জমি জরিপে ভুল ধরা পড়লে রেকর্ড সংশোধনে কী করবেন

জমি জরিপ চলাকালে খতিয়ান বা নকশায় কোনো ভুল-ত্রুটি দেখা দিলে তা প্রাথমিক পর্যায়েই সহজে সংশোধন করা সম্ভব। কিন্তু সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিয়ে চূড়ান্ত রেকর্ড (খতিয়ান) প্রকাশিত হয়ে গেলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী আর সহজে তা সংশোধন করা যায় না; সে ক্ষেত্রে অধিকার পুনরুদ্ধারে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।
এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা মিলেছে ‘রেকর্ড সংশোধন মামলা ও খতিয়ানে ভুল সংশোধন পদ্ধতি’ শীর্ষক গ্রন্থে। লেখক সাইফুল ইসলাম ফকির তার বইটির প্রথম অধ্যায়ের ৭৭ নম্বর পৃষ্ঠায় জরিপ চলাকালে যে কোনো অসঙ্গতি বা দাবি পেশের আইনি সুযোগ পাওয়ার উপায়গুলো উল্লেখ করেছেন।

‘প্রজাস্বত্ব বিধিমালা, ১৯৫৫’-এর ৩০ বিধি অনুযায়ী, ড্রাফট রেকর্ড বা খসড়া খতিয়ান প্রণয়নের পর এতে কোনো ভুলভ্রান্তি, স্বত্ব বা সীমানা নিয়ে আপত্তি থাকলে নির্ধারিত ফরমে ৪০ টাকার কোর্ট ফি সংযুক্ত করে সেটেলমেন্ট অফিসারের কাছে আপত্তি দাখিল করতে হয়। আবেদন প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তা (সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার) উভয় পক্ষকে শুনানির নোটিশ পাঠান। শুনানিতে দলিল-দস্তাবেজ ও প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি খতিয়ান বা নকশা সংশোধন, পরিবর্তন কিংবা পূর্বাবস্থায় বহাল রাখার রায় দেন এবং সেই অনুযায়ী রেকর্ড হালনাগাদ করেন।
আপত্তি কেসের রায়ে অসন্তুষ্ট হলে করণীয়
৩০ বিধির অধীনে আপত্তি কেসের রায়ে কোনো পক্ষ অসন্তুষ্ট বা সংক্ষুব্ধ হলে, রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে একই বিধিমালার ৩১ বিধি অনুসারে সেটেলমেন্ট অফিসারের (বা চার্জ অফিসার) কাছে আপিল (Appeal) দায়েরের সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সরকারি ফি প্রদান এবং রায়ের সত্যায়িত নকল (সার্টিফাইড কপি) যুক্ত করে আবেদন করতে হয়। আপিল আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট পক্ষদের উপস্থিতিতে পুনঃশুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং দ্রুততম সময়ে আপিল নিষ্পত্তি করা হয়। এই আপিল মামলার রায়ের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত খতিয়ান ও নকশা প্রস্তুত ও মুদ্রণ করা হয়।
চূড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশের পর করণীয়
একবার চূড়ান্ত খতিয়ান গ্যাজেট আকারে প্রকাশিত হয়ে গেলে সেটেলমেন্ট অফিসারের কাছে সাধারণ আর কোনো রেকর্ড সংশোধনের এখতিয়ার থাকে না। এ পর্যায়ে খতিয়ানের ভুল বা স্বত্বের বিরোধ নিরসনে প্রতিকার পেতে দেওয়ানি আদালতে ‘স্বত্ব ঘোষণা ও খতিয়ান সংশোধনের’ মামলা দায়ের করতে হয়।

তবে আইন অনুযায়ী একটি ব্যতিক্রম রয়েছে— চূড়ান্ত খতিয়ান প্রকাশের পরও যদি ভুলটি কোনো মৌলিক স্বত্ব-সংক্রান্ত না হয়ে কেবল কারণিক বা মুদ্রণজনিত সামান্য ভুল হয় (যেমন: নামের বানান ভুল, দাগ নম্বরের টাইপিং ভুল ইত্যাদি), তবে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৫৪ ধারার ক্ষমতাবলে সেটেলমেন্ট অফিসার তা সরাসরি নিজে সংশোধন করে দিতে পারেন।
লেখকের পরিচয়
সাইফুল ইসলাম ফকির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনায় এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি এলএলবি ও এলএলএম পাস করেন।



