logo

ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়তেন মহানবী (সা.)

ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়তেন মহানবী (সা.)
সবুজ গম্বুজ এবং আরবিতে লেখা ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ’। ছবি: পিন্টারেস্ট

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানব, মানবতার সর্বোত্তম আদর্শ হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি পরিপূর্ণ মানুষ। তার জীবন ছিল বাস্তব কোরআনের প্রতিচ্ছবি। ইসলামের পূর্ণতা দানের জন্য আল্লাহ তাঁকে পাঠিয়েছেন। তিনি মানুষকে আল্লাহকে পাওয়ার এবং জান্নাতে যাওয়ার সহজ পথ বলে দিয়েছেন। কীভাবে উত্তম মানুষ হওয়া যায়, কীভাবে সেরা চরিত্রবান হওয়া যায়, এর শিক্ষা দিয়েছেন তিনি। তিনিই মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অধিষ্ঠিত।’ (সুরা কলম, আয়াত: ৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষকে শিখিয়েছেন খাবার গ্রহণের পদ্ধতি থেকে শুরু করে প্রস্রাব-পায়খানা করার নিয়ম-কানুন। শিখিয়েছেন ঘুমের পদ্ধতিও। ঘুমের আগে কোন আমল করতে হয়, কোন দোয়া পড়তে হয়, কোন কাত হয়ে ঘুমানো উত্তম- তাও বলে গেছেন তিনি। তিনি বলেছেন ঘুম থেকে উঠে কোন দোয়া পড়তে হয়।

ঘুম আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহ। ঘুমের মাধ্যমে মানুষের ক্লান্তি ও অবসাদ দূর হয়। সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিক ঘুম মানুষের স্বাস্থ্য সুস্থ রাখে। আল্লাহর হুকুম ও হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত মোতাবেক ঘুমালে এটি ইবাদতও হয়।

ঘুমের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময় রাত। রাতে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ঘুমানো উচিত। ফজর নামাজ যেন কাজ না হয়, সেদিকে পূর্ণ খেয়াল রাখতে হবে।

ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে হবে। কারণ, ঘুম হলো এক প্রকার ‘মৃত্যুই’। ঘুমের পর জাগ্রত ব্যক্তি নতুন জীবন ফিরে পায়। তাই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে হবে। দোয়া করতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। কৃতজ্ঞতা আদায় করতেন। দোয়া পড়তেন। দোয়াটি হলো-

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا، وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লা হিল্লাজি আহ ইয়ানা, বাদামা আমা তানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।

অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত বানানোর পর জীবিত করেছেন। আর তাঁর দিকেই পুনরুত্থান। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩২৪)

ঘুম থেকে জেগে আরেকটি দোয়া পড়া যেতে পারে। হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে এ দোয়া পাঠ করবে। অথবা মনমতো অন্য কোনো দোয়া করবে। ওই সময় যে দোয়া করা হবে, আল্লাহ সে দোয়া কবুল করবেন। আর যদি কেউ অজু করে এবং নামাজ আদায় করে, তার নামাজ কবুল করা হবে। দোয়াটি হলো-

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَريكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ للَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكبَرُ، وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ» رَبِّ اغْفرْ لِي

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ দাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। আলহামদু লিল্লাহি, ওয়া সুবহানাল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাসক নেই। তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁরই, তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ পবিত্র মহান। সকল প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাসক নেই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়। সুউচ্চ সুমহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি কারও নেই। হে প্রভু, আমাকে ক্ষমা করুন।