logo
Advertisement

সন্তানের সম্পত্তিতে মায়ের অধিকার ও অংশ বণ্টনের পদ্ধতি

সন্তানের সম্পত্তিতে মায়ের অধিকার ও অংশ বণ্টনের পদ্ধতি
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির বণ্টন নিয়ে কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ছবি: আইস্টক

পৃথিবীতে মানুষের জন্মের ধারাবাহিকতা থাকলেও মৃত্যুর ধারাবাহিকতা নেই। মা-বাবার আগেও সন্তানের মৃত্যু হচ্ছে। সন্তানের মৃত্যু হলে তার সম্পত্তিতে মা-বাবার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু অনেক সমাজে মাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়। তাকে বাদ দিয়ে উত্তরাধিকারদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করা হয়। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে এবং সম্পত্তিতে মায়ের অধিকারের বিষয়টি জানা থাকলে তাকে প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে সুবিধা হয়।

মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির বণ্টন নিয়ে কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফারায়েজ সম্পর্কে ইসলামি আইন ও বিধিবিধানসহ নানা বিষয় নিয়ে ‘ফারায়েজ আইন’ শীর্ষক একটি বই লিখেছেন গাজী শামছুর রহমান। বইটির তৃতীয় অধ্যায়ের ৩৯-৪০ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে মায়ের তিন অবস্থা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।

ইসলামি শরিয়া ও ফারায়েজ অনুযায়ী, মা কখনও সন্তানের সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত হন না। তিনি সবসময় মৃত সন্তানের সম্পত্তির হকদার হন। তবে পরিবারে সন্তান, নাতি-নাতনি কিংবা ভাই-বোনের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে মায়ের প্রাপ্য অংশের পরিমাণে তারতম্য হয়।

‘ফারায়েজ আইন’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট
‘ফারায়েজ আইন’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ফারায়েজ শাস্ত্র অনুযায়ী, মৃত সন্তানের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মায়ের অধিকারকে তিন অবস্থায় বিন্যস্ত করা হয়েছে।

ছয় ভাগের এক ভাগ পাওয়ার অবস্থা

মৃত ব্যক্তির সন্তান (ছেলে বা মেয়ে) বা নাতি-নাতনি অথবা সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাইবোনের মধ্যে থেকে যেকোনো দুজন বা তার বেশি ভাইবোন জীবিত থাকলে, মা মৃত সন্তানের মোট সম্পত্তির ছয় ভাগের এক অংশ পাবেন।

তিন ভাগের এক ভাগ পাওয়ার অবস্থা

যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান (ছেলে বা মেয়ে) বা নাতি-নাতনি অথবা সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাইবোনের মধ্যে থেকে কমপক্ষে দুজন না থাকলে, মা মোট সম্পত্তির তিন ভাগের এক অংশ পাবেন।

উমারিইয়া সমস্যা ও অবশিষ্টাংশের এক-তৃতীয়াংশ পাওয়ার অবস্থা

যদি মৃত ব্যক্তির ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি কেউ না থাকে অথবা ভাইবোন না থাকে এবং ওয়ারিশ হিসেবে শুধু স্বামী বা স্ত্রী ও মা-বাবা থাকেন; সে ক্ষেত্রে প্রথমে স্বামী বা স্ত্রীর নির্ধারিত অংশ দেওয়া হবে। এরপর মা অবশিষ্ট সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ পাবেন।

বইটি থেকে লেখার অংশ বিশেষ, পৃষ্ঠা: ৩৯। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বইটি থেকে লেখার অংশ বিশেষ, পৃষ্ঠা: ৩৯। ছবি: এশিয়া পোস্ট

এমতাবস্থায় মৃত ব্যক্তির এক ভাই থাকলেও মা তিন ভাগের এক ভাগ পাবে। এ অবস্থায় যদি মৃত ব্যক্তির বাবা না থাকে এবং দাদা থাকে, তবে মা সম্পূর্ণ সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ পাবে।

লেখক পরিচিতি

গাজী শামছুর রহমান (১৯২১-১৯৯৮) বাংলাদেশি আইনবিদ ও আইন সংস্কারক, বিচারক, ভাষাবিদ এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলায় আইনবিষয়ক গ্রন্থ রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। তিনি ১৯৮৫ সালে একুশে পদক পান। তিনি জেলা জজ ছিলেন। সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবে তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ও বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন কিছুদিন।