বিয়ে না করে চিরকুমার থাকা কি জায়েজ

বিয়ে করা নবী-রাসুলদের সুন্নত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো। কারণ, আমি উম্মতের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে গর্ব করব।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৪৬)
যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখেন, তাদেরকে সঠিক সময়ে বিয়ে করতে উৎসাহিত করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। বিয়ের মাধ্যমে মানুষ তার দৃষ্টিকে সংযত করে। বিয়ে করে মানুষ যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষার মাধ্যমে জান্নাতের পথ সুগম করতে সক্ষম হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)
ইসলামে বৈরাগ্যের (সন্ন্যাস বা স্বভাববিরোধী জীবনযাপন) সুযোগ নেই। সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য বিয়ে করা সুন্নত। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি বিয়ে না করে এবং এ অবস্থায় তার গুনাহে লিপ্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে, তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব। বিয়ের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিয়ে না করাকে তিরস্কার করা হয়েছে। বিয়ের পর যে স্ত্রীর অধিকার আদায় করতে পারবে না, তার জন্য বিয়ে করা ঠিক নয়। তবে কেউ যদি সারাজীবন বিয়ে না করে চরিত্রের হেফাজত করতে পারে, তাহলে বিয়ে না করলেও তার গুনাহ হবে না। সে বিয়ে না করে থাকতে পারবে।
মানুষের অধিকাংশ গুনাহ হয় দুটি কারণে। একটি হয় তার লজ্জাস্থানের চাহিদা পূরণের কারণে আর অন্যটি হয় পেটের চাহিদা পূরণের কারণে। বিয়ের কারণে মানুষ প্রথমটি থেকে হেফাজতের রাস্তা পেয়ে যায়। বিয়ের সামর্থ্য থাকলে বিয়ে করাই সওয়াবের কাজ। চিরকুমার থাকা উচিত নয়। গুনাহ জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা না থাকলে বিয়ে না করা জায়েজ আছে। তবে বিয়ে করাই উত্তম।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সাধারণ ও স্বাভাবিক সময়ে বিয়ে করা সুন্নত। অর্থ্যাৎ বিয়ে না করলে ব্যক্তি পাপে লিপ্ত হবে না এবং তার বিয়ে করার সামর্থ্যও আছে। বিয়ের সামর্থ্য থাকা অবস্থায় বিয়ে না করলে যদি পাপে লিপ্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে, পাপে জড়ানোর কঠিন পরিবেশ তৈরি হয়ে যায়, তার জন্য বিয়ে করা ওয়াজিব, ফরজ। তবে কারও যদি বিয়ের সামর্থ্য না থাকে এবং বিয়ে করলে বউয়ের অধিকার নষ্ট হবে, তার জন্য বিয়ে করা জায়েজ নেই—নিষেধ।’
ব্যক্তির অবস্থার ওপর নির্ভর করে বিয়ের বিধান আরোপিত হয় জানিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘বিয়ে না করে শুধু ইবাদত-বন্দেগি করা জায়েজ আছে, তবে উত্তম নয়। উত্তম হলো বিয়ে করা। ইসলাম বৈরাগ্য বা বিয়ে না করার কথা বলে না। ইসলামে বৈরাগ্যবাদ নেই। কেউ যদি সারাজীবন বিয়ে না করে চরিত্রের হেফাজত করতে পারে, তাহলে বিয়ে না করলেও তার গুনাহ হবে না।’



