কম্পিউটার ডাটাবেজে নকশা-খতিয়ান, সহজ হবে ভূমির তথ্য পাওয়া

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে নকশা ও খতিয়ান কম্পিউটার ডাটাবেজে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দ্রুত নকশা ও খতিয়ান ছাপানো, প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করা, নকশা সংশোধন এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন এলাকার ভূমির তথ্য একসঙ্গে ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে। তবে নকশার শুদ্ধতা বজায় রাখা এবং ডাটাবেজ তৈরির সময় সম্পাদনার কারণে সম্ভাব্য ত্রুটি নিয়ন্ত্রণ করাকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ সম্পর্কিত বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন অমৃত বাড়ৈ। তার রচিত ‘জমা-জমি (স্বত্ব) রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি’ বইয়ের দশম অধ্যায়ে (১০১ থেকে ১০৭ নম্বর পৃষ্ঠা) ‘কম্পিউটারে নকশা ও খতিয়ান সন্নিবেশ’ শিরোনামে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

পুরোনো পদ্ধতিতে ধীরগতির নকশা ছাপানো
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। জরিপ করার সময় যে নকশা প্রস্তুত করা হয়, সেই নকশা থেকে ভ্যান ডাইক পদ্ধতিতে নকশা ছাপানো হয়ে থাকে। ভ্যান ডাইক পদ্ধতি অত্যন্ত পুরোনো পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে দৈনিক ৩০ বা ৪০টির বেশি নকশা ছাপানো যায় না।
নকশা যেকোনো প্রেসে ছাপানো যায় না, কারণ নকশার শুদ্ধতা ও গুণগত মান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। নকশার শুদ্ধতা ছাড়া একটি নকশার কোনো মূল্য নেই। তাই নকশা ছাপানোর কাজের অগ্রগতি মন্থর হলেও কেবলমাত্র ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরেই এ নকশা ছাপানো হয়।
নকশা যাতে তাড়াতাড়ি ছাপানো যায়, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে এ কাজের কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে।
নকশার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত খতিয়ান
নকশা ও খতিয়ান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটা ছাড়া অন্যটা অচল। খতিয়ানের গুরুত্ব অপরিসীম। জরিপে তৈরি করা খতিয়ান সাধারণ প্রেসে ছাপানো যায়। কিন্তু বাইরের প্রেসে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত নয়। তাই সেখানে এরূপ গুরুত্বপূর্ণ খতিয়ান ছাপানো সম্ভব হয়ে ওঠে না।
যে পরিমাণ খতিয়ান সারা দেশে প্রস্তুত হচ্ছে, সে পরিমাণ খতিয়ান ছাপানোর ক্ষমতা সেটেলমেন্ট প্রেসের নেই। ফলে প্রচুরসংখ্যক খতিয়ান এখনো ছাপার অপেক্ষায় সেটেলমেন্ট প্রেসে মজুত আছে।
এ অচলাবস্থা দূরীকরণের জন্য ছাপাখানা না বাড়িয়ে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে যাতে অল্প সময়ে অধিক খতিয়ান ছাপানো যায়, তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নকশা ও খতিয়ান যেহেতু পরস্পর সম্পর্কযুক্ত, সেহেতু দুটির সমন্বয় রক্ষা করে কম্পিউটার ডাটাবেজে সংরক্ষণ করার চেষ্টা চলছে।
এ কাজ কীভাবে করা যাবে এবং এটা করা হলে কী সুবিধা পাওয়া যাবে বা কী অসুবিধা হতে পারে, তা সংক্ষেপে নিচে বর্ণনা করা হলো।
নকশা ডিজিটাইজিং
একটি নকশা কম্পিউটারের সফটওয়্যারে প্রবিষ্ট করার একটি পদ্ধতিকে ডিজিটাইজিং বলে। নকশা কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত বিশেষ ধরনের একটি টেবিলের (টেবলেট) ওপর রেখে ওই নকশার ওপর দিয়ে মাউস চালনা করতে হয়। প্রত্যেকটি লাইনের বাঁকে বা সংযোগস্থলে মাউসের নির্দিষ্ট বাটনে চাপ দিতে হয়।
এর ফলে কম্পিউটারের ভেতরে কতিপয় সংখ্যার মাধ্যমে নকশাটি কম্পিউটারে রক্ষিত হয়। যিনি কম্পিউটার চালনা করবেন, তিনিও সংখ্যাগুলো দেখবেন না; কেবল নকশাটিই কম্পিউটারের পর্দায় দেখা যাবে।
প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংখ্যার যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ বা অন্য যেকোনো হিসাব করে একটি নকশা তৈরি করার মতো উন্নতমানের প্রোগ্রাম কম্পিউটারের ভেতরেই থাকে। এ রূপ নকশা তৈরি করার পর ওই নকশাটি সম্পাদনা করতে হয়। কারণ কোনো লাইন প্রয়োজনের তুলনায় ছোট বা বড় হতে পারে কিংবা অন্য কোনো ভুলত্রুটি থাকতে পারে।
এরূপ সম্পাদনার পর ওই কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত প্লটার দিয়ে নকশা প্লট করা যায়। এ ছাড়া আধুনিক স্বয়ংক্রিয় প্রিন্টারের সাহায্যে কম্পিউটারে রক্ষিত নকশা থেকে অনেকগুলো নকশা অত্যন্ত দ্রুত ছাপিয়ে নেওয়া যায়।
খতিয়ান ডাটাবেজ
খতিয়ানের ফরমের সমস্ত ঘরগুলো কম্পিউটারে ঢুকিয়ে রাখা যাবে। খতিয়ানের যে বিষয়গুলো কমন, অর্থাৎ খতিয়ানের যে অংশ ছাপাখানায় বারবার কম্পোজ করতে হয়, সে ক্ষেত্রে সেই তথ্য বারবার ঢোকানোর প্রয়োজন হবে না। কেবল খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম, হিস্যা, দাগ নম্বর, দাগের জমির পরিমাণ ইত্যাদি তথ্য কম্পিউটারে ঢুকাতে হবে।
মৌজার নাম, থানার নাম, জেলার নাম বা এ জাতীয় কমন তথ্য কম্পিউটারে একবার ঢুকিয়ে নিলেই হবে। উপরোক্তভাবে লক্ষ লক্ষ খতিয়ানের তথ্য কম্পিউটারে ঢুকাতে তুলনামূলকভাবে কম সময় লাগবে।
কম্পিউটারে এসব তথ্য ঢোকানোর পর যেকোনো খতিয়ানের সফট কপি কম্পিউটার স্ক্রিনে দেখা যায় এবং অতি সহজেই প্রিন্টারে ছাপিয়ে নেওয়া যায়। এমনকি খতিয়ানের অংশবিশেষও ছাপানো যায়।
কম্পিউটারে ঢোকানো তথ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য অত্যন্ত সহজে পাওয়া যায়। যদি কেউ কম্পিউটারে রক্ষিত কোনো মৌজার মোট জমির পরিমাণ, মোট ভূমির মালিকের সংখ্যা কিংবা এ জাতীয় কোনো সমন্বিত তথ্য জানতে চান, তবে তা খুব সহজেই বের করে নেওয়া যায়।
এ জাতীয় যে ধরনের তথ্য প্রয়োজন, সে ধরনের তথ্য সরবরাহ করে এমন প্রোগ্রাম তৈরি করে কম্পিউটারে ঢুকিয়ে নিতে পারলেই প্রয়োজনীয় তথ্য খুব সহজেই পাওয়া যাবে।
এ কাজ করার জন্য কম্পিউটারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক টেবিল বা সারণি তৈরি করা হয় এবং টেবিলগুলোকে লিংক করে দেওয়া হয়। এ রকম টেবিল তৈরি করার ফলে অনেক তথ্য বারবার না লিখেও কাজ উদ্ধার করে নেওয়া যায়। এসব তথ্য কম্পিউটারে প্রবিষ্ট করা হয়ে গেলে কম্পিউটারে প্রশ্ন দিলে (কোয়ারি ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমে) চটপট জবাব পাওয়া যাবে।
সমন্বিত ডাটাবেজ
নকশা ডিজিটাইজ করা হলে তা থেকে নকশা ছাপানো যায়। কিন্তু কম্পিউটারে রক্ষিত নকশা ও খতিয়ানের সমন্বয় ঘটাতে হলে নকশা ডিজিটাইজ করার পরও আরও কিছু কাজ করতে হয়।
নকশার বিভিন্ন লাইন, পলিগন, বিন্দু বা অন্য কোনো বস্তুর জন্য আইডি নম্বর প্রদান করতে হয়। নকশায় যে সমস্ত লাইন আছে, ঐ সমস্ত লাইনের রাইট-লেফট টপোলজি বিন্দু করতে হয়। এসব কাজ করার জন্য আজকাল উপযুক্ত প্রোগ্রাম থাকে।
উক্ত কাজগুলো করা হয়ে গেলে কম্পিউটারে নকশার জন্য কতিপয় টেবিল (সারণি) তৈরি করা হয়। উক্ত টেবিল এবং খতিয়ানের টেবিল লিংক করে দেওয়া যায়।
এভাবে নকশা ও খতিয়ান লিংক করে দেওয়ার পর কম্পিউটারে একটি কমান্ড দিয়ে নকশা ও খতিয়ানের তথ্য কোয়ারি করা যায়। যে ধরনের কোয়ারি করা প্রয়োজন, সে ধরনের যথেষ্ট তথ্য কম্পিউটারে ঢোকানো থাকলে অতি সহজেই কোয়ারি করে কম্পিউটার স্ক্রিনে নিয়ে আসা যায় এবং প্রয়োজনবোধে স্ক্রিনের ওই অংশটুকু প্রিন্ট বা প্লট করে নেওয়া যায়।
ফলে কোনো ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট একটি জায়গার নকশার স্কেল—নকশার স্কেলও পরিবর্তন করা যায়—এবং সংশ্লিষ্ট খতিয়ান চান, তবে তা কয়েক মিনিটের মধ্যে তৈরি করা যায়।
উপরে বর্ণিত ডাটাবেজের কাজে সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। এ কাজ সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লাগবে।
এ পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
যে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, কম্পিউটার থেকে প্লট করা নকশা বা নকশার অংশবিশেষের শুদ্ধতা কতটুকু। এর জবাবে বলা যায়, এরূপ প্লট করা অংশবিশেষ নকশা কখনোই একটি প্রকৃত নকশার বিকল্প হতে পারে না। তবে সাধারণভাবে তৈরি করা হাত নকশার চেয়ে তা উন্নতমানের হবে, এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
অর্থাৎ ডিজিটাইজ করা নকশা যদি সাধারণ প্লটারে প্লট করা হয়, তবে সে নকশার শুদ্ধতা তেমন একটা থাকে না। প্লটারের প্লটিং সিস্টেমের ত্রুটির কারণে এটি হয়ে থাকে।
কিন্তু ডিজিটাইজ করা নকশা থেকে যদি বিশেষ প্রিন্টারে নকশা ছাপানো হয়, তবে সে নকশার শুদ্ধতা গ্রহণযোগ্য সীমার বাইরে যাবে না।
ভ্যান ডাইক পদ্ধতিতে নকশা ছাপাতে গেলেও নকশার শুদ্ধতা কিছুটা হ্রাস পায় এবং নকশা ডিজিটাইজ করার সময়ও নকশার শুদ্ধতা কিছুটা হ্রাস পায়। এ দুটি পদ্ধতির তুলনা করলে বলা যায়, ডিজিটাইজ পদ্ধতিই শ্রেয়। কারণ এ দুটি পদ্ধতির শুদ্ধতার মান একই, কিন্তু ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে খুব দ্রুত ম্যাপ ছাপানো যায়।
এ ছাড়া নকশা ডিজিটাইজ করার পর কিংবা নকশা ছাপানোর পর যদি নকশায় কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়, তবে তা দ্রুত সংশোধন করে ছাপিয়ে নেওয়া যায়।
ডাটাবেজ তৈরিতে শুদ্ধতার ঝুঁকি
একটি নকশা সাধারণভাবে ডিজিটাইজ করে ছাপানো হলে যে পরিমাণ শুদ্ধতা থাকে, ওই নকশার ডাটাবেজ তৈরি করার পর তার শুদ্ধতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ, নকশার ডাটাবেজ তৈরির সময় প্রচুর সম্পাদনার কাজ করতে হয়।
এই সম্পাদনার কাজ অনেক সময় আস্তে আস্তে, একটি একটি করে করা হয়। আবার অনেক সময় একটি জেনারেল কমান্ড দিয়ে সম্পূর্ণ নকশার বিভিন্ন স্থানে সংশোধন করা যায়। এরূপ জেনারেল কমান্ড দেওয়ার ফলে প্রায় ক্ষেত্রেই এডিটিংয়ের কাজ হয়ে যায়। কিন্তু দু-একটি জায়গায় অপ্রত্যাশিত ভুলত্রুটি থেকে যায়। পরবর্তীতে অন্য উপায়ে ভুলত্রুটি খুঁজে বের করতে হয়।
ফলে সব সময় সব ভুল খুঁজে বের করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এভাবে সম্পাদনার অনেক কাজ করতে হয়। অতএব সম্পাদনার কাজ যত বেশি করা হবে, নকশার শুদ্ধতা তত বেশি হ্রাস পাবে, অর্থাৎ নকশার ত্রুটির পরিমাণ বেড়ে যাবে।
ফলে এসব কাজ করতে করতে একসময় দেখা যাবে, নকশার ত্রুটি বেড়ে গেছে। যেহেতু একটি নকশা ডাটাবেজের উপযুক্ত করতে হলে ওই নকশার যথেষ্ট পরিমাণ সম্পাদনার কাজ করতে হয়, এরূপ সম্পাদনার ফলে নকশার ত্রুটির পরিমাণ বেড়ে যায়।

ফলে এ পদ্ধতিতে ছাপানো নকশার ত্রুটির পরিমাণ ভ্যান ডাইক পদ্ধতিতে ছাপানো নকশার ত্রুটির চেয়ে বেশি হবে। সে কারণে নকশা ছাপানোর জন্য প্রাথমিকভাবে ডিজিটাইজ করা নকশা ব্যবহার করাই শ্রেয়।
তবে শুদ্ধতার বিষয়ে কিছুটা ছাড় দেওয়া হলে নকশা ও খতিয়ান ডাটাবেজ—জিআইএস বা এলআইএস—চমৎকার। এ পদ্ধতি থেকে যে সকল সুবিধা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে নিচে বর্ণনা করা হলো।
আধুনিকীকরণের সুবিধা
নকশা সংরক্ষণ
জরিপের সময় যে নকশা প্রস্তুত করা হয়, ওই নকশার মূল কপিটি টিন টুঙ্গায় বা আলমারিতে সংরক্ষণ করতে হয়। এরূপ বহুসংখ্যক নকশা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার ফলে এমন এক সময় আসে, যখন ওই নকশাগুলো আর ব্যবহার উপযোগী থাকে না।
কিন্তু ওই নকশাগুলো যদি ডিজিটাইজিংয়ের মাধ্যমে কম্পিউটারে ঢোকানো যায়, তবে তা সিডি বা টেপে দীর্ঘদিন অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করা যাবে। এসব ডিস্ক বা টেপ সংরক্ষণ করতে বেশি জায়গার প্রয়োজন হবে না।
যদি খুব ভালো পরিবেশেও এসব ডিস্ক বা টেপ সংরক্ষণ করা যায়, তবে দীর্ঘদিন পরেও ওই ডিস্ক বা টেপ থেকে সহজেই নকশা প্রস্তুত করা যাবে।
নকশা ছাপানো
ভ্যান ডাইক পদ্ধতিতে নকশা ছাপাতে অনেক শ্রম দিতে হয় এবং এ কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। ফলে নকশা ছাপাতে অনেক সময় লাগে।
কিন্তু কম্পিউটারে যদি একটি নকশা ডিজিটাইজ করা থাকে, তবে অতি অল্প সময়ে অধিক নকশা ছাপানো যায়। এরূপ নকশা ছাপানোর জন্য বিশেষ ধরনের স্বয়ংক্রিয় প্রিন্টার থাকে।
এ পদ্ধতিতে ছাপানো নকশার ত্রুটির পরিমাণ গ্রহণযোগ্যতার সীমার মধ্যে থাকবে। তাই ভ্যান ডাইক পদ্ধতিতে নকশা ছাপানো বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করলে খুব ভালো ফল পাওয়া যাবে।
নকশা রিভিশন
যদি কোনো নকশা কম্পিউটারে ডিজিটাইজ করা থাকে, তবে পরবর্তীতে ওই ডিজিটাইজ নকশার ওপর ভিত্তি করে রিভাইজ নকশা তৈরি করা যাবে।
অর্থাৎ পরবর্তী সময়ে জরিপ করতে চাইলে কম্পিউটারে রক্ষিত ডিজিটাইজ করা নকশা ব্যবহার করা সম্ভব এবং সে ক্ষেত্রে অতি অল্প সময়ে নকশা সংশোধন করা যাবে।
সঠিক তথ্য সরবরাহ
লক্ষ লক্ষ খতিয়ান ও নকশা থেকে ম্যানুয়ালি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য সঠিকভাবে খুঁজে বের করা প্রায়ই অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু কোনো থানার নকশা ও খতিয়ানের সমন্বিত ডাটাবেজ—জিআইএস বা এলআইএস—তৈরি করা হয়ে গেলে কম্পিউটার থেকে অনেক ধরনের তথ্য অতি অল্প সময়ে সংগ্রহ করা যাবে।
অর্থাৎ কম্পিউটার ডাটাবেজে যদি খতিয়ানের সকল তথ্য সঠিকভাবে এন্ট্রি দেওয়া যায়, তবে কম্পিউটার কোনো ভুল তথ্য সরবরাহ করবে না।
অতএব দেশের লক্ষ লক্ষ খতিয়ান থেকে প্রয়োজনীয় সঠিক খতিয়ান অতি অল্প সময়ে বেছে ছাপিয়ে নেওয়া যাবে। একাধিক খতিয়ান বা এক কিংবা একাধিক থানা বা জেলার অন্য কোনো তথ্য জানতে চাওয়া হলে তাও দ্রুত জানা যাবে, যদি সে ধরনের তথ্য পরিবেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়।
নকশা ও খতিয়ানের সমন্বয়
কম্পিউটারে নকশা ও খতিয়ানের সমন্বয় একটি চমৎকার বিষয়। কম্পিউটারে যতগুলো মৌজার তথ্য রাখা হোক না কেন, নির্দিষ্ট মৌজার প্রয়োজনীয় খতিয়ান ও নকশা খুব সহজেই বের করা যাবে।
এ জন্য কম্পিউটারে খতিয়ান ও নকশার জন্য আলাদা কমান্ড দিতে হবে না। একই কমান্ডে কম্পিউটারের গ্রাফিকস মনিটরে নকশা বা নকশার অংশ এবং সাধারণ মনিটরে খতিয়ানের সফট কপি দেখা যাবে। প্রয়োজনবোধে তা প্লট করে বা ছাপিয়ে নেওয়া যাবে।
কী কী ধরনের সুবিধা ও সমন্বিত ব্যবস্থা থেকে পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ওপর এবং তথ্য ইনপুটের ওপর। যদি কম্পিউটারে ভালো প্রোগ্রাম থাকে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ইনপুট দেওয়া যায়, তবে অনেক ধরনের তথ্য কম্পিউটার থেকে অল্প সময়ে সংগ্রহ করা যাবে।
নেটওয়ার্ক প্রস্তুতকরণ
প্রত্যেক মৌজার নকশা ও খতিয়ানের থানাওয়ারী তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা যাবে। সকল থানার তথ্য মিলিয়ে জেলার তথ্যও সংরক্ষণ করা যাবে।
ঠিক একইভাবে সারা দেশের সকল নকশা ও খতিয়ানের সমন্বিত তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা যাবে।
এসব তথ্যসম্বলিত কম্পিউটারের প্রত্যেক জেলায় বা থানায় নেটওয়ার্ক আকারে স্থাপন করা যাবে। প্রয়োজনবোধে কোনো মৌজার সকল নকশা ও খতিয়ান কম্পিউটারের মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যাবে।
এ ছাড়া যারা আইনশৃঙ্খলা বা জন প্রশাসনের কাজের সঙ্গে জড়িত, তারাও প্রয়োজনীয় তথ্য এরূপ নেটওয়ার্ক থেকে অল্প সময়ে সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।
লেখক পরিচিতি
অমৃত বাড়ৈ
চার্জ অফিসার, দিয়ারা সেটেলমেন্ট, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, তেজগাঁও, ঢাকা।

