logo
Advertisement

জমি বিক্রির আগে বিক্রেতার করণীয়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জমি বিক্রির আগে বিক্রেতার করণীয়
জমির প্রতীকী ছবি।

জমি বিক্রির সময় শুধু ক্রেতাকেই নয়, বিক্রেতাকেও থাকতে হয় সতর্ক। জমির কাগজপত্র ঠিকঠাক রাখা, সীমানা নির্ধারণ, ক্রেতার আর্থিক সক্ষমতা যাচাই এবং চুক্তি অনুযায়ী অর্থ বুঝে নেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে সামান্য অসতর্কতাও ভবিষ্যতে তৈরি করতে পারে আইনি জটিলতা। এমনকি ভুল তথ্যের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারেন বিক্রেতা।

Advertisement

জমির হিসাব, বাড়ী নির্মাণ ও এর তত্ত্বাবধানের আইন ও আইনি বাধার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন মো: শহিদুল ইসলাম (শাহীন)। তার রচিত ‘জমির হিসাব, আইন, বাড়ী নির্মাণ ও তত্ত্বাবধান’ বইটির অষ্টম অধ্যায়ের ১১৪, ১১৫ ও ১১৬ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘জমি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কতিপয় আইন’ শিরোনামে তিনি বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

‘জমির হিসাব, আইন, বাড়ী নির্মাণ ও তত্ত্বাবধান’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট
‘জমির হিসাব, আইন, বাড়ী নির্মাণ ও তত্ত্বাবধান’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জমি বিক্রির আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। বিক্রেতার করণীয়গুলো হলো—

জমির সব কাগজপত্র সরবরাহ

জমি বিক্রির প্রক্রিয়ায় জমির যাবতীয় কাগজপত্র ক্রেতাকে সরবরাহ করতে হবে। জমির মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় দলিল ও রেকর্ডপত্র ক্রেতার কাছে উপস্থাপন করা জরুরি।

জমি মেপে সীমানা বুঝিয়ে দেওয়া

জমি বিক্রির আগে এর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করা উচিত। এরপর একজন অভিজ্ঞ আমিন বা সার্ভেয়ার দিয়ে ম্যাপ অনুযায়ী জমি মাপিয়ে সঠিক সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজনে সীমানায় খুঁটি স্থাপন করে জমিটি ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। এতে পরবর্তী সময়ে জমির পরিমাণ বা সীমানা নিয়ে বিরোধের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ক্রেতার বিষয়ে যাচাই

বিক্রেতার উচিত সম্ভাব্য ক্রেতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া। ক্রেতা সৎ কি না এবং তিনি ওই জমি কেনার আর্থিক সক্ষমতা রাখেন কি না, তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। এতে লেনদেনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

বইটি থেকে লেখার অংশ বিশেষ। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বইটি থেকে লেখার অংশ বিশেষ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

টাকা বুঝে নিয়ে দলিলে স্বাক্ষর

জমি বিক্রির ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী অর্থ বুঝে নেওয়ার পর দলিলে স্বাক্ষর করতে হবে। অর্থ পরিশোধ ও দলিল সম্পাদনের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করে পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা উচিত।

দলিলে ভুল তথ্য দেওয়া যাবে না

জমি বিক্রির দলিলে কোনো ভুল বা অসত্য তথ্য দেওয়া উচিত নয়। জমির পরিমাণ, অবস্থান, মালিকানা ও সীমানাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে। দলিলে ভুল তথ্য থাকলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

জমি বিক্রি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও আর্থিক লেনদেন। তাই তাড়াহুড়া না করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই, জমির সীমানা নির্ধারণ এবং চুক্তির শর্তগুলো পরিষ্কারভাবে বুঝে লেনদেন সম্পন্ন করাই বিক্রেতার জন্য নিরাপদ।

লেখক পরিচিতি

মোঃ শহিদুল ইসলাম (শাহীন) জামালপুর জেলার সদর থানাধীন দাপুনিয়া গ্রামে নানার বাড়ি আতাহের আলী সাধু মাস্টারের বাড়ীতে ১৯৭১ সালে ২৬শে মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। দাদা বাজিতুল্লাহ্ সরকার টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানার মুতণ্ডী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের কর্ত্তাঁ ছিলেন। পিতা- মরহুম মোকাদ্দেছ আলী বাংলাদেশ রেলওয়েতে মেডিকেল বিভাগে ফার্মাসিষ্ট হিসেবে দেশের উত্তরাঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে চাকুরী করে গোল্ডেন হ্যান্ডসেকের মাধ্যমে অবসর গ্রহণ করেন। মাতা- মোছাঃ ফিরোজা বেওয়া।

বইটির ফ্লাপে দেওয়া লেখক পরিচিতি। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বইটির ফ্লাপে দেওয়া লেখক পরিচিতি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

তিনি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থানার রিয়াজনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানার মুতণ্ডী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। দিনাজপুর জেলার সেবাতগঞ্জ থানার সেবাতগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি, দিনাজপুর সঙ্গীত ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচ.এস.সি, জামালপুর আশেক মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বি.এ পাশ করে জামালপুর আইন কলেজে অধ্যয়ন করেন। কম্পিউটার সাইন্স ও মেডিক্যাল সাইন্সে ডিপ্লোমা অর্জন করেন। ময়নামতি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে আমিন-সার্ভেয়ার ডিপ্লোমা করেন। ধানসিঁড়ি মডেল টাউনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্লট ও ফ্ল্যাটের ব্যবসার সাথে জড়িত। জামালপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমন্বয় পরিষদ, অপরাধ সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি এবং রোগী কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য সহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি বাজিতুল্লাহ্-সাধু মাষ্টার স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক। জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন।

তার লেখা অনেক কবিতা, গল্প, নাটক দেশের বহু পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পায়। তার লেখা উপন্যাস বড় প্রেম, ফারায়েজ শিক্ষার সহজ উপায়, জমির হিসাব আইন-বাড়ী নির্মাণ ও তত্ত্বাবধান, ভূমি আইন মামলা ও রায়, কম্পিউটার শিক্ষার সহজ উপায়, সূত্রের পকেট ডায়রি, ভূমি নামজারি, দলিল লিখন পদ্ধতি ও রেজিস্ট্রেশন আইন, এফিডেবিট চুক্তিপত্র লিখন পদ্ধতি, ডিজিটাল ভূমি জরিপ, বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া আইন ও বিধি, কড়া ক্রান্তি বা ব্রিটিশ পদ্ধতি শিক্ষার সহজ উপায় এবং চেক ডিসঅনার আইন ও বিধি বই আকারে প্রকাশ করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। বিভিন্ন বিষয়ে বই লেখার বিশেষ অবদানের জন্য তাকে ছায়ানীত পদক ২০১৪ প্রদান করা হয়।