স্ত্রীর সম্পত্তিতে স্বামীর অধিকার ও অংশ বণ্টনের পদ্ধতি

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত ও নির্ধারিত। স্ত্রীর ওপর স্বামীর যেমন অধিকার আছে, তেমনি স্বামীর ওপর আছে স্ত্রীর অধিকার। ইসলাম স্ত্রীর সম্পত্তিতে স্বামীর অধিকার নিশ্চিত করেছে। কিন্তু অনেক সমাজে স্ত্রীর সম্পত্তি থেকে স্বামীকে বঞ্চিত করা হয়। স্বামীকে সম্পত্তি না দিয়ে স্ত্রীর সন্তানদের দেওয়া হয়। যা ইসলাম কখনও সমর্থন করে না। কারণ, ইসলামে মৃতের সম্পত্তি কারা কারা পাবেন, তা সুনির্দিষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে। তাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তি থেকে কতটুকু অংশ পাবেন, তা কীভাবে বণ্টন করা হবে—তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
উত্তরাধিকার আইন নিয়ে ইসলামে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফারায়েজ সম্পর্কে ইসলামি আইন ও বিধিবিধানসহ নানা বিষয় নিয়ে ‘ফারায়েজ আইন’ শীর্ষক একটি বই লিখেছেন গাজী শামছুর রহমান। বইটির তৃতীয় অধ্যায়ের ৩৬ নম্বর পৃষ্ঠায় স্ত্রীর সম্পত্তি থেকে স্বীমী কীভাবে সম্পত্তি পান তা নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।
ইসলামি শরিয়া ও ফারায়েজ আইন অনুযায়ী, মৃত স্ত্রীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে স্বামী নির্ধারিত হারে সম্পত্তি পাবেন। স্ত্রীর সন্তান বা অন্যান্য অধস্তন উত্তরাধিকারীর উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ওপর নির্ভর করে স্বামীর প্রাপ্য অংশের পরিমাণে তারতম্য ঘটে।

ইসলামি ফারায়েজ অনুযায়ী, মৃত স্ত্রীর সম্পত্তিতে স্বামীর অধিকারকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন-
১. সন্তান বা উত্তরাধিকারী না থাকলে: মৃত স্ত্রীর কোনো সন্তানাদি (পুত্র, পৌত্র, কন্যা ইত্যাদি) না থাকলে, স্বামী স্ত্রীর রেখে যাওয়া মোট সম্পত্তির অর্ধাংশ বা দুই ভাগের এক ভাগ অংশ পাবেন।
২. সন্তান বা উত্তরাধিকারী থাকলে: মৃত স্ত্রীর যদি সন্তানাদি (পুত্র, পৌত্র, কন্যা ইত্যাদি) থাকে; তারা বর্তমান স্বামীর ঔরসজাত হোক বা আগের কোনো স্বামীর ঔরসজাত হোক; তবে স্বামী মোট সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ বা চার ভাগের এক ভাগ অংশ পাবেন।
তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর ইদ্দতকালীন মৃত্যুতে স্বামীর অধিকার
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাক হওয়ার পর স্ত্রীর ইদ্দতের মধ্যে স্ত্রী মারা গেলে স্বামী বঞ্চিত হবেন না। সে ক্ষেত্রেও স্বামী ফারায়েজের ওপর উল্লিখিত নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী মৃত স্ত্রীর সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হিসেবে গণ্য হবেন।
লেখক পরিচিতি
গাজী শামছুর রহমান (১৯২১-১৯৯৮) বাংলাদেশি আইনবিদ ও আইন সংস্কারক, বিচারক, ভাষাবিদ এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলায় আইনবিষয়ক গ্রন্থ রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। তিনি ১৯৮৫ সালে একুশে পদক পান। তিনি জেলা জজ ছিলেন। সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবে তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ও বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন কিছুদিন।


