logo
Advertisement

আল্লাহ নিজের নাম থেকে যে সম্পর্কের নাম রেখেছেন

আল্লাহ নিজের নাম থেকে যে সম্পর্কের নাম রেখেছেন
আয়া সোফিয়া মসজিদ, তুরস্ক। ছবি: ব্রিটেনিকা

পারিবারিক সূত্রে গাঁথা সম্পর্কের নাম আত্মীয়তা। সাধারণত রক্ত, বংশ কিংবা বৈবাহিক সূত্র ধরেই আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হয়। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে আত্মীয়তার বাঁধন সর্বতোভাবে জড়িত। আত্মীয়তা ছাড়া এ জীবন অচল। আত্মীয়তার বন্ধনে নির্মিত সম্পর্কের হৃদ্যতায় মানুষের জীবনে নেমে আসে অনাবিল আনন্দ।

আত্মীয়তার বাঁধন ছাড়া জীবন হয়ে পড়ে একাকী, বিচ্ছিন্ন ও আনন্দহীন। এ বন্ধন ছাড়া সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো অসম্ভব। নিজের জীবন, স্ত্রী, সন্তানের নিরাপত্তার জন্য চাই আত্মীয়তার বাঁধন। এ বাঁধন ছুঁয়ে আছে খোদার আরশ। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর সঙ্গে আল্লাহ তাআলা সম্পর্ক রাখেন না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি রহমান, আর রাহিম হলো আত্মীয়তার বন্ধন। তাকে আমার নাম থেকেই একটি নাম দিয়েছি। যে এই বন্ধন রক্ষা করবে, আমি তার সঙ্গে বন্ধন রক্ষা করব। আর যে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করব।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৬৯৪)

তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগত সৃজন করে অবসর হলে আত্মীয়তার বন্ধন দাঁড়িয়ে বলল, এটা তো আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে আশ্রয় প্রার্থনার সময়! আল্লাহ তাআলা বলেন, হ্যাঁ, তুমি কি এতে খুশি নও; যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখবে, আমিও তার সঙ্গে সম্পর্ক বহাল রাখব। আর যে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করব? আত্মীয়তার বন্ধন বলল, অবশ্যই। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাকে তা-ই দেওয়া হলো। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা চাইলে এ আয়াত পড়ে দেখতে পার, ‘ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। যারা তা করবে, আল্লাহ তাআলা তাদের লানত করেন আর করেন বধির ও দৃষ্টিহীন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৪১২)

প্রতিটি মানুষই মালিকের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে চায়। তাকে খুশি করতে চায়। তার সুনজর কামনা করে। মুমিনের একমাত্র মালিক আল্লাহ। আল্লাহই মুমিনের প্রকৃত অভিভাবক ও বন্ধু। আল্লাহকে খুশি করার পূর্বশর্ত আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখা। আত্মীয়তার বাঁধনে জড়িয়ে থাকা।

খেয়াল করুন, আত্মীয়তার বাঁধন ছিন্নকারীর সঙ্গে আল্লাহ তাআলা সম্পর্ক রাখেন না। তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেন। কারও সঙ্গে যদি আল্লাহ সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেন, তাহলে তার আর কোনো উপায় আছে! আল্লাহর চেয়ে উত্তম আত্মীয় আর কে আছে! তাঁর মতো নিরাপদ অভিভাবক আর কে হতে পারে! প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর, নিশ্চয়ই ‘নয়’।

সম্পর্ক রক্ষায় আছে কল্যাণ

তথাকথিত সুখের মোহে অনেকে আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রাখে। টাকা-পয়সা খরচের ভয়ে আত্মীয়ের খোঁজখবর নেয় না। সাক্ষাৎ অপছন্দ করে। অথচ এ সম্পর্কের হৃদ্যতায় আছে জীবিকার প্রশস্ততা ও দীর্ঘায়ু।

আমরা দিনরাত অবিরাম জীবিকার সন্ধানে পরিশ্রম করি। ব্যবসায় লাভ, ভালো বেতনে চাকরি এবং কর্মক্ষেত্রে প্রমোশন লাভের জন্য নিজের সর্বোচ্চটুকু বিলিয়ে দিই। উত্তম আবাসন, উন্নত বাসস্থান ও মোটা অঙ্কের ডিপোজিটের জন্য সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়াই অবিশ্রান্তভাবে। নিজের জীবনের দীর্ঘায়ু কামনা করি দমে দমে। অসুস্থতা অপছন্দ করি। এমনকী সামান্য অসুস্থতায় দয়াময় আল্লাহর প্রতি অভিযোগ করার ধৃষ্টতা পর্যন্ত দেখাই।

বলা বাহুল্য, এই রিজিকের প্রশস্ততা আর জীবনের দীর্ঘায়ু নিহিত আছে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষায়। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে তার জীবিকার প্রশস্ততা কিংবা দীর্ঘায়ু কামনা করে, সে যেন তার আত্মীয়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৪১৭)

সম্পর্ক ছিন্ন করা নিষেধ

কারও প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ করা গুনাহ। হিংসা-বিদ্বেষ জীবনকে অকৃতকার্য করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না। পরস্পর শত্রুতা করবে না, পারস্পরিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবে না। তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৪১৪)

সম্পর্ক বিচ্ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না

আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন জীবন ব্যক্তিকে জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। মুহাম্মাদ (সা.) আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৪১৫)