মুসাফিরের জন্য সুন্নত নামাজ না পড়ার সুযোগ আছে?

নানা প্রয়োজনে মানুষকে নিজের এলাকা ও বাড়ি থেকে বের হতে হয়। বিশেষ প্রয়োজনে বা প্রমোদভ্রমণের জন্য নিজ বাড়ি থেকে ভ্রমণ বা সফরে বের হওয়ার পর কমপক্ষে ৪৮ মাইল (প্রায় ৭৮ কিলোমিটার) দূরত্ব অতিক্রম করলে তাকে শরিয়তের পরিভাষায় মুসাফির বলা হয়। মুসাফিরকে শরিয়তের বিধি-বিধানে কিছু শিথিলতা দিয়েছে ইসলাম। তার জন্য চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজগুলো দুই রাকাত আদায় করতে হয়। মুকিম (নিজ এলাকায় অবস্থানকারী) ইমামের পেছনে নামাজ পড়লে পূর্ণ নামাজই পড়তে হবে। মাগরিব, বিতর ও ফজরের নামাজ পূর্ণই আদায় করতে হবে। এগুলোর কসর নেই।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের নবীর জবানে নামাজকে মুকিম অবস্থায় চার রাকাত ও সফর অবস্থায় দুই রাকাত ফরজ করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৮৭)
অনেকে মনে করেন, সফর অবস্থায় সুন্নত নামাজ পড়া যাবে না। এটা সঠিক ধারণা নয়। মুসাফিরের নামাজের কসর বা সংক্ষিপ্তকরণ শুধু ফরজের ক্ষেত্রে। সুন্নত পড়লে পুরোটাই পড়বে। কেননা সুন্নত নামাজের কসর হয় না।
সফরের শান্তিপূর্ণ অবস্থায় সুন্নত নামাজ পড়াই উত্তম। বিশেষত ফজরের সুন্নত সফর অবস্থায়ও অধিক গুরুত্ব রাখে। সুতরাং ‘সফর অবস্থায় সুন্নত নামাজ পড়া যাবে না’ ঢালাওভাবে এমন মনে করা ঠিক নয়। সফর অবস্থায় তাড়াহুড়ো বা ক্লান্তি ইত্যাদির কারণে সুন্নত না পড়ার সুযোগ আছে। না পড়লে গুনাহ হবে না।
ইবনে জুরাইজ (রহ.) বলেন, ‘আমি আতা (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি যখন সফরে থাকি এবং নামাজ কসর করে পড়ি, তখন কি ফরজের আগের কিংবা পরবর্তী সুন্নত নামাজগুলো পড়তে পারব? তিনি বললেন, হাঁ (পারবে)। আমি তো রুখসত (ছাড়) ও সুন্নতের অনুসরণে কসর পড়ে থাকি। আর অধিক কল্যাণ লাভের আশায় সুন্নত নামাজগুলোও পড়ি।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজজাক, হাদিস: ৪৪৫২)
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘সফর অবস্থায় তাড়াহুড়ো বা ক্লান্তি ইত্যাদির কারণে সুন্নতে মুয়াক্কাদা না পড়ার সুযোগ আছে। সুন্নত না পড়লে গুনাহ হবে না। কিন্তু মুসাফিরের জন্য স্বাভাবিক অবস্থায় সুন্নতে মুয়াক্কাদা পড়াই উত্তম।’ (শরহুল মুনইয়া, পৃষ্ঠা: ৫৪৫; রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৩১)



