খ্রিস্টান ও বৌদ্ধদের উত্তরাধিকার আইন

দক্ষিণ এশিয়ার আইন ব্যবস্থায় ধর্মীয় পরিচয় ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনের নিজস্ব নীতিমালা ও আইনি কাঠামো গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশে খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হয়, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট আইনি বিধান ও উচ্চ আদালতের নজির রয়েছে।
পাঠকদের সুবিধার্থে খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ উত্তরাধিকার আইনের মূল দিকগুলো এবং পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সম্পত্তি বন্টনের অগ্রাধিকার ক্রম নিচে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হলো।
খ্রিস্টান উত্তরাধিকার আইন
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বন্টনের বিধান মূলত ১৯২৫ সনের ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন (১৯২৫ সনের ৩৯ নম্বর আইন) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই আইনের চতুর্থ খণ্ডের ২৪ থেকে ২৮ ধারা এবং পঞ্চম খণ্ডের ২৯ থেকে ৪৯ ধারা পর্যন্ত খ্রিস্টানদের সম্পত্তি বন্টন ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধিমালা বিশদভাবে বর্ণিত রয়েছে।
বৌদ্ধ উত্তরাধিকার আইন
ভারতে ১৯৫৬ সনের সংশোধিত হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের অধীনে বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বাংলাদেশে তা গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশের আইনি অবস্থান পরিষ্কার হয়ে ওঠে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে [দেওয়ানি আপিল নম্বর: ৪০/১৯৮৪; যা হাইকোর্ট বিভাগ, কুমিল্লা বেঞ্চের দ্বিতীয় আপিল নম্বর ২১/১৯৮৩ (তারিখ: ২০/০৬/১৯৮৩) এর রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল— করতমালা লক্ষ্মী বিহারী (আপিলকারী) বনাম হৃদয় রঞ্জন চৌধুরী গং (রেসপন্ডেন্ট)]।
উচ্চ আদালতের আপিলে বলা হয়-
Leave was granted to consider whether the Buddhists of Bangladesh are governed by the Hindu Law in matters of Succession.
এ বিষয়ে বিজ্ঞ বিচারপতি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। ৩২ ডিএলআর ১৮৭ (32 DLR 187)-এ 'অজিতানন্দ বনাম অগ্রভাংশ' মামলায় বিভাগীয় বেঞ্চ মন্তব্য করে:
In 1956 Hindu Law in India was amended and the Buddhists of India were brought within the ambit of the Hindu law. But in our country no such amendment has been made. As such it cannot be said that the Buddhists of our country are governed by Hindu law with regard to succession.
অর্থাৎ, ভারতে ১৯৫৬ সালে আইন সংশোধন করে বৌদ্ধদের হিন্দু আইনের আওতায় আনা হলেও বাংলাদেশে এমন কোনো আইনি পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে এ দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় উত্তরাধিকার ক্ষেত্রে হিন্দু আইন দ্বারা পরিচালিত হয়— এমনটি বলা যাবে না।
পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে উত্তরাধিকার গণনার ক্রম
সম্পত্তি বন্টন বা উত্তরাধিকার নির্ধারণে পারিবারিক সম্পর্কের শাখা এবং গণনার অগ্রাধিকার ক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্পর্ক গণনার সুবিধা অনুযায়ী এই ক্রমগুলোকে এভাবে ভাগ করা যায়-

(দ্রষ্টব্য: বন্ধনীর ভেতরের সংখ্যাগুলো সম্পর্ক গণনার ধারাবাহিকতা ও অগ্রাধিকারের ক্রম নির্দেশ করে।)
সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতা ও আইনি বিরোধ এড়াতে নিজ নিজ ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশের আইনের সাথে বাংলাদেশের আইনি কাঠামোর যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। পারিবারিক সম্পর্কের নির্দিষ্ট ধাপে অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিধানগুলো নাগরিক জীবনে আইনের প্রয়োগ ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
সম্পাদনা ও পরিকল্পনা
এডভোকেট এম. এম. রহমান
বি.কম (অনার্স) এম কম, এল. এল. বি

রচনায়
আনিছুর রহমান (এম. এ ঢাবি)


