Advertisement

ইসতেখারা নামাজের নিয়ম ও দোয়া

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ইসতেখারা নামাজের নিয়ম ও দোয়া
ছবি: প্রতীকী

পৃথিবীতে মানুষ কত কিছুর মুখাপেক্ষী। তার কত প্রয়োজন, কত দায়িত্ব। এসব বিষয়ে সে আসমানি সান্ত্বনার ছায়া পেতে পারে ইসতেখারার মাধ্যমে। আল্লাহর ফায়সালার প্রতীক্ষা, আল্লাহর নির্দেশের সামনে নিজেকে সমর্পণ এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হওয়ার অপূর্ব এক অনুশীলন এই ইসতেখারা। ইসতেখারা আরবি শব্দ, অর্থ কোনো জিনিসের ক্ষেত্রে কল্যাণ কামনা করা।

Advertisement

ইসতেখারার মাধ্যমে বান্দা যেন সরাসরি আল্লাহর কাছ থেকে সিদ্ধান্ত পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করে। সাহাবি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘মহানবী (সা.) আমাদেরকে কোরআনের সুরা যেভাবে শেখাতেন, সব বিষয়ে (সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে) সেভাবে ইসতেখারা করতে শিখিয়েছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৬৬)

নতুন কোনো কাজ শুরুর আগে ইসতেখারা করে নেওয়া ভালো। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলে, এ ক্ষেত্রে ইসতেখারার বিকল্প নেই।

সুন্নতের অনুসরণে ইসতেখারা করলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইঙ্গিত দেন। তাই নতুন যে কোনো কাজ কিংবা কাজের সঠিক সিদ্ধান্ত পেতে ইসতেখারা করা যেতে পারে। সুতরাং বিয়েশাদি, চাকরি, ব্যবসা কিংবা বিদেশ সফরের বিষয়ে ইসতেখারা করা উত্তম।

ইসতেখারা করার নিয়ম

ইসতেখারা করা সুন্নত। ইসতেখারার নিয়ম হলো—

১. নামাজের শুরুতে অজু করা।

২. ইসতেখারার উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নামাজ পড়া। নামাজে সুরা ফাতেহার পর যে কোনো সুরা পড়া যায়।

৩. নামাজে সালাম ফেরানোর পর আল্লাহর বড়ত্ব ও মর্যাদার কথা মনে করে একান্ত বিনয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া পড়া।

ইসতেখারা নামাজের নিয়ম

ইসতেখারা নামাজ দুই রাকাত পড়বে। নফল নামাজের মতোই এ নামাজ পড়বে। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। এর জন্য ভিন্ন কোনো নিয়ম নেই। আলাদা নিয়তেরও প্রয়োজন নেই। নফল নামাজের নিয়ত করবে। নামাজ শেষে আল্লাহর প্রশংসা করবে। মহানবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়বে। এরপর ইসতেখারার দোয়া পড়বে।

জাবের বিন আবদুল্লাহ আস-সুলামি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবিদের সব বিষয়ে ইসতেখারা করার শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি তাদের কোরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজের উদ্যোগ নেয়, তখন সে যেন দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে। এরপর দোয়া পড়ে। দোয়াটি পড়ে—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّك تَقْدِرُ وَلَا أقدر وَتعلم وَلَا أعلم وَأَنت علام الغيوب اللَّهُمَّ إِنَّ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي - فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ - فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي - أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ - فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقَدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসতাখিরুকা বি ইলমিকা, ওয়া আসতাকদিরুকা বি কুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাজলিকাল আজিম। ফা ইন্নাকা তাকদিরু ওয়ালা আকদিরু, ওয়া তালামু ওয়ালা আলামু, ওয়া আংতা আল্লামুল গুয়ুব। আল্লাহুম্মা ইন্না কুংতা তালামু আন্না হাজাল আমরা খায়রু লি ফি দিনি ওয়া মাআশি ওয়া আকিবাতি আমরি। (অথবা বলবে) ফি আজিলি আমরি ওয়া আজিলিহি। ফাকদুরহু লি ওয়া ইয়াসসিরহু লি। সুম্মা বারিক লি ফিইহি ওয়া ইন কুংতা তালামু। আন্না হাজাল আমরা (এখানে নিজের কাজের কথা মনে মনে উল্লেখ করবেন) শাররু লি ফি দিনি। ওয়া মাআশি ওয়া আকিবাতি আমরি। ফি আজালি আমরি ওয়া আজিলিহি। ফাসরিফহু আন্নি ওয়াস রিফনি আনহু। ওয়াকদুর লিআল খাইরা হাইসু কানা সুম্মা আরজিনি বিহি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার জ্ঞানের সাহায্যে আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আমি আপনার সাহায্যে শক্তি ও আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। কেননা, আপনিই ক্ষমতাবান, আমি ক্ষমতা রাখি না। আপনি জ্ঞান রাখেন, আমার জ্ঞান নেই এবং আপনি অদৃশ্য বিষয়ে সম্পূর্ণ পরিজ্ঞাত।

হে আল্লাহ, আপনার জ্ঞানে আমার এ কাজ (নিজের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে অথবা মনে মনে স্মরণ করবে) আমার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য (কিংভবা বলবে আমার দ্বীনদারি, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে) কল্যাণকর হলে, আপনি তা আমার জন্য নির্ধারণ করে দিন। সেটা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং এতে বরকত দিন।

হে আল্লাহ, আর যদি আপনার জ্ঞানে আমার এ কাজ আমার দ্বীনদারি, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে (কিংবা বলবে, আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য) অকল্যাণকর হয়, তবে আপনি আমাকে তা থেকে ফিরিয়ে দিন এবং সেটাকেও আমার থেকে ফিরিয়ে রাখুন। আমার জন্য সর্বক্ষেত্রে কল্যাণ নির্ধারণ করে রাখুন এবং আমাকে সেটার প্রতি সন্তুষ্ট করে দিন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩৮২)

নামাজের মাধ্যমে ইসতেখারা করার সময় ও সুযোগ না পাওয়া গেলে সংক্ষিপ্ত একটি দোয়া পড়া যেতে পারে। দোয়াটি হলো—

اللّهُمّ خِرْ لِي وَاخْتَرْ لِي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা খিরলি ওয়াখ তারলি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে কল্যাণ দান করুন এবং আমার জন্য আপনিই কোন বিষয়টি অবলম্বন করা উচিত তা নির্বাচন করে দিন। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৬)

কারও কারও ধারণা, ইসতেখারা করার পর বিশেষ একটি স্বপ্ন দেখা যায়। সেখানে কাজটির ভালো-মন্দ সম্পর্কে নির্দেশনা থাকে। কিংবা কাজটি করা না করার বিষয়ে কোনো আদেশ-নিষেধ থাকে। এমন ধারণা ভিত্তিহীন। ইসতেখারার সঙ্গে এমন কোনো স্বপ্ন বা ইঙ্গিত-ইশারার আবশ্যকীয়তা নেই। তবে কখনো এমন কোনো স্বপ্ন কেউ দেখতে পারে, কিংবা কেউ কোনো ইশারা-ইঙ্গিত পেতে পারে, সেটা ইসতেখারার অনিবার্য বিষয় নয়। তাই এমন স্বপ্ন-ইশারার অপেক্ষা করবে না।