কুকুরের লালা কাপড়ে লাগলে কত বার ধুয়ে পবিত্র করতে হবে?

শরিয়ত অনুমোদিত প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পোষা জায়েজ নেই। শখ করে ঘরে কুকুর রাখা, মানুষের চেয়ে কুকুরের বেশি যত্ন নেওয়া, কুকুরের সঙ্গে মানবীয় সম্পর্ক স্থাপন করা ইসলামে নিষিদ্ধ। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু পাহারা অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর লালনপালন করে, প্রতিদিন ওই ব্যক্তির দুই কিরাত পরিমাণ সওয়াব কমে যায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৭৫)
হাদিসে আছে, এক কিরাত হলো উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৪৬৫০)
শখ করে ঘরে কুকুর রাখা যাবে না। ঘরে কুকুর থাকলে সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে কুকুর আছে, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৫২৫)
শিকার করা, ফসল ও ছাগল-ভেড়া ইত্যাদির সংরক্ষণ, ঘরবাড়ি, দোকান ও অফিস পাহারার জন্য, অপরাধের উৎস সন্ধান ও অপরাধীকে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে কুকুর লালনপালনে কোনো অসুবিধে নেই।
হানাফি মতাদর্শের অনুসারীদের মতে, কুকুরের শরীর নাপাক নয়। কুকুর কারও শরীর বা কাপড় স্পর্শ করলে তা নাপাক হবে না। তবে কুকুরের লালা নাপাক। কুকুর মুখ দিয়ে কারও জামা টেনে ধরলে যদি কাপড়ে লালা লেগে যায়, তবে কাপড় নাপাক হয়ে যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কারও পাত্রে কুকুর মুখ দেবে, সে যেন পাত্রটি সাতবার পানি দিয়ে এবং একবার মাটি দিয়ে ধুয়ে ফেলে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪৮)
কুকুরের লালা কাপড়ে লাগলে ভালোভাবে তিনবার ধুয়ে নিতে হবে। এতে কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘কুকুর যদি কোনো পাত্রে মুখ দেয়, তাহলে সেই পাত্রের জিনিস ফেলে দিয়ে তিনবার ধুয়ে নাও।’ (সুনানে দারাকুতনি, হাদিস: ১৯৬)
ইবরাহিম নাখয়ি (রহ.) বলেছেন, ‘কোনো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে পাত্রটি এ পরিমাণ ধুয়ে নেবে, যাতে তা পরিপূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যায়। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা: ১৮৪৩)
অবশ্য বিভিন্ন হাদিসে এ ক্ষেত্রে সাতবার ধোয়ার কথাও এসেছে। তাই সাতবার ধুয়ে নিলে উত্তম হবে। এ ক্ষেত্রে সম্ভব হলে সঙ্গে সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা আর পাত্র হলে তাতে মাটি ব্যবহার করাও উত্তম হবে। (শরহুল মুনইয়া, পৃষ্ঠা: ১৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৪)
