ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ নিষেধ

ইসলামের ফরজ ইবাদত হজ। এর গুরুত্ব যেমন অপরিসীম, তেমনি ফজিলতও সীমাহীন। পৃথিবীতে যত নেক আমল আছে, এর মধ্যে হজ শ্রেষ্ঠতম। গ্রহণযোগ্য হজের মাধ্যমে ব্যক্তির জীবনের গুনাহ মাফ হয়। তার জন্য সুনিশ্চিত হয় জান্নাত। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দিন। তারা আপনার কাছে আসবে হেঁটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটসমূহের পিঠে (আরোহণ করে), তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২৭)
আর্থিক ও দৈহিকভাবে সামর্থ্যবান প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। একবারের পর যত হজ করা হবে, সেগুলো নফল হবে। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাবাঘরের হজ করা ফরজ।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭)
নিয়তসহ ইহরাম পরে নির্দিষ্ট দিনে আরাফার ময়দানে অবস্থান ও কাবা শরিফ তওয়াফ করা হলো হজ। (ফাতাওয়া শামি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৫৪)। হজের ফরজ তিনটি। এক. ইহরাম পরা। দুই. আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। তিন. কাবাঘর তাওয়াফ করা।
হজ বা ওমরাহর নিয়তে তালবিয়া পাঠ করে বিশেষ নিয়মে নিজেকে আবদ্ধ করার নামই ইহরাম। ইহরাম সম্পন্নের পর অন্য সময়ের মতো সব কাজ করা যায় না। কিছু কাজ নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ নিষেধ, এখানে তা তুলে ধরা হলো—
- ইহরাম পরিধানের পর কোনো প্রকার ঝগড়া করা যাবে না।
- সুগন্ধি, তেল, পাউডার, স্নো ব্যবহার করা যাবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ১৪৮৩৩)
- নখ কাটা, চুল বা পশম মুণ্ডনো কিংবা উপড়ানো যাবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ১৩৬০৪)
- স্বামী-স্ত্রী সহবাস করা যাবে না। যৌনকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এমন অশালীন কথা বলা ও কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৯৭)
- পুরুষরা মাথা ও মুখমণ্ডল ঢাকতে পারবে না। তবে কান, ঘাড় ও পা ঢাকা যাবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একান্ত প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করতে পারবে। (মানাসিক: ১২৩)
- কোনো বন্য জন্তু শিকার বা শিকার করার পরামর্শ দেওয়া যাবে না। (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৯৬)
- চুল আঁচড়ানো ও সাজসজ্জা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৯৯৮)
- ইচ্ছাকৃত ফল-ফুলের ঘ্রাণ নেওয়া এবং সুগন্ধিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। এমনটি করা মাকরুহ।
- কাপড় বা শরীরে উকুন মারাও নিষিদ্ধ।
- পুরুষের জন্য সেলাইকৃত কাপড় বা পাঞ্জাবি, পায়জামা, জুব্বা, শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জি, কোট, সোয়েটার ও মোজা ইত্যাদি পরা জায়েজ নেই। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৮১)। পায়ের পাতার ওপরের উঁচু হাড় ঢেকে যায় এমন জুতা-স্যান্ডেলও পরা যাবে না।
- নারীরা স্বাভাবিক সব কাপড় ও মোজা পরতে পারবেন। তবে চেহারায় নিকাব বা চেহারার সঙ্গে লেগে থাকে এমন পোশাক পরা যাবে না। তবে অন্যপুরুষের নজর থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।


