logo
Advertisement

অনলাইনে জমির খতিয়ান পাওয়ার উপায়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
অনলাইনে জমির খতিয়ান পাওয়ার উপায়
অনলাইনে জমির খতিয়ান খুঁজছেন গ্রাহক। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

জমিজমার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি হলো আরএস খতিয়ান। জমি পরিমাপ বা চিহ্নিত করার জন্য এই দলিলের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তবে বহু জমি মালিককে প্রায়শই খতিয়ান হারিয়ে ফেলা কিংবা সংগ্রহ করতে না পেরে নানামুখী ভোগান্তির শিকার হতে হয়। পূর্বে এসব জটিলতা নিরসনে আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।

‘জমির রেকর্ড বা খতিয়ানের ভুল সংশোধনের উপায়’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট
‘জমির রেকর্ড বা খতিয়ানের ভুল সংশোধনের উপায়’ বইয়ের প্রচ্ছদ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

তবে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন আর সেই দীর্ঘসূত্রতা নেই। মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যেই ঘরে বসে অনলাইনে জমির আরএস খতিয়ান সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।

অনলাইনে জমির খতিয়ান পাওয়ার উপায় নিয়ে ‘রেকর্ড সংশোধন মামলা ও খতিয়ানে ভুল সংশোধন পদ্ধতি’ শীর্ষক বইতে উল্লেখ করেছেন সাইফুল ইসলাম ফকির। বইটির দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৮৫ ও ১৮৬ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখক এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

সহজ ধাপে অনলাইনে খতিয়ান খোঁজার প্রক্রিয়া

জাতীয় ভূমি-তথ্য ও সেবা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম (www.land.gov.bd), মোবাইল অ্যাপ ‘জমি’ (rsk.land.gov.bd), কিংবা drroffice.land.gov.bd -এর মাধ্যমে দেশের বা বিদেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে নাগরিকরা তাদের জমি সংক্রান্ত তথ্য দেখতে পারবেন।

অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধানের জন্য নিচের তথ্যগুলো নির্বাচন করতে হবে।

১. প্রাথমিক তথ্য: নির্ধারিত বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা বাছাই করতে হবে।

২. অনুসন্ধান ব্যবস্থা: খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, মালিকানা নাম অথবা পিতা/স্বামীর নাম দিয়ে কাঙ্ক্ষিত খতিয়ানটি সহজেই খুঁজে নেওয়া যাবে।

এছাড়া, অনলাইনে আবেদনের স্থিতি ট্র্যাকিং ও কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মনিটরিং করার আধুনিক সুবিধা যুক্ত রয়েছে।

বইটি থেকে লেখার অংশ বিশেষ, পৃষ্ঠা- ১৮৫ থেকে ১৮৬। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বইটি থেকে লেখার অংশ বিশেষ, পৃষ্ঠা- ১৮৫ থেকে ১৮৬। ছবি: এশিয়া পোস্ট

অনলাইন কপি ও সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের উপায়

অনলাইনে খতিয়ানের কপি দেখতে বা পেতে আবেদনের সময় নাগরিকের নাম, পরিচয়পত্র নম্বর (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও ফোন নম্বর প্রদান করতে হবে। এরপর মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করলেই সরাসরি অনলাইন কপি প্রিন্ট করে নেওয়া যাবে।

অফিসিয়াল বা সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদনকারীর নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র, ই-মেইল, মোবাইল নম্বর, ট্রানজেকশন আইডি এবং যোগাযোগের ঠিকানা প্রদান করতে হয়। ফি পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট জেলা অফিস থেকে সরাসরি কিংবা আবেদনকারীর ঠিকানায় নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে ডাকযোগে আরএস খতিয়ানের মূল সার্টিফায়েড কপি পৌঁছে দেওয়া হয়।

অনলাইনে দ্রুত এই সেবা পেতে ও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারেন: www.eporcha.gov.bd/khatian

ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ভূমির পরিমাপ পদ্ধতি সঠিক ও সহজ করার লক্ষ্যে ফরাসি বিজ্ঞানী এডমন্ড গান্টা ইস্পাতের শিকল আবিষ্কার করেন, যা পরবর্তীতে তার নামানুসারে ‘গান্টারের শিকল’ নামে পরিচিতি পায়। আমাদের দেশে জমি জরিপে এই পদ্ধতি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

লেখকের পরিচয়

সাইফুল ইসলাম ফকির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনায় এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি এলএলবি ও এলএলএম পাস করেন।