স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর অধিকার ও অংশ বণ্টনের নিয়ম

দাম্পত্য জীবনে নারীর আর্থিক অধিকার সুরক্ষায় ইসলাম যে নীতিমালা নির্ধারণ করেছে, তা অত্যন্ত সুসংহত ও স্পষ্ট। ইসলাম স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর অধিকার নিশ্চিত করেছে। কিন্তু অনেক সমাজে স্বামীর সম্পত্তি থেকে স্ত্রীকে বঞ্চিত করা হয়। তাকে অবহেলার চোখে দেখা হয়। স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি থেকে কতটুকু অংশ পাবেন, তা কীভাবে বণ্টন করা হবে—তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
উত্তরাধিকার আইন নিয়ে ইসলামে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফারায়েজ সম্পর্কে ইসলামি আইন ও বিধিবিধানসহ নানা বিষয় নিয়ে ‘ফারায়েজ আইন’ শীর্ষক একটি বই লিখেছেন গাজী শামছুর রহমান। বইটির তৃতীয় অধ্যায়ের ৩৭ নম্বর পৃষ্ঠায় স্বামীর সম্পত্তি থেকে স্ত্রী কীভাবে সম্পত্তি পান তা নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।
ইসলারি শরিয়া ও ফারায়েজ আইন অনুযায়ী, মৃত স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর অধিকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত। তবে স্বামীর উত্তরাধিকারী বা সন্তানের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে স্ত্রীর এই অংশের পরিমাণে তারতম্য ঘটে থাকে।

ফারায়েজ শাস্ত্র অনুযায়ী, মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে স্ত্রীর দুই ধরনের প্রধান অবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।
১. সন্তান বা পৌত্রাদি না থাকলে: মৃত স্বামীর কোনো পুত্র, পৌত্র বা অন্যান্য অধস্তন উত্তরাধিকারী না থাকলে, স্ত্রী স্বামীর রেখে যাওয়া মোট সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ বা চার ভাগের এক ভাগ অংশের মালিক হবেন।
২. সন্তান বা পৌত্রাদি থাকলে: মৃত স্বামীর পুত্র, পৌত্র বা অন্যান্য সন্তানাদি থাকলে (তারা এই স্ত্রীর গর্ভজাত হোক কিংবা অন্য কোনো স্ত্রীর সন্তান হোক), স্ত্রী মোট সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ বা আট ভাগের এক ভাগ অংশ পাবেন।
একাধিক স্ত্রী থাকলে অংশ বণ্টনের পদ্ধতি
মৃত স্বামীর স্ত্রী একাধিক হলেও তাদের নির্ধারিত প্রাপ্য অংশ মোট পরিমাণ থেকে বৃদ্ধি পাবে না। সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ওই এক-চতুর্থাংশ অথবা এক-অষ্টমাংশ অংশই সব স্ত্রী নিজেদের মধ্যে সমহারে বা সমান ভাগে বণ্টন করে নেবেন।

তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর ইদ্দতকালীন অধিকার
যদি কোনো দম্পতির মধ্যে তালাক সম্পন্ন হওয়ার পর স্ত্রীর ইদ্দত চলাকালে স্বামী মৃত্যুবরণ করেন, তবে ওই স্ত্রী আইনগতভাবে বঞ্চিত হবেন না। তিনি স্বামীর সম্পত্তিতে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী যথারীতি উত্তরাধিকারী বা অংশীদার হিসেবে গণ্য হবেন।
লেখক পরিচিতি
গাজী শামছুর রহমান (১৯২১-১৯৯৮) বাংলাদেশি আইনবিদ ও আইন সংস্কারক, বিচারক, ভাষাবিদ এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলায় আইনবিষয়ক গ্রন্থ রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। তিনি ১৯৮৫ সালে একুশে পদক পান। তিনি জেলা জজ ছিলেন। সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবে তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ও বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন কিছুদিন।

