logo
Advertisement

জমির রেকর্ড সংশোধন করতে আবেদনের সঙ্গে আর কী কী দিতে হয়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জমির রেকর্ড সংশোধন করতে আবেদনের সঙ্গে আর কী কী দিতে হয়
জমির রেকর্ড সংশোধন করতে ভূমি অফিসে অপেক্ষমাণ সেবা প্রার্থী। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

বাংলাদেশে জমি-জমার রেকর্ড বা খতিয়ানের ভুল সংশোধন প্রক্রিয়া সহজ করতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন জারি করা পরিপত্র ও আইনগত সংস্কারের ফলে সাধারণ ভুল সংশোধনের জন্য নাগরিকদের আর দেওয়ানি আদালতে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না। সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা অ্যাসিল্যান্ড অফিসে আবেদনের মাধ্যমেই খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধন সম্ভব যায়।

Advertisement

২০২১ সালের ২৯ জুলাই এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে ভূমি মন্ত্রণালয়। জারিকৃত ৩৪৩ নম্বর পরিপত্রে করণিক ভুল সংশোধন, আবেদন পদ্ধতি, স্বয়ংক্রিয় সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

‘জমির রেকর্ড বা খতিয়ানের ভুল সংশোধনের উপায়’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট
‘জমির রেকর্ড বা খতিয়ানের ভুল সংশোধনের উপায়’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

এসব বিষয় নিয়ে ‘রেকর্ড সংশোধন মামলা ও খতিয়ানে ভুল সংশোধন পদ্ধতি’ শীর্ষক একটি বই লিখেছেন সাইফুল ইসলাম ফকির। বইটির প্রথম অধ্যায়ের ৭৮ ও ৭৯ নম্বর পৃষ্ঠায় জমি-জমার রেকর্ড সংশোধনের নতুন পরিপত্র ও সংশোধনের জন্য কী কী নথিপত্র প্রয়োজন হয় তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

নতুন পরিপত্র অনুযায়ী— যে কেউ নামে ভুল, বাবা বা স্বামীর নামের বানানে ভুল কিংবা অংশ বা হিস্যায় গাণিতিক ভুল থাকলে সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা অ্যাসিল্যান্ড তা সংশোধন করতে পারবেন। এজন্য একটি সাদা কাগজে আবেদন লিখে তার সঙ্গে ২০ টাকার কোর্ট ফি সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অ্যাসিল্যান্ড অফিসে জমা দিতে হবে। ডিজিটাল খতিয়ান বা নামজারির ক্ষেত্রে করণিক ভুলগুলো এখন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার নিজস্ব উদ্যোগেও সংশোধন করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট আইন ও সংশোধন ব্যবস্থা

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ -এর ১৪৯(৪) ধারা অনুযায়ী ভূমি প্রশাসন বোর্ড বা ভূমি আপিল বোর্ড খতিয়ানের ভুল সংশোধনের ক্ষমতা রাখে। এছাড়া ১৯৫৫ সালের বিধিমালার ৪২(ক) ও ৪২(খ) বিধি অনুযায়ী রেকর্ড তচ্ছলতা বা জালিয়াতি সংশোধন করা যায়।

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ -এ জমি দখল, জালিয়াতি এবং রেকর্ড জালিয়াতি রোধে এ আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। জাল দলিলের মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধন করা হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

বইটি থেকে লেখার অংশ বিশেষ, পৃষ্ঠা-৭৮। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বইটি থেকে লেখার অংশ বিশেষ, পৃষ্ঠা-৭৮। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ভূমি সেবা অভিযোগ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা ২০২৬ -এ নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী নাগরিকরা অনলাইনে বা ২৪/৭ হটলাইনের মাধ্যমে ভূমি সেবা সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ বা সংশোধনের বিষয়ে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপ্রত্র

রেকর্ড সংশোধনের আবেদনের সঙ্গে সাধারণত যে সব নথি প্রয়োজন হয় সেগুলো হলো— ১. সর্বশেষ খতিয়ান (সিএস, এসএ, আরএস বা বিএস) এর সার্টিফাইড কপি। ২. মৌজা ম্যাপ বা নকশা। ৩. মূল দলিল বা পিট দলিল। ৪. হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের দাখিলা। ৫. উত্তরাধিকার সূত্রে হলে ৩ মাসের মধ্যে প্রাপ্ত ওয়ারিশ সনদ। ৬. আদালতের কোনো রায় বা ডিক্রি থাকলে তার কপি।

সময়সীমা ও সেবা প্রাপ্তি

রিভিউ আবেদন: এসিল্যান্ডের কোনো আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রিভিউ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

নিষ্পত্তির সময়: সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার পর এই প্রক্রিয়ায় সেবা পেতে বা নিষ্পত্তি হতে ৪৫ দিনের মতো সময় লাগতে পারে।

বইটি থেকে লেখার অংশ বিশেষ, পৃষ্ঠা-৭৯। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বইটি থেকে লেখার অংশ বিশেষ, পৃষ্ঠা-৭৯। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে ভূমি জরিপের পর চূড়ান্তভাবে মুদ্রিত ও প্রকাশিত খতিয়ানের করণিক ভুল, প্রতারণামূলক লিখন এবং যথার্থ ভুলের বিভিন্ন সম্ভাব্য ধরন বর্ণনা করা হয়েছে। এসব ভুল সংশোধনের পদ্ধতিও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ভূমি জরিপের পর অ্যাসিল্যান্ডরাই চূড়ান্তভাবে মুদ্রিত ও প্রকাশিত খতিয়ানের করণিক ভুল, প্রতারণামূলক লিখন এবং যথার্থ ভুল মাঠ পর্যায় সংশোধন তথা রেকর্ড সংশোধন করতে পারবেন।

লেখকের পরিচয়

সাইফুল ইসলাম ফকির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনায় এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি এলএলবি ও এলএলএম পাস করেন।

জমির রেকর্ড সংশোধন করতে আবেদনের সঙ্গে আর কী কী দিতে হয় - Asia Post