নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের বিধান কী

পরিবারের সদস্য বা নিকটাত্মীয় কেউ হারিয়ে গেলে তাকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। পরিবারের লোকটি ফিরে না আসা পর্যন্ত নানাবিধ বেদনা কাজ করে অন্যদের মাঝে। তার ফেরার অপেক্ষায় থাকেন প্রিয়জনরা। হারিয়ে যাওয়া বা নিখোঁজ ব্যক্তিটি অনেক বছর ধরে না ফিরলে তার সম্পত্তিতে অন্যদের অধিকার বা সে তার মৃত বাবা-মা বা অন্যদের সম্পত্তি পাবে কি না, এ নিয়ে মুশকিলে পড়ে যান অনেকে। সঠিক মাসয়ালা বা ইসলামি বিধি-বিধান জানা থাকলে বিষয়টির সুরাহা করতে সুবিধা হয়।
মৃত বা নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পত্তির বণ্টন নিয়ে কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফারায়েজ সম্পর্কে ইসলামি আইন ও বিধিবিধানসহ নানা বিষয় নিয়ে ‘ফারায়েজ আইন’ শীর্ষক একটি বই লিখেছেন গাজী শামছুর রহমান। বইটির চতুর্থ অধ্যায়ের ২০৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘মফকুদ বা নিরুদ্দিষ্ট ব্যক্তি’ নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।

গাজী শামছুর রহমান লিখেছেন, ‘শত চেষ্টা সত্ত্বেও যার ঠিকানা পাওয়া যায় না, ফারায়েজের পরিভাষায় তাকে ‘মফকুদ’ বলা হয়। নিখোঁজ ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে কেউ ওয়ারিস বা উত্তরাধিকার হয় না এবং সে নিজেও কোনো মৃত আত্মীয়ের ত্যাজ্য সম্পত্তিতে ওয়ারিস হয় না। তবে যদি নিরুদ্দিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর সঠিক সংবাদ পাওয়া যায়, কিংবা দীর্ঘকাল অপেক্ষার পার তার অস্তিত্বের সন্ধান না পাওয়া যায়, তবে তার সম্পত্তি জীবিত ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন করা যায়।
ঠিক কতদিন অপেক্ষা করার পর নিরুদ্দিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন করা উচিত, সে বিষয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে।
হানাফি মাজহাবের ইমামরা মানুষের বয়সের গড় ৯০ বছর ধরে বলেছেন যে, নিরুদ্দিষ্ট ব্যক্তির জন্মের ঠিক ৯০ বছর পর তাকে মৃত ধরা যায়। ওই সময়ে যেসব ওয়ারিস জীবিত থাকেন শুধু তারা ওয়ারিস গণ্য হন।
সুতরাং ৩০ বছর বয়সে নিরুদ্দেশ হয়ে থাকলে ৬০ বছর অপেক্ষা করার পর তার সম্পত্তি ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন করা যায়। এ ৬০ বছরের মধ্যে যারা মারা যাবে, তারা নিরুদ্দিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তিতে ওয়ারিস হবে না।

সম্পত্তি ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন করার পর যদি নিরুদ্দিষ্ট ব্যক্তি জীবিতাবস্থায় ফিরে আসে, তবে বণ্টন করা সম্পত্তি ওয়ারিসদের কাছে থেকে ফেরত নিয়ে তাকে দেওয়া হবে।
লেখক পরিচিতি
গাজী শামছুর রহমান (১৯২১-১৯৯৮) বাংলাদেশি আইনবিদ ও আইন সংস্কারক, বিচারক, ভাষাবিদ এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলায় আইনবিষয়ক গ্রন্থ রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। তিনি ১৯৮৫ সালে একুশে পদক পান। তিনি জেলা জজ ছিলেন। সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবে তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ও বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন কিছুদিন।