logo

যে ৮ সাহাবি শৈশবেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন

যে ৮ সাহাবি শৈশবেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন
সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত মসজিদে নববি। ছবি: ইসলামিক ল্যান্ডমার্ক.কম

হজরত মুহাম্মদ (সা.) শিশুদের খুব ভালোবাসতেন। তাদের আদর দিতেন। ‍চুম্বন করতেন। কোলে নিতেন। তাদের সঙ্গে হাস্যরস করতেন।

ইসলামের সূচনালগ্নেই অনেক শিশু নবীজির সান্নিধ্যে এসে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। নবীজির কথা মেনে নিয়েছিলেন। তারা তখন ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাদের কেউ হয়েছেন খলিফা, কেউ ওহি লেখক, কেউ যুদ্ধের সেনাপতি, কেউ হাদিসবিশারদ।

শৈশবেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সংস্পর্শে ধন্য হয়েছেন, ইসলাম গ্রহণ করেছেন এমন আটজন সাহাবির কথা এখানে তুলে ধরা হলো-

হজরত আলি ইবনে আবু তালিব (রা.)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আপন চাচাতো ভাই ছিলেন আলি (রা.)। শৈশব থেকেই আলি ছিলেন অসীম সাহসী। শৈশবেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। হিজরতের রাতে মহানবী (সা.) আলিকে নিজের বিছানায় রেখে মদিনার দিকে রওনা করেছিলেন। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নবীজির বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন।

উহুদ ও খন্দকের যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেন আলি (রা.)। পরে খায়বার যুদ্ধে তার হাতে ইসলামের পতাকা তুলে দেন নবীজি (সা.)। পরবর্তীতে তিনি ইসলামের চতুর্থ খলিফা নির্বাচিত হন।

হজরত হাসান ইবনে আলি (রা.)

হাসান ইবনে আলি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাতি। হিজরি তৃতীয় বর্ষের রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার মা ফাতেমা ও বাবা আলি। নবীজি তাকে পিঠে চড়িয়ে খেলতেন। তাকে কোলে নিতেন। চুমো খেতেন। ৫০ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

হজরত হুসাইন ইবনে আলি (রা.)

হুসাইন ইবনে আলি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাতি। হিজরি চতুর্থ বর্ষের শাবান মাসে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার মা ফাতেমা ও বাবা আলি। নবীজি তাকে পিঠে চড়িয়ে খেলতেন। তাকে কোলে নিতেন। চুমো খেতেন। যৌবনে বীরত্বের সঙ্গে তিনি হজরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে উত্তর আফ্রিকা এবং পরবর্তীতে এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি সপরিবারে কারবালার প্রান্তরে শহীদ হন।

হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)

আনাস (রা.)-এর জন্ম মদিনায়। হিজরতের তিন বছর আগে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মদিনায় নবীজির আগমনের পর থেকেই তিনি তার খাদেম। দীর্ঘ দশ বছর তিনি নবীজির খেদমত করেন। তিনি প্রায় দুই হাজার হাদিস বর্ণনা করেন। ৯১ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনিই সব সাহাবির শেষে মারা যান।

হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.)

উসামা ইবনে জায়েদের জন্ম মক্কায়। তিনি মুসলিম হিসেবেই মক্কায় বেড়ে ওঠেন। তার বাবা জায়েদ ইবনে হারেসা ইসলামের প্রথম যুগের সাহাবি। রাসুলুল্লাহ (সা.) উসামা ও হাসানকে একসঙ্গে জড়িয়ে ধরে দোয়া করতেন। তিনি ৫৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ইবনুল খাত্তাবের ছেলে আবদুল্লাহ। নবুওয়াতের ষষ্ঠ বছরে সাত বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। তিনি নবীজির সুন্নত খুব ভালোভাবে পালন করতেন। এজন্য তার বিশেষ পরিচিতিও রয়েছে। যেসব সাহাবি সর্বাধিক হাদিস বর্ণনা করেছেন, এর অন্যতম তিনি। ৭৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন তিনি।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস নবীজির চাচাতো ভাই। হিজরতের তিন বছর আগে তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। নবীজি তার জন্য দ্বীনের গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জনের দোয়া করেছিলেন। কোরআন ও শরিয়তের অগাধ জ্ঞানের কারণে তাকে মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত বলা হতো। কোরআনের ব্যাখ্যাকার উপাধিতেও ভূষিত করা হয়। তিনি ৬৮ হিজরিতে তায়েফে ইন্তেকাল করেন।

হজরত জায়েদ ইবনে সাবেত (রা.)

জায়েদের বয়স তখন এগারো বছর, সেসময় মহানবী (সা.) মদিনায় হিজরত করেন। খন্দকের যুদ্ধে তিনি অংশ নেন। অবশ্য বদর ও উহুদ যুদ্ধের সময় ছোট হওয়ায় অংশ নিতে পারেননি। নবীজির নির্দেশে তিনি সুরিয়ানি ভাষা শেখেন। তিনি নবীজির হয়ে চিঠি লিখতেন। ওহি সংরক্ষণের মূল দায়িত্বও পালন করতেন। আবু বকর (রা.)-এর সময় পবিত্র কোরআন একীভূত করে গ্রন্থাকারে সাজানোর দায়িত্ব পান তিনি। তিনি ৪৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।