যেসব বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করা হারাম

আল্লাহ মানুষকে বড় মায়া করে সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সম্মানিত করেছেন। মানুষ আল্লাহর সেরা সৃষ্টি। আল্লাহ বলেন, ‘আমি আদমসন্তানকে সম্মানিত করেছি এবং স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের ব্যবস্থা করেছি।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৭০)
মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই সম্মানিত। তাই মানুষের সম্মানহানি করা যাবে না। মানুষ কষ্ট পায়, এমন আচরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে হাসি-ঠাট্টার নামে কাউকে অপমান করা ইসলামি শিষ্টাচারের সঙ্গে যায় না। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য সম্প্রদায়কে ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর নারীরা যেন অন্য নারীদের ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১১)
বর্তমান সমাজে মানুষকে নিয়ে ঠাট্টা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও হাসাহাসি করা খুব সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেক সময় নিছক মজা করতে গিয়ে এমন কথা বলা হয়, যা অন্যের মনে গভীর কষ্ট দেয়। যেসব ঠাট্টা বা মজার ফলে অন্য ব্যক্তি কষ্ট পায়, সেসব বিষয় থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।
ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ঠাট্টা
আল্লাহ, কোরআন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) কিংবা ইসলামের কোনো বিধান নিয়ে উপহাস করা মারাত্মক গুনাহ। এসব বিষয় নিয়ে উপহাস করার কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কি আল্লাহ, তার আয়াত ও তার রাসুলকে নিয়ে ঠাট্টা করছিলে? প্রয়োজন পেশের চেষ্টা করো না, ইমান আনার পর তোমরা কুফরি করেছ।’ (সুরা তওবা, আয়াত: ৬৫-৬৬)
কারও শারীরিক ত্রুটি নিয়ে উপহাস করা
কারও উচ্চতা, গায়ের রং, শারীরিক গঠন কিংবা কোনো ত্রুটি নিয়ে মজা করা উচিত নয়। এতে ব্যক্তি কষ্ট পান। একবার আয়েশা (রা.) হজরত সাফিয়া (রা.)-এর খাটো হওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করে বলেছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে সতর্ক করে বলেন, ‘তুমি এমন একটি কথা বলেছ, যা সমুদ্রের পানিতে মিশিয়ে দিলেও তা দূষিত করে দিত।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৫০২)
কাউকে বিকৃত নামে ডাকা
বর্তমানে অনেককে দেখা যায়, তারা অন্যের নাম বিকৃত করেন। নাম নিয়ে ব্যঙ্গ করার এই প্রবণতা দিন দিন মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। নাম নিয়ে ব্যঙ্গ করা মারাত্মক গুনাহ ও গর্হিত কাজ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অন্যের নিন্দা করো না, একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। ইমান আনার পর (ইমানের আগে কৃত অপরাধকে যা মনে করিয়ে দেয় সেই) মন্দ নাম কতই না মন্দ! (এ সব থেকে) যারা তওবা না করে তারাই অত্যাচারী।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১১)
কারও ভুল বা অতীতের গুনাহ নিয়ে খোঁটা দেওয়া
কারও ভুল, ব্যর্থতা বা কেউ বিপদে পড়লে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করা উচিত নয়। বরং তার পাশে দাঁড়ানো উচিত। তাকে সংশোধনে সহযোগিতা করা নৈতিক দায়িত্ব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমার কোনো ভাইয়ের বিপদে তুমি আনন্দ প্রকাশ করো না। এ রকম করলে আল্লাহ তাকে দয়া করবেন এবং তোমাকে সেই বিপদে নিক্ষেপ করবেন।’ (জামে তিরিমিজি, হাদিস: ২৫০৬)
কারও দারিদ্র বা অভাব নিয়ে মজা করা
কারও পুরোনো পোশাক, কম দামি জিনিস বা আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে মজা করা ঠিক নয়। এতে তার আত্মসম্মানে আঘাত লাগতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য কোনো সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১১)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাস্যরস
মহানবী (সা.) সীমাহীন দুশ্চিন্তা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মাঝেও সাহাবিদের সঙ্গে কৌতুক করতেন। তবে তাঁর কৌতুকের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি রসিকতা করলেও কখনও সত্যের বাইরে কিছু বলতেন না।




