logo

আখতারুজ্জামান নিজেকে বাঁচাতে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন, শুনানিতে পিপি

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
আখতারুজ্জামান নিজেকে বাঁচাতে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন, শুনানিতে পিপি
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ছবি: কালের কণ্ঠ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে এক দিনের রিমান্ড শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  

শুনানির এক পর্যায়ে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে বলেন, আখতারুজ্জামান নিজেকে বাঁচাতে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন এবং ওনারাও (জামায়াত) আমাদেরকে গালি দেওয়াতে আশ্রয় দিয়েছেন।

পিপি ওমর ফারুক ফারুকী আখতারুজ্জামানের জামিনের বিরোধিতা করে শুনানিতে বলেন, তিনি বিমানবন্দরে জমজমের পানি নিক্ষেপ করেছে এমনভাবে, যে কারও গায়ে গিয়ে পরবে তার খবর নেই। যে দৃশ্য টিভিতে সবাই দেখছে।

পিপি আরও বলেন, প্রতিবাদ কোনো অপরাধ নয়, কিন্তু এর ভাষা এবং ধরন যদি অস্বাভাবিক হয় তাহলে সেটা অবশ্যই অপরাধ। তিনি বিমানবন্দরে কামাল উদ্দীন নামে এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে অপমান করেছেন। জমজমের পানি নিক্ষেপ এবং সেখানে অংশগ্রহণ হয়তো আখতারুজ্জামানের পরিকল্পিত বলে দাবি করছে পিপি।

ফারকী আরও বলেন, কোথায় সরকারকে গালাগালি করা যায় সেটা নিয়ে তারা ব্যস্ত। বিএনপি এ দেশের বহু লোককে জন্ম দিয়েছে। অনেকে আমাদের ভুলে যায়।

জামায়াতের আইনজীবীদের উদ্দেশ করে পিপি বলেন, আমাদের মধু খেয়ে আপনারা বেঁচেছিলেন। তিনি বলেন, এ মামলায় তিনি জামিন পেলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটবে। কোন উদ্দেশ্যে, কার কারণে বিমানবন্দরে এ ধরনের কাজ করেছে এবং জামিন অযোগ্য ধারা এ জন্য তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হোক। 

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর সোয়া তিনটার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালতে উভয়পক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। 

আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, একদিনের রিমান্ডে আখতারুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। মামলায় জোর তদন্ত চলছে। যাচাই-বাছাই চলছে। এমতাবস্থায় তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

এদিকে রিমান্ড শেষে আজ দুপুর একটার দিকে এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে সিএমএম কোর্টের হাজতখানায় এনে রাখা হয় পরে সেখান থেকে দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে কঠোর পুলিশি পাহাড়ায় এজলাসে তোলা হয়। এজলাস তোলার পরে২ টা ৪০ মিনিটের দিকে এজলাসের মধ্যে বিএনপি এবং জামাতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। এমতাবস্থায় বিচারক এজলাস থেকে নেমে যান। কয়েক মিনিট চলে এই ধাক্কাধাক্কি। পরে রাষ্ট্রপক্ষে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী ও আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন।

২ টা ৪৫ মিনিটে বিচারক উঠলেই আখতারুজ্জামান আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ১০ জন আইনজীবী আমার পক্ষ থেকে শুনানি করবে তার অনুমতি চাই। এ সময় তার গলার সুর ভাঙা শোনা যায়। যদিও শুনানি শেষে আখতারুজ্জামান জামিন নামঞ্জুরের আদেশ শুনে এজলাসে দাঁড়িয়ে 'আল্লাহু আকবার' বলে স্লোগান দেন। পরে উপস্থিত আইনজীবীরা তাকে থেমে যেতে বলেন।

আদালতে আখতারুজ্জামানের পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন জামিন শুনানি শুরু করেন। আব্দুর রাজ্জাক শুনানিতে আদালতে বলেন, কয়েকবারের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান। তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। বিমানবন্দরের ঘটনায় তার কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয় না। বিমানবন্দরের অনিয়মের বিরুদ্ধে কেবল তিনি প্রতিবাদ করেছেন। সেখানে তিনি মালামাল বহনের ট্রলি ছিলো না। সেখানকার জুনিয়রদের ব্যাপারে সিনিয়রদের কাছে কেবলমাত্র অভিযোগ দিয়েছেন মাত্র। হালকা বাগ্‌বিতণ্ডা পরে কিন্তু তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল পরেরদিন এজাহার দিয়েছে সব সিসি ফুটেজে রয়েছে বলে। তবে শারীরিকভাবে আঘাত করার কথা বলে যে অভিযোগ সেই জায়গায় সিসি ফুটেজে ছিলো না বলে উল্লেখ করা হয়। আমরা মনে করি রাজনৈতিক কারণে এই মামলা করা হয়েছে। সে গুরুতর অসুস্থ, হাই ডায়াবেটিকস, হার্টের সমস্যা রয়েছে তার। সবকিছু বিবেচনায় যে কোনো শর্তে তাকে জামিন দেওয়া হোক। মামলার একটি ধারা ছাড়া সব ধারা জামিন যোগ্য। মামলায় কিছু নেই।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা গতকালকে রিমান্ডের পরে ব্রিফিংয়ে আখতারুজ্জামানকে ‘বাতিল মাল’ বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। এটি উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবাদ জানান তারা। পরে উভয়পক্ষ উত্তেজিত হলে বিচারক তাদের থামতে বলেন।

এদিকে আদালতে আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানির সময়কার আইনজীবীদের মধ্যকার ধাক্কাধাক্কি গড়ায় আদালতের নিচের রাস্তা পর্যন্ত। সিএমএম কোর্টের সামনের রাস্তায় বিএনপি এবং জামাতপন্থি আইনজীবীদের হট্টগোল এবং ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি চলে সেখানে কয়েক মিনিট। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেষ্টায় একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণে আসে।