ইমানের ওপর অবিচল থাকার দোয়া

একজন মুসলমানের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ ইমান। ইমানকে রক্ষা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু ইমান ধরে রাখা সবসময় সহজ নয়। নানা ফিতনা ও শয়তানের কুমন্ত্রণায় অনেক সময় মানুষ সত্যপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। ইমান চলে গেলে মানুষ আর মুসলমান থাকে না। ইমান ছাড়া মৃত্যু হলে মানুষ জাহান্নামে যাবে। তাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইমান ও হেদায়াতের ওপর অটল থাকতে হবে। ইমানের ওপর অটল থাকতে আমল করার পাশাপাশি দোয়া করতে হবে।
আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ। এরপর তার ওপর অবিচল থাকে, তাদের ওপর ফেরেশতারা নাজিল হয় এবং বলে যে, তোমরা ভয় পেয়ো না ও চিন্তিত হয়ো না। আর তোমরা জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। আমরা তোমাদের বন্ধু ইহকালে ও পরকালে। আর সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমাদের মন চাইবে এবং সেখানে রয়েছে যা তোমরা দাবি করবে। এটা হবে ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালুর পক্ষ থেকে আপ্যায়ন।’ (সুরা হামিম সেজদা, হাদিস: ৩০-৩২)
হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়মিত এমন একটি দোয়া করতেন, যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর কাছে নিজের অন্তরকে সত্যের ওপর অটল ও অবিচল রাখার আবেদন জানাতেন। দোয়াটি হলো-
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِيْ عَلٰى دِيْنِكَ
উচ্চারণ: ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত কলবি আলা দ্বীনিকা।
অর্থ: হে অন্তরের পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে তুমি তোমার দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখ।
সরল পথের হেদায়াত চেয়ে দোয়া করা
ইমানের ওপর অবিচল থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, হে শাদ্দাদ ইবনে আউস, যদি তুমি দেখতে পাও যে, মানুষ স্বর্ণ-রৌপ্য সঞ্চয় করছে, তখন তুমি এই বাক্যগুলো সঞ্চয় করো-
اللهمَّ إنّي أسْألُكَ الثَّباتَ في الأمْرِ وَالعَزِيْمَةَ على الرُّشْدِ وأسْألُكَ مُوْجِباتِ رَحْمَتِكَ وَعَزائِمَ مَغْفِرَتِكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাস সাবাতা ফিল আমরি, ওয়াল আজিমাতা আলার রুশদি, ওয়া আসআলুকা মুজিবাতি রাহমাতিকা, ওয়া আজায়িমা মাগফিরাতিকা।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আনুগত্যের ওপর অবিচলতা ও সৎপথে দৃঢ় থাকার প্রার্থনা করছি। আপনার কাছে আপনার রহমতকে আবশ্যককারী ও আপনার ক্ষমাকে অনিবার্যকারী আমলসমূহ প্রার্থনা করছি। (ইমাম তাবরানি, আল-কাবির, হাদিস: ৭১৩৫)
এ ছাড়া ইমানের ওপর অবিচল থাকার জন্য দোয়ার পাশাপাশি সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা, আল্লাহর ওপর ধৈর্যধারণ করা, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে।


