রেকর্ড বা খতিয়ানের ভুল সংশোধনের উপায়

জমির আসল মালিক ও দখলে থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় রেকর্ড বা খতিয়ানে অন্য কারও নাম উঠে যায় কিংবা বানানে ও হিসাবে ভুল থেকে যায়। ভূমিসেবা পোর্টালের (land.gov.bd) মাধ্যমে অনলাইনে এসব খতিয়ানের ভুল সংশোধনে আবেদন করা যায়।
আইনের আওতায় কীভাবে ও কত দিনে এই সংশোধন করা সম্ভব, তার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সহকারী কমিশনারের (ভূমি) মাধ্যমে ‘করণিক ভুল’ সংশোধন
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950-এর ১৪৩ ধারা এবং প্রজাস্বত্ব বিধিমালা, ১৯৫৫-এর বিধি ২৩(৩) অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানের করণিক ভুল (Clerical Mistake) সংশোধনের পূর্ণ এখতিয়ার সহকারী কমিশনারের (ভূমি বা এসি ল্যান্ড) রয়েছে।

ভুলের ধরন: নামের বানান, অংশের হিসাবে ভুল, দাগ সূচিতে ভুল, নকশা (ম্যাপ) ও রেকর্ডের অমিল এবং জরিপের সময় মূল প্রজা বা বাবার মৃত্যুর পর সন্তানদের নামে রেকর্ড না হয়ে ভুলবশত বাবার নামেই থেকে যাওয়া ইত্যাদি।
সংশোধন প্রক্রিয়া: আবেদন পাওয়ার পর বা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনসাপেক্ষে এসি ল্যান্ড পূর্ববর্তী জরিপের কাগজপত্র, প্রাথমিক খাজনা বিবরণী, কালেক্টরেট ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সংরক্ষিত খতিয়ান ও ২ নম্বর রেজিস্টার পর্যালোচনা করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী অনুসন্ধান চালিয়ে উভয়পক্ষকে নোটিশ দিয়ে শুনানি গ্রহণ করা হয়। কোনো আপত্তি না থাকলে রেকর্ড সংশোধনের আদেশ জারি করা হয়। (নজির: 16-BLC (AD), Page: 155)
প্রতারণামূলক লিখন (Fraudulent Entry) সংশোধন—
একইভাবে প্রতারণার মাধ্যমে সৃষ্ট ভুয়া রেকর্ড সংশোধনে আবেদন করা হলে রাজস্ব কর্মকর্তা প্রজাস্বত্ব বিধিমালা, ১৯৫৫-এর ২৩(৪) বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। (নজির: 59-DLR (AD), Page: 119)
আবেদন ফি, সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—
সময়সীমা: পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে।

ফি: আবেদনে ২০ টাকার কোর্ট ফি সংযুক্ত করতে হয়। পরবর্তীতে খতিয়ান সংশোধন ফি বাবদ ১ হাজার ১৫০ টাকা জমা দিয়ে ডিসিআর ও সংশোধিত খতিয়ানের কপি উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—
- এনআইডি (NID) কার্ডের ফটোকপি ও আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
- সর্বশেষ নামজারি, সিএস, এসএ, আরএস, বিএস খতিয়ানের সত্যায়িত/সার্টিফাইড কপি।
- সংশ্লিষ্ট মৌজার এসএ ও বিএস মৌজা ম্যাপ।
- বিএস জরিপের মাঠপরচা বা ডিপি খতিয়ান।
- মূল দলিলের সত্যায়িত কপি এবং ভায়া/পিট দলিল (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
- সর্বশেষ পরিশোধিত ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দাখিলা।
- ওয়ারিশ সনদপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, যা ৩ মাসের পুরোনো হবে না)।
- আদালতের কোনো রায়/আদেশ/ডিক্রি বা আরজি থাকলে তার সার্টিফায়েড কপি।
২. ভূমি আপিল বোর্ডের মাধ্যমে ‘যথার্থ ভুল’ সংশোধন
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950-এর ১৪৯(৪) উপধারা অনুযায়ী, খতিয়ান বা সেটেলমেন্ট রেন্ট-রোলের কোনো যথার্থ ভুল (Bonafide Mistake) সংশোধনের ক্ষমতা সরকারের পাশাপাশি ‘ভূমি আপিল বোর্ড’-এর রয়েছে। (নজির: 21-DLR, Page: 25)

৩. ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল
জরিপ-পরবর্তী স্বত্বলিপি গেজেটে চূড়ান্ত প্রকাশের পর বড় ধরনের কোনো জটিলতা বা স্বত্ব সংক্রান্ত সংশোধনের দাবি থাকলে তা সমাধানের এখতিয়ার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রয়েছে।
লেখকের পরিচয়
সাইফুল ইসলাম ফকির
এলএলবি, এলএলএম
এমএ (তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



