Advertisement

মদিনার মসজিদে নববির সবুজ গম্বুজটি কবে থেকে সবুজ?

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মদিনার মসজিদে নববির সবুজ গম্বুজটি কবে থেকে সবুজ?
মদিনার মসজিদে নববিতে অবস্থিত সবুজ গম্বুজ। ছবি: সংগৃহীত

মদিনার মসজিদে নববির সবুজ গম্বুজটি মুসলিম বিশ্বের এক অনন্য প্রতীক। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজার কাছাকাছি এসে জিয়ারতকারী ও দর্শনার্থীদের প্রথমে চোখে পড়ে সবুজ গম্বুজ। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অগণিত নবীপ্রেমিকের আবেগ ও ভালোবাসা। এ গম্বুজ দেখামাত্রই তাদের মনে পড়ে নবীজির রওজার কথা। যার নিচে শায়িত আছেন প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)। এই গম্বুজ সরাসরি দেখতে গভীর আগ্রহ ও বাসনা ‍বুকের ভেতর লালন করেন অসংখ্য নবীপ্রেমিক। এই সবুজ গম্বুজের জন্য পাগলপ্রাণ ছিলেন কোটি কোটি মুমিন-মুসলিম।

Advertisement

গম্বুজটি মদিনার মসজিদে নববির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত। এটি আল-কুব্বাতুল খাজরা বা সবুজ গম্বুজের পাশাপাশি আল-কুব্বাতুল বায়দা, ফায়হা, খাজরা নামেও পরিচিত ছিল।

সাহাবি ও তাবেয়িদের যুগে মহানবীর (সা.) কবরের ওপর স্থাপিত এ সবুজ গম্বুজটির অস্তিত্ব ছিল না। তখন মহানবীর রওজাটি শুধু কোমর পর্যন্ত দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল। ১২৭৯ খ্রিষ্টাব্দে বা ৬৭৮ হিজরিতে মামুলক সুলতান নাসির মুহাম্মদ বিন কালায়ুনের বাবা সুলতান মানসুর কালায়ুন আস-সালেহির শাসনামলে গম্বুজটি সর্বপ্রথম নির্মিত হয়।

এর মূল কাঠামোটি ছিল কাঠের তৈরি। বৃষ্টির পানির সংস্পর্শ রোধে কাঠের গম্বুজ সিসার পাত দিয়ে ঢেকে তার ওপর একটি তারপিলের কাপড় দেওয়া হয়। গম্বুজটি ছিল নিচের দিকে চতুর্ভুজ এবং ওপরের দিকে অষ্টভুজ। সেসময় এতে আলাদা কোনো রং করা ছিল না। পরে আবার পুনর্নির্মাণের সময় সাদা এবং নীল রং দেওয়া হয়।

৮৮১ হিজরি পর্যন্ত এটি কয়েকবার মেরামত করা হয়। ৯৭৪ হিজরিতে ওসমানীয় সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিশেন্ট গম্বুজের সিসার পাত মেরামত করেন এবং এতে তুর্কি খেলাফতের প্রতীকবাহী চন্দ্রাকৃতি স্থাপন করেন। ১২৩৩ হিজরিতে এর শীর্ষে ফাটল দেখা দিলে তৎকালীন গভর্নর এটি সংস্কারের আদেশ দেন। পরে শীর্ষ অংশ ভেঙে অত্যন্ত মজবুত ও নিখুঁতভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়।

সুলতান আবদুল হামিদ দ্বিতীয় গম্বুজটিকে নীলের পরিবর্তে সবুজ রং করার নির্দেশ জারি করেন ১২৫৩ হিজরিতে। তিনিই প্রথম সবুজ রং ব্যবহার করেন। পরে প্রয়োজন দেখা দিলে সবুজ রং ব্যবহার করা হতো।

১২৫৬ সালে বাতি জ্বালাতে গিয়ে তেল পড়ে যায়। পুরো মসজিদে নববী আগুনে পুড়ে যায়। সুলতান রোকন উদ্দিন বায়বার্স মসজিদে নববি সংস্কার করেন। এরপর ১৪৮১ সালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ধসে পড়ে সবুজ গম্বুজ। সেদিন মদিনার অধিবাসীরা ছুটে আসে মসজিদে নববির আগুন নেভাতে। এবার তৎকালীন মিসরের মামলুক সুলতান সাইফউদ্দিন আল-আশরাফ কায়েতবাই নতুন করে মসজিদ সংস্কার করেন। সুলতান কায়েতবাই মসজিদে নববির সংস্কার কাজের উদ্যোগের পাশাপাশি গম্বুজ পুনঃস্থাপন করেন। তখন এই গম্বুজটি ছিল সাদা রঙের। পরবর্তীতে এটি হয় নীল রঙের।

১৮৩৭ সালে উসমানি সুলতান মাহমুদ (দ্বিতীয়) এই গম্বুজে সবুজ রং করেন। এরপর থেকে মদিনার মসজিদে নববির গম্বুজটি সবুজ রঙে দেখেই আমরা অ্যভস্ত।