাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ‘কুল হু আল্লাহু আহাদ’ শেষ পর্যন্ত ১০ বার পাঠ করবে, আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য জান্নাতে এক ঘর নির্মাণ করবেন। এ কথা শুনে উমর (রা.) বললেন, তাহলে আমরা বেশি বেশি করে পড়ব হে আল্লাহর রাসুল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহও বেশি দানশীল ও বেশি পবিত্র।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১৫৬১০)

আমাদের জন্য এক রাতে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়া কঠিন কাজ। কিন্তু যে কোনো সময় সুরা ইখলাস পড়লে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়ার সওয়াব পাওয়া যায়। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের কেউ কি এক রাতে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তেলাওয়াত করা দুঃসাধ্য মনে করো?’ এ প্রশ্ন তাদের জন্য কঠিন ছিল। তারা বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের মধ্যে কার সাধ্য আছে এমনটি করার?’ তিনি বললেন, ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (সুরা ইখলাস) কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৭)

হাদিসে আছে, মহানবী (সা.) একবার বলেছেন, ‘তোমরা জমায়েত হও, আমি তোমাদের সামনে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করব। ফলে যাদের পক্ষে সম্ভব তারা জমায়েত হলো। এরপর রাসুল (সা.) বের হয়ে এলেন এবং তেলাওয়াত করে আবার ঘরে গেলেন।’ তখন আমাদের একজন অন্যজনকে বলতে লাগল, ‘মনে হয় আসমান থেকে (এখনই) কোনো সংবাদ এসেছে আর সেজন্যই তিনি ঘরে প্রবেশ করেছেন।’ পরে রাসুল (সা.) বের হয়ে এসে বললেন, আমি তোমাদের বলেছিলাম যে, তোমাদের সামনে কোরআনের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করব। শোনো, সুরা ইখলাস কোরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮১২)

আরবিতে লেখা সুরা ইখলাস। ছবি: ভেকটিজি
আরবিতে লেখা সুরা ইখলাস। ছবি: ভেকটিজি

সুরা ইখলাস অসামান্য মূল্যবান হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, এই সুরায় আল্লাহর গুণ বর্ণনা করা হয়েছে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে একটি মুজাহিদ দলের প্রধান করে জিহাদে পাঠালেন। তিনি নামাজের ইমামতিতে সুরা ইখলাস দিয়ে নামাজ শেষ করতেন। মুজাহিদরা সেই অভিযান থেকে ফিরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খেদমতে বিষয়টি আলোচনা করলে তিনি বললেন, ‘তাকেই জিজ্ঞাসা করো কেন সে এই কাজ করেছে।’ এরপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিলেন, এ সুরায় আল্লাহ তাআলার গুণাবলি রয়েছে। আর তাই এ সুরা তেলাওয়াত আমার বড় পছন্দ।’ তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাআলাও তাকে পছন্দ করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৭২৬)

সুরা ইখলাসের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

আয়াত: ১

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ

উচ্চারণ: কুল হুয়াল্লাহু আহাদ।

অর্থ: বলো, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়।

আয়াত: ২

اللَّهُ الصَّمَدُ

উচ্চারণ: আল্লাহুস সামাদ।

অর্থ: আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন।

আয়াত: ৩

لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ

উচ্চারণ: লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ।

অর্থ: তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি।

আয়াত: ৪

وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ

উচ্চারণ: ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।

অর্থ: আর তাঁর কোনো সমকক্ষও নেই।

রায়হান রাশেদ

সম্পাদনা

রায়হান রাশেদ

সহ-সম্পাদক | এশিয়া পোস্ট