জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে প্রতিকারের উপায় কী

বাংলাদেশে আদালতে বিচারাধীন মামলার একটি বড় অংশই জমিজমা সংক্রান্ত। দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের পাশাপাশি রাজস্ব বিভাগের অধীনেও জমি বিরোধের অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। অনেক সময় অন্যের কেনা জমি জোরপূর্বক দখল, জাল দলিল তৈরি কিংবা নামজারি নিয়ে জটিলতার কারণে এ ধরনের বিরোধের সৃষ্টি হয়। জমি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ দেখা দিলে আইনি প্রতিকার পাওয়ার বিভিন্ন উপায় রয়েছে।

এসব বিষয় নিয়ে ‘রেকর্ড সংশোধন মামলা ও খতিয়ানে ভুল সংশোধন পদ্ধতি’ শীর্ষক একটি বই লিখেছেন সাইফুল ইসলাম ফকির। বইটির দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৫৯ নম্বর পৃষ্ঠায় জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে প্রতিকারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।
জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ দেখা দিলে আইন অনুযায়ী তার প্রতিকার রয়েছে। সেগুলো মধ্যে রয়েছে— ফৌজদারি প্রতিকার ও রাজস্ব ও দেওয়ানি প্রতিকার।
ফৌজদারি প্রতিকার
জমি দখলকে কেন্দ্র করে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারা অনুযায়ী আইনি প্রতিকার চাওয়া যায়।
আদালত: এ সংক্রান্ত প্রতিকারের জন্য প্রথম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করতে হয়। সাধারণত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) কোর্টে এই মামলাগুলো চলে।

সময়সীমা: জমি বেদখল হয়ে গেলে কিংবা বেদখল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ার দুই মাসের মধ্যে মামলা করতে হবে।
বিচার প্রক্রিয়া: মামলা দায়েরের পর ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিপক্ষের ওপর সমন জারি করেন এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা ও প্রয়োজনে পুলিশকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে প্রকৃত দখলদার নির্ধারণ করা হয়। পুলিশের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত রায় প্রদান করেন।
সীমাবদ্ধতা: ১৪৫ ধারায় প্রতিকার চাইতে গেলে জমির স্বত্ব বা মালিকানা দাবি করা যায় না। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কেবল প্রকৃত দখলদার কে— তা নির্ধারণ করে তাৎক্ষণিক শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করা হয়।
রাজস্ব ও দেওয়ানি প্রতিকার
এছাড়া জমি সংক্রান্ত নামজারি বা রেকর্ড সংশোধনের বিরোধে অ্যাসিল্যান্ড অফিস কিংবা এডিসি রেভিনিউ-এর দপ্তরে মিস কেস বা বিবিধ মামলা করা যায়। তবে জমির চূড়ান্ত স্বত্ব ও মালিকানা দাবির জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করতে হয়।




